শ্রাব শেষ দিন..... পরম পুরুষ শ্রী রাম কৃষ্ণদেবের বিদায়ের দিন :
শ্রাব শেষ দিন, রবিবার ১৫ই আগষ্ট। পরমহদেবের মহাপ্রয়ান ১৫ আগষ্ট, তা নিয়ে ১৬ ধন্দ আছে। স্বামী প্রভানন্দ লিখেছেন, ১৬ই আগষ্ট। কিন্তু কার্ড ডেথ রেজিস্ট্রে উল্লেখ ১৫ইষ্ট। এর কারণ মধ্যরাত্রে ঘট, রাত একটার আগে পরিষ্কার নয়। ভক্তরা তখনও ভাবছেন সমাধি এবং সকাল পর্যন্ত তাঁর সমাধিভরের বুকে পিঠ ঘি মালিশ করা হচ্ছে।
কাশীপুরের অন্ত্যলিলা পর্বে সেবকের অভাব হয়নি। মধ্যে নরেন্দ্রনাথও সারাভাগে। অনেক কাজ_____এর সাথে যোগাযোগ যোগাযোগ করা, রোগীর পথ সংগ্রহ করা, হাটবাজার করা। পরবর্তী কালে স্বামী অভেদানন্দ, তখনকার কালীপ্রসাদ, কিছু বিবরণ বর্ণনা---- প্রথম আমরা তিনজন সেবা-শুশ্রুষা করি। শ্রীমা শ্রী শ্রী ঠাকুর পথ্য রন্ধন করিতেন। পরে সেবগনের সংখ্যা বাড়ায় একজন পাচক ব্রাহ্মন
সামাজিক করতে হয়। সেবক লাটু মহারাজের বর্ণনা :: লরেন ভাই, রাখাল ভাই, শরোট ভাই, শশী ভাই, বুড়ো গোপাল দাদা, ছোট গোপাল ভাই, কালী ভাই, নির্জন ভাই, বাবুরাম ভাই ---- এরা সব বাড়ি ছেড়ে রয়ে গেল। দেন যোগীন্দ্র ও তারকা। সকলের জানাই যে তা নরেন্দ্রনাথের, বিশ্বসুত্রে যায়।
ভক্ত পরিবৃত হওয়াও মূল্য নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা ছিল শ্রীরামকৃষ্ণদেবের। কেরা ছাপোষা বার এত টাকা পৌঁছানোর সুবিধা কেন? ঠাকুরের কথায় বলরাম বসু পথের খরচ দিতে রাজি। "যতদিনে দক্ষিনেশ্বরে থাকতে বোতল, আমার খাবারের খরচটা তুমি দিও।" রামবাবু আমাদের সব খরচা দিতেন। 'শ্রীম' এই চীফ বলেছেন-^-^-^- টাকাপয়সা নেই যত ভক্ত নড়েভোলা আসতে পারেন ঠাকুর হাসসাহাসি। বলতে বলতে ' ক'খানা গাড়ি আসা।' তখন ঠাকুরের রসিকতা ' মোটে এই"। খরচের বারাবারি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে যে মনকষাকষি হয়েছিল, তা পুথিকার দৃষ্টি এড়ায়নি।
করিতেছে অপব্যয় শোভা নাহি পায়,
সমান রাখতে হবে তুলিয়া খাদার।
এই হিসেব এত কথায় নরেন চটে বলো" হিসেব রাখা কেন? ঠাকুর নিজেও বলতে বলতে "গেরস্তের রক্ত জল করা অর্থ খরচ না করা। সেবকেরা যে ব্যায় কমের প্রস্তাবে খুশি হননি, তা বরুণ মহারাজ বিস্তৃত লিখেছেন। কেউ কেউ চেয়েছিলেন-তিন জনই যথেষ্ট সেবকেরা বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। সৃষ্টি নরেন্দ্রনাথের ইচ্ছায় সায় দিয়ে ঠাকুর বলেছিলেন "আমি তোরাবি যেথায়।"
