জয় বাবা ভোলানাথের জয়।
" শিব " শব্দের অর্থ ঞ্জান। আর ঞ্জান থেকেই মুক্তি। আমাদের ভারতবর্ষে রয়েছে বারটি বিখ্যাত শিব লিঙ্গ , যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে পরিচিত। মুক্তি সন্ধানী মানুষ পরিক্রমা করে ফেরে সেই বারোটি তীর্থ।
শিব লিঙ্গের উৎপত্তি সম্পর্কে শিবপুরান, স্কন্দপুরান, বামণপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, কালিকাপুরাণ, পদ্মপুরাণ, নারদপঞ্চরাত্র, মহানির্বাণতন্ত এবং অন্যান্য পুরাণ ও উপপুরাণে অনেক বিবরন দেওয়া আছে। বিভিন্ন বর্ননার মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে যা পাওয়া যায় ...........
মহাপ্রলয়ের মহাসমুদ্রে ব্রহ্মা উভয়েই ___ আমি সৃষ্টি, স্থিতি এবং সঙহার কর্তা এবং দেবতাদের মধ্যে প্রধান___ এই তর্কবিতর্ক থেকে ঘোরতর যুদ্ধে লিপ্ত হন। এ সময় ভগবান শশাঙ্কশেখর ভীষনাকার অনল স্তম্ভরূপে উভয় যোদ্ধা তথা ব্রহ্মা ও বিষ্নুর মধ্যস্তলে প্রলয় পয়োধিজলে আবির্ভূত হন। এই অতীন্দ্রিয় অগ্নিময় লিঙ্গ কোথা থেকে এল , তা নির্ণয় করার জন্য যুদ্ধ বন্ধ করে ব্রহ্মা ও বিষ্নু সচেষ্ট হলেন। ব্রহ্মা হঙ্সরূপ ধারন করে ওই লিঙ্গেস্তম্ভের উপর ক্রমশ উঠতে থাকেন। বহুকাল চেষ্টা করেও ওই স্তম্ভের শেষ কোথায় তা দেখতে পেলেন না। আর ভগবান বিষ্ণু বরাহমূর্তী ধারন করে আরো অধোদেশে গিয়েও খুঁজে পেলেন না স্তম্ভের মূল কোথায়। বিষ্ণু স্বয়ং জ্যোতির্ময় লিঙ্গের সন্ধান করেছিলেন বলে এই কল্পের নাম হয় শ্বেতবরাহকল্প।
পুরাণ মতে , শ্বেতবরাহকল্পে ভূ-সৃষ্টির পর অতীত হয়েছে ১৯৫৫৮৮৯০৭৮ বছর। সুতরাং জ্যোতির্ময় লিঙ্গের এটাই আবির্ভাব সময় ধরা যেতে পারে। আর যে রাত্রিতে প্রথম প্রকাশ হয় ঐ জ্যোতির্লিঙ্গের, ভগবান সদাশিব সেই রাত্রিকে আখ্যা দিয়েছেন শিবরাত্রি। লিঙ্গরুপী মহাদেবই ব্রহ্ম, শিবলিঙ্গ ব্রহ্মেরই প্রতীক। গৌরীপট্টে শিব লিঙ্গ স্থাপন করে শিবপূজার বিধি। শিব ও শক্তির মিলিত শক্তি নিহিত আছে বাণলিঙ্গে। শক্তির প্রতিক যোনি যথা ত্রিকোণ চিহ্ন।
" শিব " শব্দের অর্থ ঞ্জান। আর ঞ্জান থেকেই মুক্তি। আমাদের ভারতবর্ষে রয়েছে বারটি বিখ্যাত শিব লিঙ্গ , যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে পরিচিত। মুক্তি সন্ধানী মানুষ পরিক্রমা করে ফেরে সেই বারোটি তীর্থ।
শিব লিঙ্গের উৎপত্তি সম্পর্কে শিবপুরান, স্কন্দপুরান, বামণপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, কালিকাপুরাণ, পদ্মপুরাণ, নারদপঞ্চরাত্র, মহানির্বাণতন্ত এবং অন্যান্য পুরাণ ও উপপুরাণে অনেক বিবরন দেওয়া আছে। বিভিন্ন বর্ননার মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে যা পাওয়া যায় ...........
