Wednesday, 6 December 2023

পাগল ঠাকুরের মামাবাড়ি

 


পাগল ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মামাবাড়ি




হুগলি জেলার কামারপুকুর থেকে পূবে প্রায় ১৪ মাইল দূরে সারাটি গ্রাম। এখানেই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের মা চন্দ্রমণি দেবীর পৈতৃক বাস্তুভিটে অর্থাৎ ঠাকুরের মামাবাড়ি। এখনও এখানে রয়েছে পল্লীগ্রামের সেই শান্ত নির্জন পরিবেশ।  ১৯৯৫ সালে এই বাস্তুভিটার সাথেই স্থাপিত হয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ চন্দ্রমণি সেবাশ্রম।  কিছুটা জমি কিনে আর কিছুটা দানের মাধ্যমে সংগৃহীত এই সেবাশ্রমের আয়তন প্রায় ১০ বিঘার উপর। জমিতে রয়েছে দুটি বিরাট পুকুর। মন্দিরের পিছন দিয়ে বয়ে চলেছে এক খাল। সারা চত্বরটায় রয়েছে নানা রকম ফুল ও ফলের গাছ।  মন্দির বিল্ডিং এর পাশে এখনও তাঁর অর্থাৎ চন্দ্রমণি দেবীর মাটির ঘরটি সযত্নে রাখা আছে। মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্য যাবতীয় খরচা চলছে স্থানীয় লোকের সহযোগিতায় ও তাদের দানের উপর। তবে বর্তমান পূজারি শ্রী সুব্রত চক্রবর্তী মহাশয় জানালেন যে সম্প্রতি বেলুড় মঠ কতৃপক্ষ সেবাশ্রমটি অধিগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। 







শ্রীরামকৃষ্ণদেবের মাতুলালয়ের বংশের আদি পুরুষ ছিলেন শ্রী দাশরথি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পুত্রের নাম ছিল নন্দকিশোর ও পুত্রবধুর নাম ছিল  হরবিলাসিনী। তাঁদের তিন সন্তান ছিল।  তাঁরা হলেন চন্দ্রমণি, রাইমণি ও কৃষ্ণমোহন। এর মধ্যে খুব ছোটবেলাতেই ওলা ওঠায় মারা গিয়েছিল রাইমণি। কন্যা চন্দ্রমণির সাথে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের বিয়ে দেন নন্দকিশোর।  চন্দ্রমণি-ক্ষুদিরামের পাঁচ সন্তানের অন্যতম গদাধর ওরফে শ্রীরামকৃষ্ণ।  শ্রীরামকৃষ্ণ ছোটবেলায় এই অঞ্চলে মামাবাড়িতে এসেছেন অনেকবার এবং অনেকটা সময়ও কাটিয়েছেন।  মামা কৃষ্ণমোহন ছিলেন সদব্রাহ্মন,  শাস্ত্রঞ্জ ও পরোপকারি পুরুষ।  ১৮৪০ সাল নাগাদ তিনি সারাটি গ্রাম ছেড়ে দেওঘরের কাছে কুন্ডায়   সপরিবারে চলে যান ও সেখানে যজমানির কাজ শুরু করেন। 





চন্দ্রমণি শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে " কেষ্ট " নামে ডাকতেন। শ্রীরামকৃষ্ণদেব সাধন জীবনের শুরু থেকেই জগন্মাতাকে দেখার ব্যপারে ব্যাকুল হয়েছিলেন।  বিয়ের পর দক্ষিণেশ্বরে ফিরে গিয়ে এই ব্যকুলতা বহুগুনে বৃদ্ধি পায়। সকলে ভাবতে লাগলেন তিনি উন্মাদ হয়ে গেছেন। এই খবর কামারপুকুরে গেলে চন্দ্রমণিদেবী স্থির থাকতে পারলেন না। কেষ্টর মঙ্গল কামনায় শিব মন্দিরে হত্যে দিয়েছেন। গৃহদেবতা রঘুবীর ও শীতলা মার কাছে মানত করেছেন। আবার অন্য দিকে মায়ের জন্য শ্রীরামকৃষ্ণদেবের চিন্তার অন্ত ছিল না। মায়ের কষ্ট লাঘবের জন্য মাকে দক্ষিণেশ্বরে নিজের কাছে নিয়ে এলেন। এখানে চন্দ্রমণিদেবী জীবনের শেষ বারো-তেরো বছর কাটিয়েছিলেন।  এখানে এসে চন্দ্রমণিদেবী প্রথমে শ্রীরামকৃষ্ণ ও রামকুমারের পুত্র অক্ষয়ের সাথে কূঠিবাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকের একটি  ঘরে থাকতেন।  কিন্ত অক্ষয়ের অকাল মৃত্যুর পর তিনি গঙ্গা পারের নহবতের  দোতলায় বাস করতে থাকেন। ১৮৭১ সালে মথুরবাবুর দেহত্যাগের পরে মা সারদা এসে নহবতের একতলার ছোট ঘরে থাকতে আরম্ভ করলেন।  শ্রীরামকৃষ্ণ দেখতেন........ যে মা মন্দিরের গর্ভগৃহে আছেন, তিনিই যেন জননী ও সারদা রূপে নহবতে বাস করছেন।