নরেন্দ্রনাথ স্থিরপথ, ভিক্ষা করেই খরচপত্র চালাবেন। সেই মতো নরেন্দ্রনাথ-সহ ক্ষমতার অবাধ মহিলা শ্রীমায়ের আশিবাদ নিয়ে ভিক্ষায় বার হয়েছিলেন এবং সেই বিশ্বাসী ভিক্ষান্ন থেকে শ্রীমা তরল মন্ড তৈরি করে ঠাকুরকে পথ দেন। মনে হয়, এই মাড়োয়ারিদের সহায্য দলের কথা বলা ছিল। আপনি টাকাকড়ি নিয়ে তৈরি করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার প্রয়োজন হতে হবে। এ অবস্থার অর্থসাহায্য নরেন্দ্রনাথকে আরও একজনের কাছে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, সেখানে আরও _________________________________ পিকপাড়ার জমিদার ইন্দ্রনারণ সিংহ ও গিরিশচন্দ্র ঘোষ, সমস্ত মূল্যবোধের দায়িত্ব রাজি হয়ে উঠেছেন "আমিই সব খরচা দেবো যখন বলতে পারব না, তখন চেষ্টা করব। ।
এর মধ্যে নমো নমো পালন করে ঠাকুরের জন্মোৎসব হয়েছিল কাশীপুরে এবং বড় খবর, উপহার পাওয়া একজোড়া চটিজুতো চুড়ি। তার সাথে যে চটিজুতো আনা হয়, তা এখনও বেলুড় মেঠে পুজো হয়, তাও বরুণ মহারাজতে ভোলেননি। তিনি আরও একটি বান সংবাদদাতা:: তখন 'ঠাকুর' নামটাও বলা হয়নি, শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে "পরমহংসমশায়" বা "পরমহংসদব" বলতে।
সেবকদের দিবারাত্র সেবাকার্য সম্বন্ধে স্বামী শিবানন্দ লেখক।....... রান্না করার পাচক অনুরোধ সর্বোচ্চ হলে সেবকরাই পালা করে রাঁধত ---- ডাল ভাত চড়ি ঝোল। স্থায়ী চড়িতে ফোর্ন দেবার সময়ে গন্ধ পাওয়া ঠাকুর জিঞ্জাসা বলেন, "কি রান্না হচ্ছে তোরা? যা আমার জন্য নিয়ে আয়। সেই চড়ির শক্তি তিনি ঠিক করতে পারেন। সেবদের শরীর সম্বন্ধে শ্রীরামকৃষ্ঞের উদ্বেগ কম নয়। , তোমরা বাপূ অসময়ে-দাওয়া করো না।'
সংখ্যাটা গোড়া কথামৃতকার শ্রীম খবর পান, ঠাকুরের অসুখ খুব বড়ছে এবং তিনি রক্তবমি করছেন। "ডাবরে যায় রক্তে। অসহ্য যন্ত্রাংশে তিনি জঞ্জায়। স্বামী গম্ভীরন্দ লিখেছেন ' নরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পথের পথের পর তাঁহার নিষ্ঠীবন মিশ্রিত পথের পাত্রি হস্তে লইয়া অম্লানবদনে পান করি। ' তাঁকে করে নির্জন, শশী ( পরে রামকৃষ্ন্নন্দ) ও শরৎ (ভবিষ্যতে স্বামী সারদানন্দ) রক্ত পান করেন।