মহাপ্রলয়ের মহাসমুদ্রে ব্রহ্মা উভয়েই ___ আমি সৃষ্টি, স্থিতি এবং সঙহার কর্তা এবং দেবতাদের মধ্যে প্রধান___ এই তর্কবিতর্ক থেকে ঘোরতর যুদ্ধে লিপ্ত হন। এ সময় ভগবান শশাঙ্কশেখর ভীষনাকার অনল স্তম্ভরূপে উভয় যোদ্ধা তথা ব্রহ্মা ও বিষ্নুর মধ্যস্তলে প্রলয় পয়োধিজলে আবির্ভূত হন। এই অতীন্দ্রিয় অগ্নিময় লিঙ্গ কোথা থেকে এল , তা নির্ণয় করার জন্য যুদ্ধ বন্ধ করে ব্রহ্মা ও বিষ্নু সচেষ্ট হলেন। ব্রহ্মা হঙ্সরূপ ধারন করে ওই লিঙ্গেস্তম্ভের উপর ক্রমশ উঠতে থাকেন। বহুকাল চেষ্টা করেও ওই স্তম্ভের শেষ কোথায় তা দেখতে পেলেন না। আর ভগবান বিষ্ণু বরাহমূর্তী ধারন করে আরো অধোদেশে গিয়েও খুঁজে পেলেন না স্তম্ভের মূল কোথায়। বিষ্ণু স্বয়ং জ্যোতির্ময় লিঙ্গের সন্ধান করেছিলেন বলে এই কল্পের নাম হয় শ্বেতবরাহকল্প।
পুরাণ মতে , শ্বেতবরাহকল্পে ভূ-সৃষ্টির পর অতীত হয়েছে ১৯৫৫৮৮৯০৭৮ বছর। সুতরাং জ্যোতির্ময় লিঙ্গের এটাই আবির্ভাব সময় ধরা যেতে পারে। আর যে রাত্রিতে প্রথম প্রকাশ হয় ঐ জ্যোতির্লিঙ্গের, ভগবান সদাশিব সেই রাত্রিকে আখ্যা দিয়েছেন শিবরাত্রি। লিঙ্গরুপী মহাদেবই ব্রহ্ম, শিবলিঙ্গ ব্রহ্মেরই প্রতীক। গৌরীপট্টে শিব লিঙ্গ স্থাপন করে শিবপূজার বিধি। শিব ও শক্তির মিলিত শক্তি নিহিত আছে বাণলিঙ্গে। শক্তির প্রতিক যোনি যথা ত্রিকোণ চিহ্ন।
শিব লিঙ্গ দু প্রকার --- অকৃত্রিম ও কৃত্রিম। স্বয়ম্ভূলিঙ্গ, বাণলিঙ্গ প্রভৃতি অকৃত্রিম লিঙ্গ। ধাতু মাটি পাথর দিয়ে গড়া লিঙ্গকে বলে কৃত্রিম লিঙ্গ। মে লিঙ্গের মূল পাওয়া যায় না বা স্থানান্তরিত করা যায় না তাঁকে বলে অনাদি লিঙ্গ। এছাড়া আর এক জাতীয় লিঙ্গ কে বলা হয় জ্যোতির্লিঙ্গ।
ভারতবর্ষে জ্যোতির্লিঙ্গ আছে মোট বারোটি। মহাকালেশ্বর, সোমনাথ, ওঙ্কারেশ্বর, বৈজনাথ ( বৈদ্যনাথ) , নাগনাথ, রামেশ্বর, বিশ্বনাথ, ঘৃষ্ঞেশ্বর,কেদারনাথ, ভীমাশঙ্কর, তর্্যম্বকেশ্বর ও মল্লিকার্জুন ---- শিবপুরাণে উল্লিখিত এই জ্যোতির্লিঙ্গগুলি সমাধিক আদৃত ও প্রসিদ্ধ।
উক্ত শিব লিঙ্গ গুলি স্বয়ম্ভূ ও জ্যোতিরলিঙ্গ। অকৃত্রিম লিঙ্গও বটে। তবে জ্যোতির্লিঙ্গ ঠিক কি বস্তু তা বলা শক্ত। প্রলয় পয়োধিজলে যে লিঙ্গের আবির্ভাব হয় তা জ্যোতির্লিঙ্গ। ওই লিঙ্গের শক্তি যে যে অনাদি লিঙ্গে সন্নিবীষ্ট আছে সেগুলিই জ্যোতির্লিঙ্গ।
সংসারীদের পুজোয় নিষিদ্ধ যে শিবলিঙ্গ
সাদা শিবলিঙ্গ বা সাদা শিব এবং সাদা গনেশ গৃহীদের উপাস্য নয়। গৃহীরা এই বিগ্রহ পূজো করলে সংসার জীবনে নেমে আসে অশেষ দুর্গতি।
শিবের প্রিয় খাবার
বিস্ময়করভাবে শিবের অত্যন্ত প্রিয় খাবার গুলি হল পুলিপিঠের, লাড্ডু, দই আর চিনি দিয়ে দুধ। তাঁর পছন্দের মেনুতে গাঁজা, ভাঙ, চরস, সিদ্ধি কোনোটাই নেই।
শিবের অতিপ্রিয় ফুল
শিবের অতিপ্রিয় ফুল আকন্দ ও ধুতরা। ভালবাসেন পদ্ম, দুর্বা, বেলপাতা ও কুমকুম। কুন্দ (কুদফুল) , যূথী, নবমল্লিকা, কেতকী, রক্তজবা, মালতী, শিউলি, বকুল জাতীয় ফুল শিব মোটেও পছন্দ করেন না। এই ফুল দিয়ে পূজো করলে শিব পূদকের উপর যারপরনাই অপ্রসন্ন হন।
হর হর মহাদেব
শিবের সাতটি জিনিসের মহাত্ব্য ::
১) সাপঃ সর্প হচ্ছে সদা জাগ্রত থাকার প্রতীক। যদি আপনার গলায় একটি সাপ প্যাঁচানো থাকে, তাহলে আপনি কিছুতেই
ঘুমাতে পারবেন না।
২) ভষ্মঃ এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে।