"  আমার মা মূর্তিমতী সরলতাস্বরূপা ছিলেন। সংসারের কোনও বিষয় বুঝতেন না। টাকাপয়সা গুনতে জানতেন না। কারোকে কোনও বিষয় বলতে নেই, তা না জানাতে নিজের পেটের কথা সকলের কাছে বলে ফেলতেন, সেজন্য লোকে তাঁকে ‘হাউড়ো’ বলত এবং তিনি সকলকে খাওয়াতে বড় ভালবাসতেন”— নিজের গর্ভধারিণী মাকে এই ভাবেই ভক্ত-শিষ্যদের কাছে তুলে ধরেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। শ্রীরামকৃষ্ণের অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণে যখন দক্ষিণেশ্বরে ভক্তদের আগমন ঘটছে, তখন তাঁর জননী আর ইহলোকে ছিলেন না। কিন্তু বহু জনের মঙ্গলের জন্য রেখে গিয়েছিলেন পৃথিবীর এক অসীম আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন দার্শনিক এবং মানবপ্রেমী মহামানবকে।






১৮৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। রামকৃষ্ণদেব ক'দিন ধরে মা-র কাছে ঘন ঘন আসছেন। সন্ধ্যা থেকে  রাত অবধি মায়ের কাছে  ছোটবেলার গল্প করে চন্দ্রমণির মন ভরিয়ে রাখছেন। সেদিন সকালে  আটটা বেজে গেলেও চন্দ্রমণি দরজা খুলছেন না।  হৃদয়রাম  পরিচারিকার মুখে সব শুনে কৌশলে দরজা খুলে দেখলেন যে চন্দ্রমণি সংঞ্জাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। কবিরাজের কাছ থেকে ওষুধ আনা হ'ল। সেই ওষুধের সাথে দুধ আর গঙ্গাজল মিশিয়ে বিন্দু বিন্দু করে খাওয়ানো চলতে লাগলো। তিনদিন পর চন্দ্রমণির অন্তিমকাল উপস্থিত হলে তাঁকে কালীবাড়ীর বকুলতলাঘাটে অন্তর্জলি করা হলো। শ্রীরামকৃষ্ণ জননীর মুখে গঙ্গাজল দিয়ে কানে নাম শোনালেন।  পা ধুইয়ে দাদা চন্দন মাখিয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিলেন। মা এর চরনে মাথা রেখে ঠাকুর কাঁদতে কাঁদতে বললেন  " মা,  তুমি  কে গো । আমায় গর্ভে ধারণ করেছিলে , তুমিতো সাধারণ মা নও।  মা, তুমি যেমন আমায় আগে দেখাশোনা করতে, এখনও আমায় দেখো। "  পরেরদিন ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নেহের পুত্রকে পাশে রেখে চন্দ্রমণি অমৃতলোকে চলে গেলেন। দেহত্যাগের মুহূর্তে শ্রীরামকৃষ্ণ  " মা, মা " বলে কেঁদে উঠেছিলেন।  ঘটনাচক্রে সেই দিনটিও ছিল ফাল্গুন মাসের শুক্লা দ্বিতীয়, শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথি। আর সময়ও ছিল সেই উষাকাল। 