ঠাকুরের পেটের রোগের কথাও উঠতে পারে, এই রোগের দিন তাঁকে। ফাস্ট হোমিওপ্যাথি ডক্টর রাজেন্দ্রলাল দত্ত (ডাক মহেন্দ্রলাল মানুষ গুরু) শুধু ঠাকুরের চিকিৎসাই করেন, রোগীর শান্তিপূর্ণ কথা বলা কোমল চটি নিজের হাতে রামকৃষ্ণদেবকে পরিয়ে দেন। তাঁর শান্তি শ্রীরামকৃষ্ন মাসাধিক কাল ভালো ছিলেন। এক সময়ে পাশ যেমন কাশির সামনের ডক্টররাঁঠার, সুরুয়া নির্দেশে নির্দেশ। ঠাকুর বললেন " যে দোকানে কালী মূর্তি আছে, বাগান থেকে মুসলিম আনবি। কখনো তেজপাতা ও আলু মশলা দিতুম, তূলোর মতো সিদ্ধ হলে নামিয়ে নিতুম।' এই সময় শ্রীরামপুর থেকে দৈব গঠনও আনা হয়, যা সঙ করে দিয়েছিলেন "শ্রীশ্রীরাম কৃষ্ণ কথামৃত" অমৃত কথাকার মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত। হরিতার সঙ্গে জনৈক কবিরাজ যে হরিতাল স্মরন দিয়েছিলেন তাও যন্ত্র তারিত ঠাকুুর বিনা প্রতিবাদে বাধ্যতামূলক।
স্বামী প্রভানন্দ___ বরুণ মহারাজ নামে পাঠকমহলে যিনি সুপরিচিত, সমস্ত টুকিটাকি সংগ্রহ করে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অন্ত্যলীলার বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন জানুয়ারির গোড়ার দিকে নরেন্দ্রনাথ একবার বাড়ি যান এবং তাঁর মা সেই সময়ে হরিণের মাংস খাওয়ান। একই সময়ে ডাক্তারা পরমহংসেদবকে গুগলির ঝোল খেতে বলায় শ্রীমা একটু ইতস্তত করায় ঠাকুর তাঁর সহধর্মিণীকে বলেন "ছেলেরা পুকুর থেকে গুগলি এনে তৈরি করে দেবে , তুমি রান্না করে দেবে। " এক সময় খাওয়ার খুব কষ্ট ছিল। শ্রীমা বলছেন ' এক একদিন নাক দিয়ে গলা দিয়ে সুজি বেড়িয়ে পরতো, অসহ্য কষ্ট হতো। ' রোগ নিরাময়েরজন্য রামকৃষ্ণদেবের প্রায়শ্চিত্তের কথাও উঠেছিল। এক সময় তিনি বলেছিলেন " ও রামলাল, তুই দশ টাকা নিয়ে দক্ষিনেশ্বর যা, মা কালীকে নিবেদন করে বামুন টামুনদের বিলিয়ে দে।"
বরূণ মহারাজ পরমহংসেদবের অসুখ সম্বন্ধে আরও লিখেছেন *^*^^^ রোগা হয়ে দক্ষিনেশ্বর মন্দির থেকে সুচিকিত্সার জন্য ডক্টর মহেন্দ্রলাল আক্রান্ত পরামর্শে পরে, কাশীবাড়িতে 11ই ডিসেম্বর 1885 তে এসে শ্রীপুর কৃষ্ণ সেখানে 247 দিন অতিবাহিত। গত বছর জুলাই মাসে পরামর্শ পড়ে তাঁর গলরোগের উপসর্গ এবং ডক্টর বাগবাজার বলরাম বসুর বা সাতদিন এবং শ্যাপুকুর সত্তর দিন কাতর ছিলেন। দক্ষিনেশ্বর লিভ ফাইভিং কারণ শ্রীরামকৃষ্ণ দেব বিকাশ বলেছেন "ওখানকার ঘর স্যাতস্যতে। বাহ্য করবার সুবিধা নেই।"
দক্ষিনেশ্বর ছাড়ার তিন দিন আগে তিনি তাললায় ডক্টর দুর্গাচরণ বন্দোপাধ্যায়ের চেম্বারে গিয়েছিলেন। ডক্টর সম্বন্ধে ঠাকুরের নেতাদের মন্তব্য " দুর্গাচরণ ডক্টর, এ তো মাতাল, চব্বিশ ঘন্টা মদকে থাকতে, কিন্তু বেলায়, পরীক্ষা করবার সময় ভূল হবে না।"