৩) চন্দ্রঃ চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।
৪) ডমরুঃ এটা দেখতে ইনফিনিটি চিহ্নের মত। যা শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।
৫) ত্রিশুলঃ শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, এটি তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম
পালনে উৎসাহিত করে থাকেন।
৬) নীলাভ শরীরঃ আকাশ অন্তহীন, শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতা
তথা অসীমতার প্রতীক।
৭) গঙ্গাঃ গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে। যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়, তখনই তাতে নিষ্কলুষ জ্ঞান প্রবাহিত হয়।
💥💥💥💥💥💥💥
🕉️ হর হর মহাদেব 🕉️
দ্বাদশ জ্যোতিরলিঙ্গের মহাত্ম্যকথা ::
মহাকালেশ্বর দর্শনে …. আয়ুবৃদ্ধি হয়। মহাকালই একমাত্র ভারতের দক্ষিণামুখী জ্যোর্তীলির্ঙ্গ শিবের বিগ্রহ। শিবপুরাণেই উল্লিখিত হয়েছে, ' মহাকালেশ্বর দর্শন করলে স্বপ্নেও আর দুঃখ হয় না। যে যা কামনা করে সেবা করে মহাকালেশ্বর তাকে সেই ফল দান করে থাকেন। যে পুরুষ বা নারী শিপ্রা নদীতে স্নান করে মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের দর্শন করে, তার মৃত্যু ভয় থাকে না। মৃত্যুর পর তার সদগতি বা মুক্তি লাভ হয়। শিব রাত্রিতে এখানে মহাশৃঙ্গার আয়োজন করা হয়। মহাকালের পূজা ও দর্শন করলে আত্মীয় স্বজনদের অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং সংসারের সার্বিক কল্যাণ হয়।
কেদারনাথ দর্শনে ...... সমস্ত পাপস্খলন হয়। কেদারনাথ শিবসত্ত্ব ও রজোগুণে অধিস্ঠিত থাকেন সর্বদা। এই তীর্থে অবস্থান করে মানুষের রাজসিক প্রার্থনা পূর্ণ করেন। কেদারে শিব জীবের সমস্ত পাপস্খলন করে।
ঘৃস্নেশ্বর দর্শনে ...... মুক্তিলাভ, বঙশবৃদ্ধি, সুখ ও সমৃদ্ধিলাভ হয়। শিবপুরানে উল্লিখিত দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এবং সমাধিক আদৃত ও প্রসিদ্ধ। প্রতি বছর শিবরাত্রে মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর সমাগম ঘটে এই পবিত্র মন্দিরে।
রামেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করলে..... মৃত্যুর পর শিবলোক প্রাপ্ত হয়। রামেশ্বরে গঙ্গাজল ঢেলে নিষ্কাম হয়ে ভক্তি প্রর্থনা করলে মানুষ মুক্তি লাভ করে। রামেশ্বরে মহাদেবের অভিষেক হয় গঙ্গোত্রীর জলে। দ্বাদশ অনাদি জ্যোতির লিঙ্গের অন্যতম রামেশ্বর মহাদেব। লৌকিক উচ্চতায় রামেশ্বর এক ফুট হবে।
তর্ম্বেকেশ্বর দর্শনে.….. বিবাহ সমস্যার সমাধান হয়। ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম শৈবতীর্থ তর্ম্বেকেশ্বর। মহাদেবের একটি পঞ্চমুখবিশিষ্ট সোনার মুকুট আছৈ। কতকালের প্রাচীন তা আজও অঞ্জাত।
সোমনাথ দর্শনে ...... সংসারে সুখ সমৃদ্ধি আসে।
ভারতের পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূলেই সোমনাথ মন্দির। স্থান গুজরাট। সোমনাথ সয়ম্ভূ লিঙ্গ। মহাভারতে প্রভাসতীর্থ ও সোমদেবের সোমনাথ উপাসনার উল্লেখ আছে।
ওঙ্কারেশ্বর দর্শনে.…... পুণ্যলাভ হয়। স্কন্দপুরানের বর্ণনা এই রকম " বিশ্বেশ্বর বলিলেন, হে দেবী--- ওঙ্কারেশ্বর দর্শনে সকল পুণ্য লাভ হয়। " জ্যোতির্লিঙ্গ স্বয়ম্ভূ। তাই এই লিঙ্গের কোনও গৌরিপট্ট নেই। মন্দিরটি পাঁচ তলা। ওঙ্কারেশ্বরে কোনোও মানুষ অন্নদান করলে সে মৃত্যুর পর শিবলোকবাসী হন।