স্বামীজির কাছে শ্রীরামকৃষ্ণদেব ছিলেন    " স্পিরিচুয়াল জায়েন্ট  " , রোমাঁ রোলাঁরের কাছে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবন এক অমৃতভান্ড।  সেই আমৃতভান্ডকে যিনি গর্ভে ধারণ করেছিলেন,  তিনিও তাঁর বরেন্য পুত্রের মতোই  পূজনীয়। সেই শ্রীরামকৃষ্ণ জননী জন্মভিটে হুগলির সারাটি  গ্রাম , তারকেশ্বর থেকে প্রায় ২০ কি মি। তারকেশ্বর থেকে আরামবাগ রোড ধরে হরিণখোলায়  মুন্ডেশ্বরী নদীর ব্রীজ পেরিয়ে গেলে পাবেন কাবলে বাস ষ্টপ। সেখান থেকে ডানদিকের রাস্তা ধরে প্রায় দেড় কিমি এগুলে পাবেন  বাঁ দিকে সারাটি শনি ও কালী মন্দির।  সেখানেই আপনাকে ঢুকতে হবে বাঁ দিকে সারাটি গ্রামে যাবার জন্য। ঐ রাস্তা ধরে আর ৭০০ মিটার মতো এগোলেই দেখতে পাবেন শ্রীরামকৃষ্ণ চন্দ্রমণি সেবাশ্রম। শান্ত পরিবেশ আর নিস্তব্ধতা আপনার মনকে কতটা সতেজ করতে পারে , সেটাই বুঝতে একদিন চলে আসুন  পাগল ঠাকুরের মামাবাড়িতে। 



Saturday, 11 November 2023

বাগবাজারের কেল্লা $$ বলরাম মন্দির

 


বলরাম মন্দির ::-- রামকৃষ্ণ ভবন মঠ 


উত্তর কলকাতার বাগবাজার এলাকা। রামকৃষ্ণ এর পরমহংসদেব গৃহী ভক্তের মধ্যে বলরাম  বসু ঠাকুর রাম  দেবের সন্ন্যাসীর ভক্ত এমন অনেক ভক্ত ছিলেন যারা ছিলেন ওনার মত আজীবন ধর্মাচার করেছেন তার মধ্যে ছিলেন বলরাম বসু। প্রখ্যাত নাট্যকার গিরিশ ঘোষে র  প্রতিবেশী তিনি।

বলরাম বসুর পূর্ব পুরুষ হুগলি নিবাসী দেখতে পরে  কলকাতা ও পুরীতে  বসবাস শুরু। বলরাম বসু ছিলেন পরম বৈষ্ণব। কলকাতায় দেখতে আমার মেয়ের জন্য। পুলিভারী মহিলা পর জগন্নাথ দেবকে রোজ দেখতে পাওয়া বলোরাম বাবুকে দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু  রামকৃষ্ণ দেবকে খুঁজে বের করার জন্য তাঁর মধ্যে শঙ্খের আরাধ্য দেবকে  পান। তারপর আর কবি কলকাতা ও ঠাকুর রামকৃষ্ণকে ছেড়ে যান।

বলরাম বাবু ছিলেন জগন্নাথ দেবের পরম ভক্ত। তার কলকাতার বাড়িতেই জগন্নাথ দেব নিত্য পূজিত হন। এমনকি বাড়িতে রয়েছে রথও। স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ এই বাড়ির অন্ন গ্রহণ করেছেন,  এই বাড়ির অন্ন 'শুদ্ধ অন্ন', কারণ বলরামের বাড়িতে জগন্নাথের বাস।  শুধু জগন্নাথ নয়, সুভদ্রা-বলরাম স্বমহিমায়।




কলকাতায় বলরাম বোসের নামে একটি রাস্তা আছে, যার নাম বলরাম বোস ঘাট রোড। তাঁর পৈতৃক বাড়ি, যাকে আদর করে বলরাম মন্দির বলা হয়, এখন রামকৃষ্ণ মিশনের মালিকানাধীন । তার পৈতৃক বাড়িটির নাম এখন বলরাম মন্দির। এখানেই রামকৃষ্ণ মিশন অ্যাসোসিয়েশনের জন্ম হয়েছিল- স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর মাস্টারের নামে অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য 1 মে 1897 তারিখে ঐতিহাসিক সভা করেছিলেন।  স্বামী বিবেকানন্দ , স্বামী ব্রহ্মানন্দ , স্বামী তুরিয়ানন্দ , স্বামী প্রেমানন্দ , স্বামী অখণ্ডানন্দ এবং স্বামী অদ্ভূতানন্দ সহ শ্রীরামকৃষ্ণের অনেক প্রত্যক্ষ শিষ্য বলরাম মন্দিরে থেকেছিলেন। পবিত্র মা শ্রী সারদা দেবীও বলরাম মন্দিরে অবস্থান করেছিলেন। মন্দিরের অভ্যন্তরে ভগবান জগন্নাথকে উৎসর্গ করা একটি ছোট মন্দির রয়েছে । এখানে ভগবান জগন্নাথের রথও রয়েছে যা শ্রী রামকৃষ্ণ রথযাত্রা (কার উৎসব) দিনে টেনে নিয়েছিলেন।  গদাধর আশ্রম , বর্তমানে রামকৃষ্ণ মিশনের অধীনে, কলকাতার ভবানীপুর এলাকায়, তার এক নাতির স্মরণে শুরু হয়েছিল। 