শ্যামপুকুরে স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি নরেন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন, ঠাকুর দক্ষিনেশ্বরে ফিরে চলুন, সেখানে কালী আছেন। ঠাকুরের ইচ্ছা তাই, কিন্তু রানি রাসমনির পৌত্র ত্রৈলোক্যের অসহযোগিতা তা সম্ভব হয়নি। তাই কাশিপুর। এই উদ্যাণবতী ভক্ত ডক্টর মহিমচন্দ্র দত্ত খুঁজে পেতে মহিমাচরণ চক্রবর্তী সাহায্যে, মাসিক ভাড়া আশি টাকায়। এত টাকা ভাড়া চিন্তিত ঠাকুর প্রিয় শিষ্য সুরেন্দ্রনাথ মিত্রকে বলেছিলেন "বাড়িভাড়াটা তুমি দিও।" সুরেন্দ্রনাথ ন'মাস এই ভাড়ার জবাবদিহিতা।
মার্চ মাস মাঝামাঝি আট মাস হোমিওপ্যাথিক নির্বাচনে জয় ফল না পাওয়ার ভক্ত ডক্টর দত্ত মেড অংশগ্রহণের অধ্যক্ষ ডক্টর এম কোটসকে নিয়ে চন্দ্রা। পাল ঠাকুরের ভালনি, দেখতে যাবার পর ঠাকুরের নির্দেশে বিছানাপত্রে গঙ্গাজল আমি দিতে হবে। এক ভক্ত ( ভাই ভূপতি ) ডক্টরের বত্রিশ টাকা ভিজিট দেন। কেউ কেউ বলেন, কোটস টাকানি।
এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। ডাঃ রাজেন্দ্র দত্ত এক সময়ে ডাঃ মহেন্দ্র লোভের সাথে পরামর্শ করেন এবং ডাক্তার সরকার তার দিনলিপিতে লেখেন "আগামীকাল অপরাহ্নে তাঁকে দেখতে যান । কাঞ্চন চাই, আবার কামিনীও চাই। ডক্টর রাজেন্দ্র দত্তের পরিবার রেঁধে উল্টন। " আর শ্রীমকে ঠাকুর বলেন" ওরা কামিনী কাঞ্চন না হলে আমাকে আলোচনা না করা, আমার কি অবস্থা অবস্থা না। " 23শে মে মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত কাশীপুরে এসেছিলেন ঠাকুরকে দেখতে। ডা মহেন্দ্রলাল সরকার অনেক দিন না, ডা রাজেন্দ্র দত্তও রোজ না।
১৫ই আগষ্ট আর এগিয়ে নয়। স্বামীভানন্দ লিখেছেন, মহাপ্রস্থানের দুদিন আগে তিনি বলেন , " নরেন আমার কাছে, আমাকে আমার মনে হয়, কারণ, সবচেয়ে বড় জ্ঞানও আমার মনে হয়। "
শনিবার, ৩০শে শ্রাবন, রাখিপূর্ণিমা। দিন দিন থেকে পরিস্থিতি ভালো নয়। ঠাকুরের ক্ষত পরিস্কার করতে গিয়ে প্রবল কষ্ট মুসলিম সেবক বুড়োগোপাল তাঁর কাজ বন্ধ করায় ঠাকুর বললেন " না আপনি ধুইয়েন।" প্রকৃত আশা সকলেরদীপ স্তিমিত।
সমধির প্রত্যক্ষদর্শী স্বামী অভেদানন্দর বনধি " রবিবার , পূর্ণিমা 31শে শের মহাসমাধি লাভ করেন। সকাল 6টার সময় আমরা সকাল 6 তারিখে বসিয়া সকাল, যেমন সমাধি ভ্রমই তাঁহাঁর, তাঁহার দৃষ্টি নাসাগ্রন্থের উপর এবং স্থির করিতে করি আমরা উচ্চারণ করিম উচ্চারণে। সমবেত স্মরে ওঁকার ধ্বংস করিতে লাগালাম। সকলের মনে আশা যে, পরেই তাঁর সমধি ছিল ভঙ্গ হবে এবং শিঘ্রই তিনি চৈতনলাভ করব।