বিশ্বনাথ দর্শনে ..... জাগতিক কামনা বাসনা পূর্ন হয়। কাশী বিশ্বনাথখেত্র। কাশীতে গঙ্গায় স্নান করা মাত্র মানুষের পূর্ব জন্মের পাপ খয় হয়। এখানে শিব রজো ও তমো গুনে বিরাজ করে মানুষের জাগতিক সমস্ত কামনা বাসনার পূর্ন করে থাকেন। মোখ্য বা মুক্তিদাত্রি এখানে দেবী অন্নপূর্ণা। তিনি নারায়নী শক্তি নিয়ে অধিষ্ঠান করছেন এখানে। কাশীতে জাগতিক ও পারমার্থিক সমস্ত বাসনা পূরণ করেন দেবী অন্নপূর্ণা। সত্ত্ব, রজো ও তমো গুনে বিরাজ করেন তিনি।
বৈদ্যনাথ দর্শনে...... রোগভোগ থেকে মুক্তি হয়। বৈদ্যনাথ ধামের সরকারি নাম দেওঘর। লঙ্কেশ্বর রাবণ শিবকে নিয়ে লঙ্কায় রাবার সময় শিব এখানে অবস্থান করেন এবং ক্রমশ মাটি ভেদ করে নিচে বসে যান। তখন রাবন চেষ্টা করে শিবকে তুলতে না পেরে কর্ধোবশত মাথায় চাপ দিয়ে মাটিতে বসিয়ে দেন। তখন রাবনের হাতের আঙ্গুলের ছাপ পড়ে যায় মাথায়। দেওঘর তথা বৈদনাথ ধামে শিব তমোগুনে বিরাজ করেন। শিব "বৈদ্যনাথ " নামে মানুষের রোগ যন্তনার উপশম ও ব্যাধি মোচন করেন। দেওঘরে রোগ ব্যাধি মুক্তির প্রার্থনায় দ্রুত বললাম হয়।
মল্লিকার্জুন দর্শনে ....... দাম্পত্যজীবনে সুখলাভ হয়। অন্ধ্র প্রদেশে কৃষ্না নদীর দক্ষিণ তীরে জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম তৃতীয় লিঙ্গ মল্লিকার্জুন স্বামীর অবস্থান। শিবরাত্রি উৎসব এখানে প্রতিপালিত হয় মহাসমারোহে।
ভীমাশঙ্কর দর্শনে ...... শোক দুঃখ দূর হয়। বিল উপজাতির আদিপুরুষ বিলের আবিষ্কার দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গে অন্যতম এই সয়ম্ভূ লিঙ্গ। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের এটি চতুর্থ লিঙ্গ। এখানকার বরণীয় উৎসব শিবরাত্রি। এই তীর্থ দর্শন করলে জাগতিক বিষয়ে যা কিছু দোষ, দুঃখ, শোক ও পাপ নাশ হয়।
নাগেশ্বর দর্শনে ...... মৃত্যুর পর আত্মা মুক্তি লাভ করে। দ্বারকখ থেকে ওঠার পথে দ্বাদশ শিবলিঙ্গের অন্যতম নাগনাথ শিবের অবস্থান। দ্বিমতে সর্পবেষ্টিত হওয়ায় নাগনাথ পরিচিত হন নাগেশ্বর নামে। নাগেশ্বর দর্শন করলে সর্পভয় থাকে না। মৃত্যুর পর সদগতি বা মুক্তি লাভ হয়।
রামেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করলে..... মৃত্যুর পর শিবলোক প্রাপ্ত হয়। রামেশ্বরে গঙ্গাজল ঢেলে নিষ্কাম হয়ে ভক্তি প্রর্থনা করলে মানুষ মুক্তি লাভ করে। রামেশ্বরে মহাদেবের অভিষেক হয় গঙ্গোত্রীর জলে। দ্বাদশ অনাদি জ্যোতির লিঙ্গের অন্যতম রামেশ্বর মহাদেব। লৌকিক উচ্চতায় রামেশ্বর এক ফুট হবে।
তর্ম্বেকেশ্বর দর্শনে.….. বিবাহ সমস্যার সমাধান হয়। ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম শৈবতীর্থ তর্ম্বেকেশ্বর। মহাদেবের একটি পঞ্চমুখবিশিষ্ট সোনার মুকুট আছৈ। কতকালের প্রাচীন তা আজও অঞ্জাত।
সোমনাথ দর্শনে ...... সংসারে সুখ সমৃদ্ধি আসে।
ভারতের পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূলেই সোমনাথ মন্দির। স্থান গুজরাট। সোমনাথ সয়ম্ভূ লিঙ্গ। মহাভারতে প্রভাসতীর্থ ও সোমদেবের সোমনাথ উপাসনার উল্লেখ আছে।
