Friday, 13 November 2020

কুমারী পূজা ও বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দ

 

কুমারী পুজো ও বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দ  ^*^*^*^*^*^




সেকালের মুনিৠষিরা কুমারী পুজোর মাধ্যমে প্রকৃতিকে পুজো করতেন।  প্রকৃতি মানে নারী।সেই প্রকৃতিরই আরেক রূপ , কুমারীদের মধ্যে দেখতে পেতেন তারা। তারা বিশ্বাস করতেন মানুষের মধ্যেই রয়েছে ঈশ্বরের অযুত প্রভাব। কারন মানুষ চৈতন্য যুক্ত।  আর যাদের সত্ মন কলুযতামুক্ত , তাদের মধ্যে আবার ঈশ্বরের প্রকাশ বেশি। কুমারীদের মধ্যে এই গুনগুলি থাকে মনে করেই তাদের বেছে নেওয়া হ্য় এই পুজোর দেবী হিসেবে।

কুমারী পুজোর প্রচলন মহাভারতীয় যুগ থেকে শুরু করে আজও ভারতের নানা প্রান্তের মঠমণ্দিরে   এমণকি কামাখ্যা ও নেপালেও এই পুজো হয়ে আসছে মহাসমারোহে।  মহাভারতে অর্জুনের ভদ্রকালীর বন্দনার কথা যেমন আছে , তেমনই উল্লেখ আছে কুমারী পুজোর কথা। এদেশে মন্দির নির্মাণ করে দেবী পার্বতীকে কুমারী মূর্তিতে পুজোর প্রচলন সম্ভবত দক্ষিণ ভারতের কন্যাকুমারীতে। আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে সাগরতীরে এখানে বসেই দেবীদর্শনে ভাবাবেশে চোখের জলে বুক ভাসিয়েছিলেন শচীনন্দন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য। তান্ত্রিক মতবাদের প্রতিফলন বলে সমস্ত শক্তিপীঠেই কুমারী পুজো করা হুয়। তবে দেবীতীর্থ কামাখ্যাতে তীর্থযাত্রীরা প্রতিদিনই  কুমারী পুজো করে থাকেন।  বৃহদ্ধর্ম পুরাণের কথায় , দেবী অম্বিকা কুমারী কন্যারুপে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবতাদের সামনে, নির্দেশ দিয়েছিলেন বেলগাছে দেবীর বোধন করতে। দেবীকে কুমারী নামে অভিহিত করা হ্য়েছে তৈত্তিরীয় আরণ্যকে। একমাত্র কন্যাকুমারীর মন্দিরে দেবীনামের ঐতিহ্য বহন করছে কুমারী প্রতিমার পুজো করে। 




 কুমারী পূজা হলো তন্ত্রশাস্ত্রমতে অনধিক ষোলো বছরের অরজঃস্বলা কুমারী মেয়ের পূজা। বিশেষত দুর্গাপূজার অঙ্গরূপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও কালীপূজাজগদ্ধাত্রীপূজা এবং অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে এবং কামাখ্যাদি শক্তিক্ষেত্রেও কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে।


পৌরাণিক উপাখ্যান

শাস্ত্রমতে কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে থেকে। গল্পে বর্ণিত রয়েছে, কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিযে় দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।



বর্ণনানুসারে কুমারী পূজায় কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যে-কোন কুমারীই পূজনীয়, এমনকি বেশ্যাকুলজাত কুমারীও। তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত। এক্ষেত্রে এক থেকে ষোলো বছর বয়সী যে কোনো কুমারী মেযে়র পূজা করা যায়। বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে এই সকল কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।

  • এক বছরের কন্যা — সন্ধ্যা
  • দুই বছরের কন্যা — সরস্বতী
  • তিন বছরের কন্যা — ত্রিধামূর্তি
  • চার বছরের কন্যা — কালিকা
  • পাঁচ বছরের কন্যা — সুভগা
  • ছয় বছরের কন্যা — উমা
  • সাত বছরের কন্যা — মালিনী
  • আট বছরের কন্যা — কুষ্ঠিকা
  • নয় বছরের কন্যা — কালসন্দর্ভা
  • দশ বছরের কন্যা — অপরাজিতা
  • এগারো বছরের কন্যা — রূদ্রাণী
  • বারো বছরের কন্যা — ভৈরবী
  • তেরো বছরের কন্যা — মহালপ্তী
  • চৌদ্দ বছরের কন্যা — পীঠনাযি়কা
  • পনেরো বছরের কন্যা — ক্ষেত্রজ্ঞা
  • ষোলো বছরের কন্যা — অন্নদা বা অম্বিকা