স্বামী প্রভান 15ই আগস্টের সকাল আট-টা থেকে বিস্তারিত বর্ণনা শুরু করেছেন, যখন ঠাকুর আপনি পাঞ্জি থেকে পড়তে পারেন।
"আজও বাগের বাজারের রাখাল মুখার্জি দেখাতে হবে৷ " এই ভক্তি সাহেব মানুষ, শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জির্ন শরীর ডাক্তার ডাক্তারের পরামর্শ এবং নির্দেশ দিয়েছেন, মুরগির ইউস কমান্ড ঠাকুরের শরীরে বলবেন৷ তিনি ঠাকুরকে মুরগির জুসর আচরণের জন্য পীড়িকে ঠাকুর বললেন "আপনাদের আপত্তি নেই, তবে লোকচার। ভাল কাল দেখা যাবে।"
দৃশ্যে তিনি সারদামিকে বললেন , "আসেছি? দ্যাখো আমি নীচের উত্তর দিয়েছি। জলের ভীতর অ- নেক হাঁকান।
দেখতে আরও অলুনে ভাব। শ্রীমা যে খিচুড়ি রেধেছিল তা ধরেছিল, একটা জলের কুঁজো চুরমার হয়ে গেল। বরূণ মহারাজ লিখেছেন --- উপস্থিতির সবটাই মুখের পথের পরে যায় এবং ঠাকুরের খুদা নিবৃত্তি না করেন তিনি বলেন, " পেটে হাড়ি হাতি খিচুড়ি খুদা, কিন্তু মহামায়া আপনি নিজে না৷"
![]() |
| ঠাকুরের পিতলের কমন্ডল |
লাটু মহারাজের স্মৃতিকথা --- পাখার বাতাস করছিলেন, রাত প্রায় 11টা, শ্রীরামকৃষ্ণ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তার পরেই মনে হল, কারণ তাঁর সমাধি হয়েছে। শশী মহারাজ (স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ) তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন--- মহাপ্রস্থানের পূর্বে তিনি এক গ্লাস পায়সম করে তৃপ্তি পেয়েছিলেন। পথ্যবনের পর নরেন্দ্রনাথ যখন তাঁর হাতে বুলিয়ে দিতে থাকে, তখন তিনি বারংবার নরেন কে বলেন, "অমল ছেলেদের পরীক্ষার্থী।"
বৈকুন্ঠনাথ সান্যাল তাঁর লিখিত বইয়ের শেষ বিষয়গুলি অনেক খবরাখবর ব্লাস্ট। দুঃসহ বেদনায় যখন কিছু গলাধঃকরণ প্রায়, তখন তিনি বলেছেন--- "কিন্তু এত ক্ষিদেন না, হাড়ি হাড়ি চুড়ি খাই মহামায়াকে আমার বৈশাখ আপনি। , যাহা ভারতে কেন, পরিষেবার কোনো প্রদেশ দেখা যায় না।
স্বামী অভেদানের স্মৃতির কথা " সমস্ত রাত্রি বলিয়া গেল , শ্রীশ্রী গুরুর বাহ্যঞ্জান আর ফিরিয়া আসিল না। তথন আমরা পড়লাম প্রাতকালে কিঠাকুরানিকে সংবাদ । ______ভয়পক্ষে শ্রীশ্রী ঠাকুর সহধর্মিণী শ্রীমাকে শ্রীশ্রী ভবিতারিণীর জীবন্ত মূর্তি বলিয়া মনে করি এবং শ্রীমাও শ্রীশ্রী ঠাকুরকে মা কালী বলিয়া সম্বোধন করিতেন৷