ওঙ্কারেশ্বর দর্শনে.…... পুণ্যলাভ হয়। স্কন্দপুরানের বর্ণনা এই রকম " বিশ্বেশ্বর বলিলেন, হে দেবী--- ওঙ্কারেশ্বর দর্শনে সকল পুণ্য লাভ হয়। " জ্যোতির্লিঙ্গ স্বয়ম্ভূ। তাই এই লিঙ্গের কোনও গৌরিপট্ট নেই। মন্দিরটি পাঁচ তলা। ওঙ্কারেশ্বরে কোনোও মানুষ অন্নদান করলে সে মৃত্যুর পর শিবলোকবাসী হন।
বিশ্বনাথ দর্শনে ..... জাগতিক কামনা বাসনা পূর্ন হয়। কাশী বিশ্বনাথখেত্র। কাশীতে গঙ্গায় স্নান করা মাত্র মানুষের পূর্ব জন্মের পাপ খয় হয়। এখানে শিব রজো ও তমো গুনে বিরাজ করে মানুষের জাগতিক সমস্ত কামনা বাসনার পূর্ন করে থাকেন। মোখ্য বা মুক্তিদাত্রি এখানে দেবী অন্নপূর্ণা। তিনি নারায়নী শক্তি নিয়ে অধিষ্ঠান করছেন এখানে। কাশীতে জাগতিক ও পারমার্থিক সমস্ত বাসনা পূরণ করেন দেবী অন্নপূর্ণা। সত্ত্ব, রজো ও তমো গুনে বিরাজ করেন তিনি।
বৈদ্যনাথ দর্শনে...... রোগভোগ থেকে মুক্তি হয়। বৈদ্যনাথ ধামের সরকারি নাম দেওঘর। লঙ্কেশ্বর রাবণ শিবকে নিয়ে লঙ্কায় রাবার সময় শিব এখানে অবস্থান করেন এবং ক্রমশ মাটি ভেদ করে নিচে বসে যান। তখন রাবন চেষ্টা করে শিবকে তুলতে না পেরে কর্ধোবশত মাথায় চাপ দিয়ে মাটিতে বসিয়ে দেন। তখন রাবনের হাতের আঙ্গুলের ছাপ পড়ে যায় মাথায়। দেওঘর তথা বৈদনাথ ধামে শিব তমোগুনে বিরাজ করেন। শিব "বৈদ্যনাথ " নামে মানুষের রোগ যন্তনার উপশম ও ব্যাধি মোচন করেন। দেওঘরে রোগ ব্যাধি মুক্তির প্রার্থনায় দ্রুত বললাম হয়।
মল্লিকার্জুন দর্শনে ....... দাম্পত্যজীবনে সুখলাভ হয়। অন্ধ্র প্রদেশে কৃষ্না নদীর দক্ষিণ তীরে জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম তৃতীয় লিঙ্গ মল্লিকার্জুন স্বামীর অবস্থান। শিবরাত্রি উৎসব এখানে প্রতিপালিত হয় মহাসমারোহে।
ভীমাশঙ্কর দর্শনে ...... শোক দুঃখ দূর হয়। বিল উপজাতির আদিপুরুষ বিলের আবিষ্কার দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গে অন্যতম এই সয়ম্ভূ লিঙ্গ। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের এটি চতুর্থ লিঙ্গ। এখানকার বরণীয় উৎসব শিবরাত্রি। এই তীর্থ দর্শন করলে জাগতিক বিষয়ে যা কিছু দোষ, দুঃখ, শোক ও পাপ নাশ হয়।
নাগেশ্বর দর্শনে ...... মৃত্যুর পর আত্মা মুক্তি লাভ করে। দ্বারকখ থেকে ওঠার পথে দ্বাদশ শিবলিঙ্গের অন্যতম নাগনাথ শিবের অবস্থান। দ্বিমতে সর্পবেষ্টিত হওয়ায় নাগনাথ পরিচিত হন নাগেশ্বর নামে। নাগেশ্বর দর্শন করলে সর্পভয় থাকে না। মৃত্যুর পর সদগতি বা মুক্তি লাভ হয়।
শিব ঠাকুর বিশ্বজুড়ে..... সে সিন্ধু সভ্যতাই বা ডেনমার্ক বা জাপান।
জাপানে শিব **:** জাপানের সাত সৌভাগ্যের দেবতার মধ্যে দাইকোকুটেনের উৎস শিব বলেই মনে করেন অনেকে। ভাগ্য ও সম্পদের দেবতা রুপে পূজিত হন তিনি। মহাকাল শব্দের জাপানি প্রতিরূপ এই নাম। মহাকাল আবার শিবের বৌদ্ধ নাম। বুদ্ধতন্ততেও শিবের উল্লেখ রয়েছে। তাঁকে সেখানে উপায় বলা হয়েছে। শক্তি অভিহিত হয়েছে প্রঞ্জা নামে। বৌদ্ধতন্তে শিবকে নিষ্ক্রিয় এবং শক্তিকে সক্রিয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। দাইকোকুটেনের সঙ্গে " ভাগ্যচুরি "র পুরোনো রীতি রয়েছে। বলা হয়, যদি কেউ এই মূর্তি চুরি করেন এবং কাজটি করার সময় যদি ধরা না পড়েন তবে তিনি সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন। দাইকোকুটেনের স্ত্রী হিসেবে রয়েছেন দাইকোকুনিয়ো, আঁধারের দেবী, মহাকালীর প্রতিরূপ।