দার্শনিক তত্ত্বম্পাদনা

কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত্ব হলো নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। বিশব ব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া সাধিত হচ্ছে, সেই ত্রিবিধ শক্তিই বীজাকারে কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজাবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়। এ সাধনপদ্ধতিতে সাধকের নিকট বিশ্বজননী কুমারী নারীমূর্তির রূপ ধারণ করে; তাই তার নিকট নারী ভোগ্যা নয়, পূজ্যা। পৌরাণিক কল্পকাহিনিতে বর্ণিত আছে, এ ভাবনায় ভাবিত হওয়ার মাধ্যমে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শীজ্ঞানে পূজা করেছিলেন।

শিশুকন্যাকে কুমারী রূপে পুজো করার এক সূক্ষ্ম নিদর্শন রয়েছে ‘বৃহদ্ধর্ম পুরাণ’-এ। সেখানে রয়েছে, রাম কর্তৃক রাবণবধের জন্য দেবতারা ব্রহ্মার কাছে যজ্ঞ করার অনুমতি চাইলে ব্রহ্মা দেবীকে জাগরিত করার কথা উল্লেখ করেন। দেবতারা তখন আদ্যাশক্তির স্তব করলেন। সেই স্তবে সন্তুষ্টা হয়ে এক কুমারী দেবী আবির্ভূত হয়ে দেবীর বোধন করে পুজো করতে নির্দেশ দিলেন।

সেই নির্দেশ মতো ব্রহ্মা দেবতাদের সঙ্গে পৃথিবীতে এসে ঘুরতে ঘুরতে এক নির্জন স্থানে বেলগাছের একটি পাতায় সোনার বরণ এক শিশুকন্যাকে নিদ্রিতা দেখে তাঁকে‘বিশ্বপ্রসবিনী জগজ্জননী মহামায়া’ বলে স্তব করেছিলেন। ব্রহ্মার সেই স্তবেই শিশুকন্যা জাগরিতা হয়ে দেবীরূপে আবির্ভূতা হয়েছিলেন এবং দেবতাদের অভীষ্ট পূরণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।


আমাদের আরাধ্যা মৃন্ময়ী নয়, সেযে চিন্ময়ী আরাধনা। রমণীর মাঝে জননীর দর্শন। এক প্রকৃতির মাঝে বিশ্বপ্রকৃতির অবলোকন— তা সহজ সরল ভাষায় বোঝাতেই কুমারী পুজোর নির্দেশ। মহামায়ার মহাপুজোয় তাই কুমারী পুজোর এত গুরুত্ব।

কুমারী পুজো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে তন্ত্রশাস্ত্রে। দুর্গার রূপ ধরে নিয়েই পুজো করা হয় কুমারীকে। কুমারীকে স্নান করিয়ে পরানো হয় নতুন বস্ত্র, নানা আভরণ। সাজানো হয় ফুলের মালা ও মুকুট দিয়ে। পায়ে আলতা পরিয়ে কপালে দেয়া হয় কুমকুমের টিপ। কুমারীকে রাখা হয় অভুক্ত অবস্থায়। আসনে এমনভাবে বসানো হয় যাতে তার কোনও কষ্ট না হয়ে আনন্দলাভ করে। এবার অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সামনে বসিয়ে কুমারীকে পুজো করা হয় দেবীজ্ঞানে। এ পুজো হয় নিজ অধিকার ও সামর্থ্য অনুসারে বিধি ও রীতি মেনে।


স্বামী বিবেকানন্দ  প্রথম কুমারী পূজা করেন  1898 সালে , তাঁর  কাশ্মীর ভ্রমণকালে। তিনি যখন 1898 সালে কাশ্মীর ভ্রমণে গেছিলেন,  তখন তিনি এক মুসলমান মেয়েকে কুমারীপূজা করেছিলেন।  তিনি জাতপাতের উর্ধ্বে দেবী দর্শন করেন।  দেবীত্ব ও মাতৃত্ব কারোর একচাটিয়া সম্পদ নয়। মাতৃত্ব ও দেবীত্ব প্রতিটি নারীর আজন্ম সম্পদ। স্বামীজির ধ্যানে ও দর্শনে তা প্রমাণিত।  তাই তিনি মুসলমান কন্যার মধ্যে দেবীত্বের সন্ধান পেরেছিলেন।   1899 সালে তিনি কন্যাকুমারী সহরে ডেপুটি একাউন্ট্যণ্ট জেনারেল  মণ্মথ ডট্টাচার্যের কন্যাকে কুমারী রূপে পূজা করেছিলেন।  1901 সালে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে দূর্গা পূজা ও কুমারী পূজা শুরু করেন। এই পুজোয় তিনি নয় জন কুমারীকে পূজা করেন।  এখন বেলুড়মঠে একজনকে করা হয়ে থাকে। এটাই নাকি শাস্ত্রীয় নীতি। স্বামীজির দিব্যদৃষ্টিতে সকল কুমারীই দেবীর এক একটি রূপ। সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি পুজা করেছিলেন  9 জন কুমারীকে এবং এই পুজোর দ্বারা যেন একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। 



মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী দেবী মন্দিরে ও কন্যাকুমারীতেও মহা ধুমধামের সঙ্গে কুমারী পুজো হয়।কথিত আছে, কুমারীপুজো ছাড়া হোম-যজ্ঞ করেও দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। 

1901 সালে বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজা হয় আর তা স্বামীজির ইচ্ছে ও তত্ত্বাবধানেই। প্রথম সেই দুর্গাপূজোয় জগজ্জননী মা সারদা উপস্থিত ছিলেন  এবং ওই  পুজো মায়ের নামেই সঙ্কল্পিত হয়। মায়ের নামে সেই সঙ্কল্পের ধারা অজও চলে আসছে। ঐ বছরে স্বামীজি তাঁর শিষ্য  শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তীকে রঘুনন্দনের অষ্টবিংশতি-তত্ত্ব নিয়ে আসতে বললেন।  শিষ্য স্বামীজির কাছে জানতে চাইলেন ___ এ রকম একটি কুসংস্কারে ভরা বই নিয়ে তিনি কি করবেন  ? স্বামীজি তার উত্তরে জানিয়েছিলেন  যে ---- তিনি এ বার মঠে দুর্গাপূজা করতে চান।  তাই  দুর্গাপূজার বিধি পড়বেন তিনি।শিষ্য সেই বই আনেন এবং স্বামীজি দ্বিগুণ উত্সাহে পুজোর জন্য ঝাপিয়ে  পড়েন।  ঠিক করেন মঠে মাটির প্রতিমার পুজোর আগে তিনি চিন্ময়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করবেন।  এবং সেই জ্যান্ত দুর্গা মা সারদা । কারণ মা সারদা স্বামীজির কাছে সকল শক্তির উৎস।  সেই  মহাশক্তির  পূজোই  তিনি চেয়েছিলেন। 

 


বেলুড়  মঠে দুর্গাপূজো হবে তার  অনুমতি পাওয়া গেল মায়ের কাছ থেকে আর খুব কম সময়ের মধ্যে এই দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়।  কুমারটুলি থেকে প্রতিমা এসেছিল। স্বামী ব্রহ্মানন্দ সমস্ত জিনিস তথা সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছিলেন।  পূজকের আসনে বসেন  কৃষ্ণলাল নামে ব্রহ্মচারী । তন্ত্রধারক স্বামী রামকৃষ্ণানন্দের পিতা ঈশ্বর চন্দ্র ভট্টাচার্য।  বোধনের আগের দিন মা সারদা তথা জ্যান্ত দুর্গা বেলুড় মঠের পাশে একটি বাড়িতে অবস্থান  করছিলেন।  পূজোয় মায়ের আদেশ অনুসারে পশু বলি নিষিদ্ধ হয়। 

স্বামীজির  গৃহী শিষ্য  শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তীর  লেখা থেকে পাই  ----' মহা সমারোহে দিনত্রয়ব্যাপী মহোৎসব কল্লোলে মঠ মুখোরিত হইল। নহবতের সুললিত তানতরঙ্গ গঙ্গার পরপারে প্রতিধ্বনিত হইতে লাগিল।  ঢাক ঢোলের রুদ্র তালে কলনাদিনী ভাগীরথী নৃত্য  করিতে লাগিল।  যে পূজায় শ্রী শ্রী মাতাঠাকুরানী স্বয়ং উপস্থিত,  যাহা স্বামীজির সঙ্কল্পিত,  দেহধারী দেব সদৃশ  মহাপুরুষগন যাহার কার্যসম্পাদক , সে পূজা যে অছিদ্র হইবে তাহাতে আর বৈচিত্র্য  কি ?? দিনত্রয়ব্যাপী পূজো নির্বিঘ্নে কাটিল। গরীব দু:খীর ভোজন-তৃপ্তি সূচক কলরবে মঠ তিন দিন  পরিপূর্ণ  হইল।'