যে ঘরে রামকৃষ্ণ পরমহংস তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে দেখা করতেন, সেটি এখন ঠাকুরঘর। সারদা দেবী যে ঘরে বাস করতেন, সেই ঘরটিতে একটি সিংহাসনে সারদা দেবীর ফটোগ্রাফ রেখে পূজা করা হয়। বলরাম মন্দিরে আরও একটি ঠাকুরঘর আছে। এখানে বলরাম বসুদের পারিবারিক গৃহদেবতা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পূজা হয়। বলরাম মন্দিরের বারান্দায় একটি কাঠের ছোটো রথ রক্ষিত আছে। এই রথে বলরাম মন্দিরে রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়। উক্ত রথটি রামকৃষ্ণ পরমহংসও টেনেছিলেন বলে জানা যায়।

১৮৮৪ সালের ৪ জুলাই উল্টোরথের দিন এখানেই রথ টেনেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। পরের বছর ১৪ জুলাইও এখানেই রথ টানেন তিনি। তাঁর গৃহী ভক্তদের মধ্যে অন্যতম বলরাম বসু এখানেই রথযাত্রার আয়োজন করতেন। বারান্দায় রথ টানা হত। আজও তেমনই হয়। রথযাত্রা উপলক্ষে অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন।

ভক্তদের নিয়ে বলরাম বসুর বাড়ির রথ টেনেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ। পরের বছর রথের দিন আবার আসেন ঠাকুর। রথের রশিতে টান দিয়েছিলেন। কয়েকটি শতাব্দী চলে গেলেও ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের টানা সেই ছোট্ট রথটি আজও রথযাত্রার দিন আলাদা গুরুত্ব পায় অগনিত ভক্তদের হৃদয়ে। ঠাকুর দেহ রাখার পর বলরাম বসুর নির্দেশে ১৮৮৬-র ১৬ আগস্টের পর থেকে এই ছোট্ট রথে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার সঙ্গে পূজিত হন ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। এই বলরাম বসুর বাড়ির মধ্যেই ঘোরানো হত।


তবে  ঠাকুর দেহ রাখার পর বলরাম মন্দিরের জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মাসির বাড়ি হল রামকৃষ্ণদেব বাড়ি। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঠাকুর তিনমাস বাগবাজারের যে বাড়িতে ছিলেন সেই বাড়িটি বর্তমানে একটি মন্দির। সেই মন্দিরটি বর্তমানে বলরাম মন্দিরের জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি বলে বিবেচিত হয়।


ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব দেহ রাখার চার বছর পর ইহলোক ছেড়ে পরলোকে যান বলরাম বসু । কথিত আছে ১৮৯০ সালে ১৩ এপ্রিল স্বামীর মৃত্যুশয্যায় বলরাম বসুর স্ত্রী কৃষ্ণাভাবিনী দেবী অন্দরমহল থেকে দেখতে পান রামকৃষ্ণদেব একটি রথ নিয়ে তাদের বাড়ির ছাদে নামেন। তারপর সেই রথে শিষ্য বলরাম বসুকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপরই বলরাম ভবনের নাম বদলে নামকরণ করা হয় বলরাম মন্দির। 


ভারতীয় সাধনার মূলমন্ত্র সর্বজনে সেবা

 