সেই পশুপতিনাথ ....... নেপালের পশুপতিনাথ মন্দির এশিয়ার পবিত্র স্থানগুলির অন্যতম। বাগমতীর নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি কাঠমান্ডু থেকে ৫ কিমি উত্তর-পূর্বে। ১৯৭৯ সালে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় এই মন্দিরটি। বিশাল এই মন্দির চত্বরে শুধু পশুপতিনাথেরই মন্দির নেই, তার সঙ্গে রয়েছে নানা মন্দির, আশ্রম আর ছবি। ২৭৫টি তামিল পাদল পেত্রা স্থলম তথা শিবস্থানের একটি হল এই মন্দির। শিব পুরাণ বলে এখানকার শিবলিঙ্গটি ভক্তদের যাবতীয় মনোবাসনা পূরন করে। পঞ্চচম শতকে লিচ্ছবি রাজ প্রচন্ড দেব এই মন্দিরটি তৈরি করেন বলে যানা যায়। কিন্তু তার আগেও মন্দির ছিল, কিন্তু সেটি উইপোকায় নষ্ট হয়ে যায়। তার পরেই এই মন্দিরটি গড়ে তোলেন প্রচন্ড দেব।
বুদ্ধের বড়দা ....... জাভা বা জম্বূদীপে ইসলাম ধর্ম আসার আগে শৈবধর্ম এবং বৌদ্ধধর্ম পরস্পরের ঘনিষ্ঠ ও মিত্রভাবাপন্ন ছিল। মধ্যযূগের ইন্দোনেশিয় সাহিত্যে বুদ্ধকে শিব ও জনার্দন তথা বীষ্ঞূর সঙ্গে সমার্থক করে দেখা হয়েছে। হিন্দু জনজাতি অধ্যুষিত বালিতে, বুদ্ধকে শিবের ছোট ভাই বলে বিশ্বাস করা হয়। হিন্দু ধর্মের আধিক্যের কারণে অনেক ধরনের মন্দির দেখতে পাওয়া যায় সেখানে। মন্দিরকে বলে পুর। পুর কাহিয়াঙ্গান দেশ, পুর কিহিয়াঙ্গান জগৎ ----এই দুই ধরনের মন্দিরে পূজো পান শিব, ব্রহ্মা ও বীষ্নুর সাথে। পুর দেশ হল ব্রহ্মার মন্দির, পুর পুসেহ বিষ্ঞুর মন্দির এবং পুর দালেম শিবের মন্দির।
বুদ্ধের বড়দা ....... জাভা বা জম্বূদীপে ইসলাম ধর্ম আসার আগে শৈবধর্ম এবং বৌদ্ধধর্ম পরস্পরের ঘনিষ্ঠ ও মিত্রভাবাপন্ন ছিল। মধ্যযূগের ইন্দোনেশিয় সাহিত্যে বুদ্ধকে শিব ও জনার্দন তথা বীষ্ঞূর সঙ্গে সমার্থক করে দেখা হয়েছে। হিন্দু জনজাতি অধ্যুষিত বালিতে, বুদ্ধকে শিবের ছোট ভাই বলে বিশ্বাস করা হয়। হিন্দু ধর্মের আধিক্যের কারণে অনেক ধরনের মন্দির দেখতে পাওয়া যায় সেখানে। মন্দিরকে বলে পুর। পুর কাহিয়াঙ্গান দেশ, পুর কিহিয়াঙ্গান জগৎ ----এই দুই ধরনের মন্দিরে পূজো পান শিব, ব্রহ্মা ও বীষ্নুর সাথে। পুর দেশ হল ব্রহ্মার মন্দির, পুর পুসেহ বিষ্ঞুর মন্দির এবং পুর দালেম শিবের মন্দির।
ডেনমার্কেও যে!
গুন্ডেস্টোর্প কলডর্ন ডেনমার্কে পাওয়া যায় বটে কিন্তু আসলে তৈরি থ্রেসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, শৃঙ্গ বিশিষ্ট এই ভগবানের রূপটি আসলে পশুপতিনাথেরই একটি রূপ। মানে শিবেরই একটি রূপ। মহেঞ্জোদড়োতে একটি সিলেট ঠিক এই রকমই একটি চিত্র পাওয়া গিয়েছে। কলড্রনের সঙ্গে তার আশ্চর্য সাদৃশ্য। পশুপতিনাথ ভগবান শিবেরই একটি রূপ। আখ্যরিক অর্থে ' পশুদের ভগবান' । হিন্দুরা সর্বত্র পশুপতিনাথকে ভক্তি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় গুরু
বাতারা গুরু আর্থাৎ আমাদের শিব ঠাকুর। নামটা এসেছে সঙ্স্কৃত ভত্তারক থেকে। যার অর্থ, মহৎ প্রভু। এই বাতারা গুরু পূজিত হন ইন্দোনেশিয়ায়। সেখানকার হিন্দু সাহিত্যে যে গুরুদের কথা বলা হয়েছে , তাঁদের মধ্যে আদি এই বাতারা গুরু। ভারতীয় উপমহাদেশে দখিনমূর্তি শিবের মতো। তবে এই শিব তথা গুরু বাতারা ভারতীয় উপমহাদেশে শিব ঠাকুরের তাৎপর্যকে অনেকাংশেই ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি শুধু শিবঠাকুর নন, তাঁর সঙ্গে মিশেছে ইন্দোনেশিয় বিভিন্ন আধ্যাত্মিক চেতনা, আধ্যত্মিকতার নানা দিক। সবই মিলিত হয়েছে বাতারা গুরুর তাৎপর্যে। তবে তাঁর স্ত্রী সেই প্রাচীন দেবী দুর্গাই। কখনও তিনি উমা, কখনও তিনি কালী। তেমন শিবও। সদাশিব, পরমশিব আবার মহাদেব। তাঁর করুণাময় রূপ, সংহার রূপ কালভৈরব মহাকাল।