প্রত্যক্ষদর্শী কুমুদবন্ধু সেন তাঁর বিবরনীতে লিখেছেন  ::: "  31শে আশ্বিন, ই: 17ই অক্টোবর,  বৃহস্পতিবার   সাধু ব্রহ্মচারী শ্রীশ্রীদূর্গাপ্রতিমা নৌকায় করিয়া মঠের ঘাটে তুলিলেন ---- ধীরে ধীরে যত্ন সহকারে ঠাকুর ঘরের নীচের দালানে প্রতিমা রাখা হইল। কিছুক্ষন পর প্রবল বৃষ্টি ___ আকাশ যেন ভাঙ্গিয়া পড়িল।  মঠের জমিতে উত্তর দিকে যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্ম মহোৎসবে এখন বৃহত মন্ডপ নির্মিত হয় -- সেখানে সেবার শ্রীশ্রীদুর্গাপ্রতিমার প্রকান্ড মন্ডপ তৈরি হইয়াছিল।  জলঝড় হইলেও যাহাতে কোনও প্রতিবন্ধক তৈরি না হয়, সেরূপ সাবধানতার সাথে মন্ডপটি তৈরি হইয়াছিল। "

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শীর ডায়েরী থেকে যানা যায় ***** কলকাতা থেকে প্রচুর  ভক্ত এসেছিলেন পূজো দেখতে। শ্রীশ্রীমায়ের নামে সঙ্কল্প হয়েছিল।  স্বামীজি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।  ওই দিন মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিলো। চারদিকে যেন আনন্দের হাট। সন্ধিপুজোয় স্বামীজি পুষ্পাঞ্জলি দেন। কুমারী পূজাও অনুষ্ঠিত হয়। স্বামীজি নিজে একাধিক কুমারীর পূজো করেছেন  এই প্রথম দুর্গাপূজায়। কুমারী পুজোর ব্যবস্থা করেন ঠাকুরের শিষ্যা গৌরিমা। ন'জন কুমারীর পুজা করা হয় । সকল কুমারীর তথা জীবন্ত প্রতিমার পায়ে ফুল ও অঞ্জলী দেন স্বামীজি , হাতে দেন মিষ্টি। তিনি এমনই ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন যে একজন অল্পব্য়স্ক কুমারীর কপালে রক্তচন্দন পড়ানোর সময় শিউরে ওঠেন  এবং বলেন়ঃ আহা, দেবীর তৃতীয় নয়নে লাগেনি তো।



পাঁচ  থেকে সাত বছরের কুমারী বালিকাকে এখন প্রতিমার পাশে বসিয়ে দেবী ঞ্জানে পূজো করা হয়। দুর্গাপুজোর সাথে কুমারী পুজোর এই চল সম্ভবত তান্ত্রিক মতে। দেবী দুর্গা কারও গর্ভজাত নয়। দেবগণের পঞ্জীভূত শক্তি তিনি, সয়ংসিদ্ধা। আর বৃহদ্ধর্ম পুরাণের মতে দেবী   চন্ডিকা কুুমারী কন্যারূপে দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হন। অন্য   দিকে , ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কুমারী কে   ভগবতীর অংশ বলেছেন।  কুমারীর মধ্যে দেবী ভাবের প্রকাশ দেখা বা তাকে জননী রুপে পূজো , শুদ্ধ   ভাবেের প্রকাশ।  

বেলুড় মঠের এই প্রথম দুর্গাপুজোয় দশমীতে প্রতিমার বিসর্জন অনুষ্ঠানও  হয় খুব জাক করে। নৌকায় প্রতিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গায়। ঢাক, ঢোলে,বাজনা নাচের  মহানন্দে প্রতিমার বিসর্জন হয়। পূজো শেষ হলে পরের দিন  মা ফিরে যান  বাগবাজারে। আজও দুর্গাপুজোয় বেলুড় মঠের সেই আনন্দধারা বয়ে চলেছে ভাগীরথীকে সামনে রেখে। তবে স্বামীজির এটি প্রথম দুর্গাপুজো যেমন , তেমনই শেষ দুর্গাপুজোও। কারন পরের বছর 1902 - এ স্বামীজি রামকৃষ্ণালোকে পাড়ি দেন। 

( সংগৃহীত  )