বরু মহারাজ লিখেছেন ------ ঠাকুরের অপেক্ষায় হরণ করার জন্য পরের ভোটে ডক্টর যান এবং আমার রাস্তার শনাক্ত করেন, কয়েক ডাক্তার নবীন পাল অন্যত্র রোগী দেখতে শুরু করেন। পরিচিতি শশী আবার ছুটতে থাকেন, পথ ডাক্তারের দেখা পান এবং তাকে নিয়ে ফিরলেন উদ্যাণবাতিতে। ঠাকুর তখনও বলেছিলেন " আজ আমার বড্ড ক্লাসে আছে। দুইটি পাশের পাশে জ্বলিয়া উঠছে। তিনি ঠিক কোন 15 ই আগস্ট শ্রীরামে কৃষ্ণদেবেরে এসেছিলেন , তা স্পষ্ট ধোঁয়াশায় ভরা৷ বরুণ মহারাজের , চন্দ্রলোকিত রাত ছিল। পাইকপাড়া রাজাদের কাঙ্গালি বিদায় স্বাভাবিকতারাত ধরে ধরে যাতায়াত ছিল।
![]() |
| ডক্টর মহেন্দ্রলাল সরকার। |
ডক্টর মহেন্দ্রলাল সরকারকে সকালবেলাতে খবর দেওয়া হয়েছিল। তিনি এলেন প্রায় একটার সময়, ডাফ স্ট্রিটের এক রোগিনীকে অবস্থা। তাঁর দিনলিপিতে পাওয়া যায় _____ আমি তাকে মৃত দেখলাম। রাত একটায় তাঁর দেহাবসান হয়েছে। তিনি বাম পাশ ফিরে শুকিয়ে আছেন। পদদ্বয় গোটানো, চক্ষুদ্বয় উন্মীলিত, মুখ কিঞ্চিত উন্মুক্ত। যাঁরা তখনও সমধি ভঙ্গের চেস্টা করছিলেন, তাদের ভূল ব্যবহার করার চেষ্টা করে ডক্টর সরকার- একটা ছবি নেওয়ার ব্যবস্থা করা। এবং সেই জন্য নিজের ব্যাগ থেকে টাকা বার করে। পাওয়া দুবেঙ্গল ফোটোগ্রাফি ছবি ঐতিহাসিক মূল অনেক। সেখানে উপস্থিত এবং উপস্থিত নন, সে বিষয়ে যথেষ্ট অনুসন্ধান করা হয়েছে।
বিদেশি সন্ন্যসী স্বামী স্বামী বিদ্যামানন্দের টিকা -=-=-=-
শ্রীরাম কৃষ্ণদেবের পার্থিব শরীর একটি সুসজ্জিত খাতের উপর শয়ান। কিঞ্চিত বাম দিকে কাত হওয়া। মুখমণ্ডল অতীব শীর্ণ।চ্যুনদ্বয় আর্ধনিলিত এবং বাহুদ্বয় দেহের উপর স্থাপিত। দক্ষিনপদ বামপদের উপর ন্যাস্ত। লটার উপর চন্দনের প্রলেপ এবং কনঠে মাল্যরাজি। খাটি ফুল ও মালা দিয়ে ঢাকা। খাটের চারকোণে মশারি টাঙানোর চারটি ছাতারি। পশ্চাতে কাশীপুর উদ্যাণটির কিয়দং দৃশ্যমান। বাঁ দিকে বিছনার একটা স্তূপ দেখা ঌ। সম্ভবত ঠাকুরের, রৌদ্রে দেওয়া হয়েছে। প্রায় পঞ্চাশ ভক্ত ও সুহৃদ খাটের বেশি বার আছেন।
স্বামী প্রভানন্দ অন্য চিকিত বরুণ মহারাজ আরও লিখেছেন ***** মহাশ্মানে দিন বৃষ্টিপাত কিছু বিশৃঙ্খলা পর্যায়ক্রম ছিল এবং লুট হয়েছিল, যার কারণে আজও গোপনে রয়েছে অজানা ভক্ত গৃহে। যার অর্থ মঠের "আত্মারামের কৌটা" উল্টো পাশে আজও গঠন করতে পারে শতকের পর পুরুষের চিতাভস্ম।
স্বামী বিদ্যামানন্দের লেখা থেকে আরও জানা যায় ^*^*^*