সিন্ধুপারে মে পশুপতিনাথ দেখা দেন
সিন্ধু সভ্যতায় যে সিলমোহর গুলি পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলির অন্যতম পশুপতি সিলমোহর। সিলমোহর গুলিতে পশুদের চিত্রের আধিক্য দেখা যায়। তবে এই সিলমোহরটি অন্যগুলির থেকে আয়তনে বড়। পদ্মাসনের ভঙ্গিতে বসে আছে একটি অবয়ব। পশু পরিবৃত। ঐতিহাসিকদের মতে এই মূর্তিই আদি শিবের প্রতীক। তাঁর তিনটি মুখ। যেন যোগাসনে বসে আছেন। মাথার উপরের দুইটি অর্ধবৃত্ত যেন দুটি শিঙ। এটি তেমন এক দিকে তার মধ্যে পশু ভাবকে প্রকট করেছে, তেমনই তাঁকে পশুদের রাজা তথা অধিপতি হিসেবেও চিহ্নিত করেছে। এছাড়া শিবের ত্রিশুলের সঙ্গেও পশুপতি চিত্রের মাথার তিনটি শিং-এর মিল আছে। আর শিবকে যে রূপে প্রথম থেকে এখনও অবধি কল্পনা করা হয়, সেই রোগী রূপেই তিনি এখানে প্রকাশিত------ মহাযোগী। ঐতিহাসিকদের মত , বাস্তবতই এই মূর্তি শিবের আদি রূপ " পশুপতি" র হতে পারে। কিন্তু এই মূর্তির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে রুদ্র মূর্তির বৈশিষ্ট্যের ফারাক আছে বলে অনেকে মনে করেন। তাঁদের মতে, বেদের রুদ্র কিন্তু পশুদের রখ্খক বলে চিহ্নিত ছিলেন না। ফলে এই মূর্তির সাথে শিবের মূর্তির সম্পর্ক নেই। আবার অনেকের মতে, সিলেট থাকা মূর্তিটি মনুষ্যমূর্তি বা যোগীর নাও হতে পারে, বসা ষাড়ের ছবিও হতে পারে। বিতর্ক যায় থাকুক না কেন, বেশির ভাগেরই বিশ্বাস , এই মূর্তি আদতে শিবেরই আদিরূপ, পশুপতি তিনিই।
ব্রতরাজ দিব্য শিবরাত্রি মহিমা
গুন্ডেস্টোর্প কলডর্ন ডেনমার্কে পাওয়া যায় বটে কিন্তু আসলে তৈরি থ্রেসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, শৃঙ্গ বিশিষ্ট এই ভগবানের রূপটি আসলে পশুপতিনাথেরই একটি রূপ। মানে শিবেরই একটি রূপ। মহেঞ্জোদড়োতে একটি সিলেট ঠিক এই রকমই একটি চিত্র পাওয়া গিয়েছে। কলড্রনের সঙ্গে তার আশ্চর্য সাদৃশ্য। পশুপতিনাথ ভগবান শিবেরই একটি রূপ। আখ্যরিক অর্থে ' পশুদের ভগবান' । হিন্দুরা সর্বত্র পশুপতিনাথকে ভক্তি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় গুরু
বাতারা গুরু আর্থাৎ আমাদের শিব ঠাকুর। নামটা এসেছে সঙ্স্কৃত ভত্তারক থেকে। যার অর্থ, মহৎ প্রভু। এই বাতারা গুরু পূজিত হন ইন্দোনেশিয়ায়। সেখানকার হিন্দু সাহিত্যে যে গুরুদের কথা বলা হয়েছে , তাঁদের মধ্যে আদি এই বাতারা গুরু। ভারতীয় উপমহাদেশে দখিনমূর্তি শিবের মতো। তবে এই শিব তথা গুরু বাতারা ভারতীয় উপমহাদেশে শিব ঠাকুরের তাৎপর্যকে অনেকাংশেই ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি শুধু শিবঠাকুর নন, তাঁর সঙ্গে মিশেছে ইন্দোনেশিয় বিভিন্ন আধ্যাত্মিক চেতনা, আধ্যত্মিকতার নানা দিক। সবই মিলিত হয়েছে বাতারা গুরুর তাৎপর্যে। তবে তাঁর স্ত্রী সেই প্রাচীন দেবী দুর্গাই। কখনও তিনি উমা, কখনও তিনি কালী। তেমন শিবও। সদাশিব, পরমশিব আবার মহাদেব। তাঁর করুণাময় রূপ, সংহার রূপ কালভৈরব মহাকাল।
সিন্ধুপারে মে পশুপতিনাথ দেখা দেন