সাধারণত: বই পড়া বা বিভিন্ন ডিগ্রি সংগ্রহ আমাদের তাত্ত্বিক ঞ্জান বৃদ্ধি করে। কিন্ত ধর্মের সঠিক মর্ম বুঝতে হলে চাই একাগ্রতা ও পবিত্রতা। ১৮৯৩ সালে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ববাসীকে শোনালেন  যে "সব ধর্মই মানুষকে নানা পথ দিয়ে এক ঈশ্বরের কাছেই নিয়ে যাচ্ছে।" ভারতীয় দর্শনের কথা প্রচার করলেন ভারতের বাইরে। কিন্ত এই ভারতীয় ঐতিহ্যের মূল শিকড় তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের মধ্যে। স্বামীজি বলেছিলেন তিনি একজনের পদতলে শিক্ষালাভ করছেন,  যাঁর সারা জীবনটাই হয়ে উঠেছিল নানা ধর্মের সম্মেলন।  যৌবনের দোড়গোড়ায় কামারপুকুর থেকে এসে নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেন দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে ভবতারিণীর পূজোতে। রানী রাসমনি প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে তিনি তিরিশ বছরের থেকেও বেশী ছিলেন। ইংরেজ শাসিত ভারতের রাজধানী তখন কলকাতা। পাশ্চাত্যের ভাবধারার আগমনে নতুন চিন্তার জোয়ার বইছে সেখানে। কিন্ত আশ্চর্যের বিষয়, প্রাচীন পূজা অর্চনাকে কুসংস্কার ভেবে প্রায় বর্জন করতে চলেছে যে শহর , তারই অনতিদূরে নীরবে সাধনার ডুবে গেলেন শ্রীরামকৃষ্ণ।  প্রতিমাকে অবলম্বন করেই মানুষ ক্রমে অনন্ত ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে পারে , এই সত্যটা অনুভব করলেন তিনি । হিন্দুধর্মের সাধনার শেষে ইসলামি, সুফি মত ও খ্রিস্টান সাধনার সম্পন্ন করলেন তিনি। শ্রীরামকৃষ্ণ সেগুলিকেই অবলম্বন করেই, নানা ধর্মমতের সর্বোচ্চ সোপানে গিয়ে পৌচ্ছালেন। 


শ্রীরামকৃষ্ণ,  সারদাদেবী ও বিবেকানন্দকে পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের তিন স্তম্ভ বলা যেতে পারে। সারা জীবন ধরে ধর্মজীবনের তত্ত্বগুলিকে নিজ জীবনে বাস্তব করে তুললেন শ্রীরামকৃষ্ণ,  সেই তত্ত্বগুলিকে আধুনিক ভাষায় ব্যাখ্যা করলেন স্বামী বিবেকানন্দ,  আর মা সারদা সংসারে বাস করেও, পবিত্রতা ও নিঃস্বার্থতার বাস্তবায়ন দেখালেন। 




১৮৮২ থেকে শুরু করে ১৮৮৬ সাল অর্থাৎ তাঁর দেহান্তের বছর পর্যন্ত শ্রীরামকৃষ্ণের বিভিন্ন দিনের কথোপকথন সঙ্কলন করে রচিত হয়েছিল শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত।  প্রায়  দিনপঞ্জীর ঢঙে লেখা এই  বইটিতে শ্রীরামকৃষ্ণ যেন জীবন্ত হয়ে রয়েছেন। তার সাথে তদানীন্তন বঙ্গ বঙ্গসমাজের চিত্র প্রতিফলিত হয় এই বইটিতে। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর সাধনার শেষে অস্থির হয়ে পরেছিলেন তাঁর কষ্টসাধ্য সাধনার নির্যাস অপরকে জানাতে। এ ব্যাপারে তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।  সেই আহ্বানে সারা দিয়ে সেই যুগে নানান মানুষ মিলিত হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে, আর অজান্তেই রচিত হয়েছিল এক ইতিহাস। সেই নিঃস্বার্থ আহ্বান প্রতিধ্বনি হয়েছিল বিশ্বজননীরও মনে। তাঁর কাছেও উপস্থিত হয়েছিল তদানীন্তন নব্যশিক্ষিত বাঙালিরা। এমনকি স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষ উইলিয়াম হেষ্টি তাঁর ক্লাসে কবিতা পড়াতে গিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের মনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। 

তেজীয়ান যুবক নরেন্দ্রনাথ তখন যাতায়াত করতেন ব্রাহ্ম সমাজে। প্রায়ই যোগ দিতেন তাদের সমবেত উপাসনায়। তিনিও সঙ্গীত পরিবেশন করতেন সমাজের অধিবেশনে। আর ব্রাহ্ম সমাজের নেতারাও যাতায়াত করতেন শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে। নরেন্দ্রনাথ পরিচিত ছিলেন এদের সকলের সঙ্গেই।  কিন্ত নিজের এক ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের কারনে নরেন্দ্রনাথকে শ্রীরামকৃষ্ণের আরও কাছে নিয়ে আসে। আইনজীবী বাবার মৃত্যুতে সংসারের ভয়াবহ চেহারা তাঁর কাছে প্রকট হয়ে ওঠে। এর আগে তো নরেন্দ্রনাথ শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে গিয়েছেন নানা ধরনের দার্শনিক প্রশ্নের সমাধানের জন্য।  কিন্ত এখন তিনি এক চাকরির সন্তানরা বিপন্ন যুবক। বেকারত্বের শৃঙ্খল তাঁর স্বপ্নকে চুরমার করে দিতে চলেছে। 