প্রায় পাঁচটার সময় তাঁর পূতদেহ থেকে আসা হয়েছিল এবং সেই সময় ফোটোগ্রাফ নেওয়া হয়েছিল। একঘন্টা পরে শ্মমানযাত্রা। চিতার উপর দেহ স্থাপন হল। ত্রলক্য সান্যাল সুন্দরৈ ভজন গাইলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। এই ত্রৈলোক্যনাথ (1840-1916) খ্যাতনামা গীতিকার ও গায়ক। ঠাকুরের প্রিয় গান "বোর্ড দেব মা পাগল করে" , "গভীর সমধিসিন্ধু অনন্ত অপার " এর রচনা। ছদ্মনামে রচিত এর 'নববৃৃন্দাবন' নাটকে নরেন্দ্রনাথ কয়েকবার করেন।
"শ্মশানযাত্রার সময়ে একখন্ড মেঘ থেকে বড় দানার বৃষ্টি ঝরে পড়লো।" দাহকার্য কতক্ষণে শেষ হয়েছিল তা নিয়েও মতভেদ আছে। কেউ বলে দু ঘন্টা, কেউ এক ঘন্টা। কাশীপুর পুলিশ তার রেজিরে খবর লিখতে গিয়েস্টার স্বামী অদ্বৈতানন্দ 19শে আগস্ট 1886। সেখানে মৃতের নাম ---- রামকৃষ্ট পরমহংস। পুরানো 52। খেলা 'প্রিচার'। কারণ--- গলায় আলসার। খবর কার্ডে --- গোপালচন্দ্র ঘোষিত, বন্ধু। ইনি পরবর্তী কাল স্বামী অদ্বৈতানন্দ।
শ্মশানে সাধকের দেহদাহ যে বন্দী ভক্তদের ইচ্ছা করি, তার ইঙ্গিত পরবর্তী কালেজির চিঠি পাওয়া যায়। চার বছর (26শে মে 1890) তিনি প্রেমদাস মিত্রকেলেছেন "ভগবান কৃষ্ণদেবের শারীরিক অবস্থার কারণে অগ্নি সমর্পন করা হয়েছিল। মহাপাপ হতে কথঞ্চিতবোধহয় মুক্ত হতে হবে"।
এই দুঃখটা যে গঙ্গাতীরে বেলুড় মঠের পথে ও 'আত্মারামের কৌটা'
(সংগৃহীত)
কাশীপুরের বাগানবাড়িতে ঠাকুর তখন জল পারছেন না, কশ বেয়ে গড়িয়ে পড়েছেন। ছেলেরা উদ্বগ্ন, উদ্বিগ্ন নরেন্দ্রনাথও। ছুটে গেল ডাক্তারের কাছে। তাঁকে ভালো ডাক্তারবাবুও ভাবে বিহ্বল----দেখো নরেন, তুমি তো জ্ঞানী। তুমি জানো এখন আর কিছু করার নেই। নতুনভাবে কোন ধ্যানধারী এসেছেন কিছু করতে না।
নরেন ডক্টর ডাক্তারবাবু, গিরিশদার দৃঢ় বিশ্বাস এই পূর্ণিমাটা ভালোই ঠাকুর উপরে উঠবেন। কতই বা পুরানো হয়েছে ঠাকুরের! মাত্র তোপাশ বছর।
ডাক্তার সরকার বললেন, তুমিও সেই বিশ্বাসে এখানে এসেছ! সত্যি নরেন, ঠাকুরের সাথে আমার রক্তের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু তাঁকে সমর্থন করে বন্ধু কি আকুলতা আমরা! বাপ ছেলের মধ্যেও এমনটা দেখা যায় না। কিন্তু বলো তো, কি নিয়ে বাঁচবে বুড়োটা? সব যে উজাড় করে মুসলিম। মন্দিরে পূজার পরে প্রসাদ হতে পারে যখন আর কিচ্ছটি পড়ে না, একটি পুষ্প, বা্বপত্রও নয়, কখনও কখনও সেই দেবালয়ের অবস্থা কি হয়?