জীবনের এই কঠিন সময়েও নরেন্দ্রনাথ নিজের স্বার্থ চিন্তা করতে পারেনি। প্রচন্ড বিপদ মানুষের ভিতরের শক্তিকে প্রকাশ করে। শ্রীরামকৃষ্ণের অনুপ্ররনায় জ্ঞান,  বিবেক ও বৈরাগ্যই কেবল চাইতে পারলেন ভবতারিণীর কাছে.......আর্থিক স্মৃতিচারণ পারলেন না । এমনকি যোগ যোগশাস্ত্রের সবচেয়ে বড়ো উপলব্ধি " নির্বিকল্প সমাধি " চাইতে গেলে শ্রীরামকৃষ্ণ তাকে "স্বর্থপর" বলে তিরস্কার করলেন। আর বললেন  " তোকে তো বিশাল বটবৃক্ষের মতো হতে হবে, আর কত মানুষের প্রান জুড়াবে তাঁর ছায়ায় বসে।"



প্রচলিত বৈষ্ঞবধর্ম মানুষকে " জীবে দয়া " করতে শেখায়।  কিন্ত  শ্রীরামকৃষ্ণ "জীব"কে  দয়া করার চেয়ে , আরও উঁচু আদর্শের কথা শোনালেন...... " শিব ঞ্জানে জীব সেবা "।  বললেন যে, মন্দিরে মসজিদে যদি ভগবানের আরাধনা হয়, জীবন্ত মানুষে তা নিশ্চয়ই হতে পারবে। মথুরবাবুর সাথে বেনারস যাবার পথে তিনি নিজেও দেওঘরের দরিদ্র সাওতালদের মধ্যে অন্নবস্ত্র বিলিয়ে দিলেন। পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ এই শিক্ষাকে বাস্তবায়িত করতেই প্রতিষ্ঠা করেন  রামকৃষ্ণ মিশন।  শিব ঞ্জানে জীব সেবার এই আদর্শ  যেন হিমালয় থেকে  নেমে আসা ভাগীরথীর মতো প্রবাহিত হল, বহু তাপিত মানুষকে জাগিয়ে তুললো এক নতুন সেবাদর্শে।

Friday, 21 July 2023

$$ সোমসার রামকৃষ্ণ মিশন, বাকুড়া $$

 


বাঁকুড়া জেলার দামোদর নদীর তীরে অবস্থিত শান্ত,  শান্তিপূর্ণ  ও মার্জিত এক গ্রাম , নাম তার  সোমসার।  গ্রামের দেবতা সোমেশ্বর শিব। তাঁরই নাম অনুসারে গ্রামের নাম সোমসার।  স্বামী ভূতেশানন্দজী মহারাজ এই সোমসার গ্রামেই ৮ই সেপ্টেম্বর ১৯০১ সালে (২৩শে ভাদ্র ১৩০৮) রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় জন্ম গ্রহণ করেন। সেদিন ছিল কৃষ্ণা একাদশী তিথি। জ্যোতিষীরা এই শিশুর নিয়তি নির্ধারণে বললেন ......... ইনি একজন মহান আধ্যাত্মিক নেতা হবেন।  পরবর্তীকালে তাঁর শিক্ষা, বিশাল হৃদয় এবং মহান আধ্যাত্মিক সম্পদের মাধ্যমেই লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় ও আত্মাকে জয় করে জ্যোতিষীর ভবিষ্যত বাণী সঠিক প্রমানিত করে ছিলেন।  

ঐ দূরে রামকৃষ্ণ মিশন, সোমসার 

আশ্রম মন্দিরের সামনের দিক


ভূতেশানন্দজী মহারাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সঙগ্রহশালা 

ভূতেশানন্দ মহারাজের পূর্ব নাম ছিল বিজয় চন্দ্র রায়। তাঁর পিতা ছিলেন পূর্ণ চন্দ্র রায় ও মাতা ছিলেন চারুবালা দেবী। যদিও এই রায় পরিবারের জন্ম এই গ্রামে বলা হয়, কিন্ত তা ঠিক নয়। উত্তরবঙ্গের গৌড়ের "গৌতম" বংশের একটি সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের বংশধর " রায় পরিবার "। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গ্রামবাসীদের বিশেষ অনুরোধে ও আমন্ত্রণে এই  রায় পরিবার সোমসার গ্রামে আসেন। সেইসময় গ্রামে কোনো ব্রাহ্মণ পরিবার  ছিল না। তাই গ্রামবাসীরা চেয়েছিলেন একটি ব্রাহ্মণ পরিবার সেখানে বসতি স্থাপন করুক তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় চাহিদা মেটানোর জন্য।  প্রথম আসেন গদাধর রায়। পূর্ণ চন্দ্র রায় ছিলেন গদাধর রায়ের পঞ্চম প্রজন্ম।  পূর্ণ চন্দ্র ছিলেন একজন ধার্মিক ও সৎ মানুষ।  আর চারুবালা দেবী ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক। 

মহারাজদের পারিবারিক " বুড়ো শিব "

বুড়ো শিবের মন্দির 



দামোদর নদী

দামোদর নদীর ওপর দিক


সংগ্রহশালার ভিতরে

সংগ্রহশালার ভিতরে ভূতেশানন্দজীর ফটৌ

১৯৯৮ সালে স্বামী ভূতেশানন্দজীর উদ্যোগে কয়েকজন ভক্ত তাদের গুরুর জন্মস্থান সোমসারে যেতে শুরু করেন। তখন গ্রামে যাওয়ার একটি মাত্র কর্দমাক্ত রাস্তা ছিল।  সত্যিই তখন গ্রামের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর ছিল।  মহারাজদের পারিবারিক " বুড়ো শিবের " মন্দিরটি জরাজীর্ন অবস্থায় ছিল।  তাঁরা এসে গ্রামের উন্নয়নের কাজে হাত দেন। তখন রায় পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে মন্দির ও আশ্রমের জন্য তাদের জমি দান করেন।  গ্রামে ভক্তদের ঢল নামতে থাকে। কিন্ত যাতায়াতের ভালো রাস্তা বা পূজো করবার কোনো মন্দির বা ভক্তদের কিছুক্ষণ বসে  বিশ্রাম  নেওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। এই রকম পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার জন্য গ্রামের লোকেরা বা ভক্তরা একটি মন্দির গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।  সেই চাহিদার ফল স্বরূপ ১৯৯৮ সালে স্নান যাত্রার শুভদিনে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ঐ বছরের ৪ই ডিসেম্বর মন্দিরের উদ্বোধন করেন  তৎকালীন সহাধক্ষ্য শ্রীমৎ স্বামী গহনানন্দ মহারাজ। পরবর্তীকালে আশ্রমের বর্তমান মন্দিরের ভিত্তিস্থাপন হয় এবং ২০১৫ সালে ১৫ই ডিসেম্বর সেই মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন তৎকালীন সহাধক্ষ্য শ্রীমৎ স্বামী স্মরনানন্দজী মহারাজ।  ২০২১ সালের ১৮ই নভেম্বর এই কেন্দ্রটি বেলুড় মঠের শাখাকেন্দ্ররুপে স্বীকৃতি লাভ করে এবং তার নাম হয় " রামকৃষ্ণ মিশন,  সোমসার  "।

সোমেশ্বর শিব 



সোমেশ্বর শিব মন্দির 


সমগ্র রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ আন্দোলনের এটি ছিল একটি অতুলনীয় ঘটনা। এত ভিক্ষু, সন্ন্যাসী এবং ভক্তদের সমাবেশ---- সবকিছুই যেন এক নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছিল। শুধুমাত্র ভূতেশানন্দজী মহারাজের আকর্ষণে এই সমস্ত জিনিসগুলো সফলভাবে সম্পাদিত হয়েছিল।  এই  শ্রীরামকৃষ্ণ সেবা মন্দিরের উদ্বোধনের মাধ্যমে সোমসার গ্রাম আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে ------ গ্রামের শুরুতেই স্বাগত তোরন স্থাপন,  নতুন স্কুল ভবন,  গেস্ট হাউস আর গ্রামে আসার  নতুন বাধানো পথ দিয়ে। গ্রামের যুবক যুবতীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির এবং আত্ম-কর্মসংস্থান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয় যাতে অনেকে তাদের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। এই আশ্রমের পরিচালনায় রয়েছে একটি হোমিওপ্যাথি ডিসপেনসারি। এছাড়াও এখানে মাঝে মাঝে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধি চিকিৎসা করা হয়। রয়েছে একটি ফ্রী কোচিং সেন্টার।  প্রতিবছর দরিদ্রদের শাড়ি ও কম্বল বিতরণের মাধ্যমে কল্যাণ মূলক কাজ করা হয়। এছাড়া ধর্মীয় কার্যকলাপ সারা বছর ধরে লেগেই রয়েছে।