হ্যাঁ ডক্টর বাবু, গুন্দির দোর বন্ধ করে দেওয়া হয়----শান্তির কন্ঠে উত্তর ডক্টরবাবু বললেন, বুড়োটার দোর বন্ধ করার সময় আসতে হবে। অনুগ্রহ করে তাঁর স্বরও রুদ্ধ এল।
নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করতে, সব শেষ। একটা বিল্বপত্রও পড়ে নেই। নিঃশব্দে টুকু বিলিয়ে ব্লাস।আর যেটুকু বাকি ছিল, জানো তো, আমাকে দেওয়ান।
আপনি কি সম্প্রদায় আপনাকে? বলুন না ডর বাবু, ঠাকুর আপনাকে কিক্ট রাজনৈতিক? নরেন্দ্রনাথ জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাত্রা।
ডাক্তারবাবু বললেন, আমার নম্বর! দেখো, নেত মজা করে বুড়োহা কথা বলে, শোন হে ধরিবাজ, ভেবো না আমি ঠিক বিনা পয়সা দেখছি! আমার পাওনা-গণ্ডা সব কিন্তু উশুল করে নেব তোমার ট্যাঁক থেকে।আমি হলাম করতে গিয়ে বাপাকুপুর।
আপনি কি বলেন, আমি কিছু চিন্তাবিদ ডক্টর বাবু---বিস্মিত নরেন্দ্রনাথ।
তিনি আবার শুরু করেছেন, আমিও কি কিছু বলতে চাই? তুমি তোরকে ঠাকুর আমার পাল্টা অংশ। কিন্তু তারপরে আমি যা দেখলাম, তা তো তুমি তোমার না? কৌতুহলী নরেণ তৎক্ষণাৎ জানতে চান, কি বিষয়ন আপনি?বলুন না ডক্টর বাবু কিন।
গদগদ স্বরে ডক্টর সরকার বললেন, দেখলাম এক নিরাকার ব্রহ্মজ্যোতি ব্রমলোকে বিলীনের জন্য অপেক্ষা করছে। তারপর দু'টি ঝরে পড়ে অশ্রুধারা। আর কিছু বলতে না। সদা জ্যোতির্ময় সেই পরম পুরুষ ও ব্রহ্মময়ী মাভিতারিণীর শ্রীপদপদ্মে জানাই শতকোটি চরণে। প্রণাম ডর বাবু।(শঙ্কর)
আজ ২১শে সেপ্টেম্বর। আজ সেই দিন ঠাকুরের বিশেষ, প্রথম দিন উপস্থিত হয়েছিল৷ আজও সেই ছবি অনেকের বাড়িতেই পুজো হয়। এমনিতে ঠাকুর নিজের ছবি পছন্দ করতে না। ঠাকুরের ভক্ত ব্রাহ্মনেতা কেশব সেনের গৃহ "কমল কুটির" (বর্তমান ভিক্টোরিয়া ইন্সটিউশন, ৭২, আপার সারকুলার রোড, কলকাতা)–এ কীর্ত আসরে ঠাকুর ভাবাবিষ্ট হন। ঠাকুর উত্তরাধিকার সূত্রে পড়লে তাঁকে পেছন থেকে ধরে চললে ভাগ্নে মুখোপাধ্যায়, তিনি আলোচনায় পড়ে না যান। এরূপ ব্রাহ্মভক্ত বেষ্টিত সমাধি ঠাকুরের এই ফটোটি উপস্থিত হয়। দি বেঙ্গল ফটোগ্রাফারস, ১৯/৮, বৌ বাজার স্ট্রিট, কলকাতা— এই ফটো সংস্থাই ঠাকুরের প্রতিনিধি আপনাকে তোলে। বাস্তবে ঠাকুর ঠাকুর মৃগ করতে। দেখা যায় ঠাকুরের দুই হাতের অনন্য ভঙ্গী। পরে তাঁর শিষ্য স্বামী প্রেমানন্দ এর লেখা থেকে জানা যায়, ঠাকুর এর উর্ধমুখীদান হাতের প্রকৃতপক্ষে পরমাত্মাকে এবং বাম হাত টিয় এ বিশ্ব বিশ্বের কে। এর অর্থ এগারো সবলক্ষণ স্থায়ী, পরের শেষ মিলতে হবে পরমাত্মা তে, কেউ এ ব্রহ্মান্ডের পেতে যেতে পারে।
জয় ঠাকুর জয় মা জয় স্বামীজী জয় গুরুদেব।