আশ্রমের ভিতরে বাগান 




সোমসার শ্রীরামকৃষ্ণ সেবা মন্দিরকে কেন্দ্র করে গ্রামে এক নির্মল ও অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ তৈরী হয়েছে। শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে দেওয়া প্রতিদিনের পূজো ছাড়াও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম তিথিপূজা, হোম ও ভোগ দেওয়া পালিত হয় বেলুড় দ্বারা নির্ধারিত নির্দেশিকা  অনুসারে। এছাড়াও দোলযাত্রা, দূর্গাপুজা, জন্মাষ্টমী,  বাংলা নববর্ষ ইত্যাদি বিশেষ অনুষ্ঠানে ভক্তদের বিশাল সমাবেশ হয় এবং প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থাও থাকে। ৪ই ডিসেম্বর সেবা মন্দিরের উদ্বোধন দিবস হওয়ায় সকালের শোভাযাত্রা, নৃত্যনাট্য এবং ধর্মীয় সমাবেশের সাথে বিশেষ পূজা এবং আনুষ্ঠানিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।




আশ্রমের ভিতরে ফলক


আজ সোমসার শ্রীরামকৃষ্ণ সেবা মন্দির হ'ল একটি আশ্রম কেন্দ্র _____ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন_____ বেলুড় পরিচালিত ভাব প্রচার পরিষদের সদস্য প্রতিষ্ঠান যা কিনা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের আদর্শের পথ অনুসরণ করে চলেছে। 

আশ্রমে যাওয়ার পথ নির্দেশিকা



দূরে দেখা যায় মন্দির 


ভক্তদের জন্য আশ্রম প্রাঙ্গণে একটি গেস্ট হাউস তৈরী করা হয়েছে। যাঁরা আধ্যাত্মিক বিশ্রাম উপভোগ করতে চান বা শান্ত পরিবেশে দু এক দিন কাটাতে চান, তাঁরা এখানে এসে থাকতে পারেন।  তবে আগে থেকে চিঠি দিয়ে ঘর বুক করতে হবে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা শীতকালে দু-তিন মাস আগে থেকে চিঠি লিখতে হবে। যোগাযোগের E-MAIL ADDRESS :: somsar@rkmm.org.  এছাড়া দৈনিক দুপুরে ভোগ প্রসাদ পেতে পারেন।  তবে অন্তত আসার একদিন আগে  এই নাম্বার টেলিফোনে জানাতে হবে----- 7044536630 বা 9732077647 ।  এখানে আসতে হলে ----- (i) যদি ট্রেনে আসেন তবে বর্ধমানে আসুন। সেখান থেকে বাঁকুড়া যাবার বাসে চেপে খন্ডঘোষ চেকপোষ্ট বাস ষ্টপেজে নামুন। সেখানে আশ্রমের একটি তোড়ন আছে। সেই রাস্তায় দেড় কিলোমিটার এগোলেই রামকৃষ্ণ মিশন পেয়ে যাবেন।  টোটো বা অটো আপনাকে নিয়ে যাবার জন্য দাড়িয়ে আছে। এছাড়া বর্ধমান ষ্টেশন থেকে গাড়ী ভাড়া করে সোজাসুজি এখানে আসতে পারেন। আর যারা ---- (ii) গাড়ি নিয়ে আসবেন,  তারা দুর্গাপুর রোড দিয়ে এসে বর্ধমানে না ঢুকে বাঁ দিকের বাঁকুড়া-বর্ধমান রোড ধরুন। সেই রাস্তা ধরে বাঁকুড়ার দিকে খন্ডঘোষ চেকপোষ্টে এসে তোড়নের দিকের রাস্তা অর্থাৎ সোমসার রোড ধরে আশ্রমে চলে আসুন।