সিন্ধু সভ্যতায় যে সিলমোহর গুলি পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলির অন্যতম পশুপতি সিলমোহর। সিলমোহর গুলিতে পশুদের চিত্রের আধিক্য দেখা যায়। তবে এই সিলমোহরটি অন্যগুলির থেকে আয়তনে বড়। পদ্মাসনের ভঙ্গিতে বসে আছে একটি অবয়ব। পশু পরিবৃত। ঐতিহাসিকদের মতে এই মূর্তিই আদি শিবের প্রতীক। তাঁর তিনটি মুখ। যেন যোগাসনে বসে আছেন। মাথার উপরের দুইটি অর্ধবৃত্ত যেন দুটি শিঙ। এটি তেমন এক দিকে তার মধ্যে পশু ভাবকে প্রকট করেছে, তেমনই তাঁকে পশুদের রাজা তথা অধিপতি হিসেবেও চিহ্নিত করেছে। এছাড়া শিবের ত্রিশুলের সঙ্গেও পশুপতি চিত্রের মাথার তিনটি শিং-এর মিল আছে। আর শিবকে যে রূপে প্রথম থেকে এখনও অবধি কল্পনা করা হয়, সেই রোগী রূপেই তিনি এখানে প্রকাশিত------ মহাযোগী। ঐতিহাসিকদের মত , বাস্তবতই এই মূর্তি শিবের আদি রূপ " পশুপতি" র হতে পারে। কিন্তু এই মূর্তির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে রুদ্র মূর্তির বৈশিষ্ট্যের ফারাক আছে বলে অনেকে মনে করেন। তাঁদের মতে, বেদের রুদ্র কিন্তু পশুদের রখ্খক বলে চিহ্নিত ছিলেন না। ফলে এই মূর্তির সাথে শিবের মূর্তির সম্পর্ক নেই। আবার অনেকের মতে, সিলেট থাকা মূর্তিটি মনুষ্যমূর্তি বা যোগীর নাও হতে পারে, বসা ষাড়ের ছবিও হতে পারে। বিতর্ক যায় থাকুক না কেন, বেশির ভাগেরই বিশ্বাস , এই মূর্তি আদতে শিবেরই আদিরূপ, পশুপতি তিনিই।
ব্রতরাজ দিব্য শিবরাত্রি মহিমা
শিবরাত্রি ব্রতকে ব্রতরাজ বলে এবং এই ব্রতের দ্বারা সদা ভোগ ও মোখ্য প্রাপ্তি হয়। শিবরাত্রি ব্রতটি হিন্দুদের কাছে অতি প্রবিত্ত ও মহান ব্রত। এই ব্রতটি শঙ্কর ভগবানেরও সবচেয়ে প্রিয় ও তৃপ্তিকারী।
ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও ভক্তিসহ শিবরাত্রিতে উপবাস, রাত্রিতে মহাদেবের পূজো এবং জাগরন ____ এই তিন কার্য করতে হয়। রাত্রিতে চারটি প্রহরে চারবার পূজো করতে হয়। এরপর ধ্যান, জপ, শিবপূজো, স্তবপাঠ করে রাত্রি জাগতে হয়। বিভিন্ন উপকরণ দ্বারা পূজো করলেও অধিক উত্তম ফল পাওয়া যায়।
১) ধুতরা ফুল ও অখন্ড বেলপাতা দিয়ে পূজা করলে মহাদেব অতিব প্রসন্ন হন। তিনি পূজা করেন তিনি লাখ গো-দানের ফল পান এবং সব পাপ থেকে মুক্তি হয়ে শিবলোকে পূজিত হন।
২) মহাদেব স্বয়ঙ বলেছেন যে----- গন্ধ, পুষ্প, প্রণাম ও মুখবাদ্যের দ্বারা তাঁর পূজো করলে তিনি পূজকের প্রতি সদা অতি সন্তুষ্ট থাকেন।
৩) কেউ ঘি-এর প্রদীপ শঙ্করকে প্রদান করলে তিনি বিশেষ ফল পান।
৪) নিজের সব থেকে প্রিয় বস্তু দিয়ে শিব পূজো করলে মহাদেব অতীব প্রসন্ন হন ও তাকে বিশেষ ফল প্রদান করেন।
৫) পাকা আম ও কলা ফল হিসাবে শিবকে প্রদান করলে তিনি তুষ্ট হন ও মোখ্য দান করেন।
এই বিশেষ দিনটিতে নিষ্কাম বা সকাম মনোভাব নিয়ে যে ভক্ত এই মহান ব্রতটি পালন করেন সে তার ইচ্ছানুসারে ভোগ ও মুক্তি অবশ্যই লাভ করে। সকলের শরীরেই এই ব্রত পালন পরম মঙ্গলজনক।
কোন ধরনের শিবলিঙ্গ পুজো করলে কী ফল হয়
মহানির্বানতন্তে স্বয়ঙ শিব পার্বতীকে বলেছেন, দেবী , যে ব্যাক্তি আগে আমার লিঙ্গের অর্চনা না করে অন্য দেবতার পূজো করে, তার পূজো কোনো দেবতারা গ্রহণ করেন না।
পাথরে নির্মিত লিঙ্গ পূজো করলে মোখ্যলাভ ও আনুষঙ্গিক ভোগলাভ হয়।
পার্থিব লিঙ্গ পূজো করলেও ভোগলাভ ও আনুষঙ্গিক মুক্তি লাভ হতে পারে।
দারুময় লিঙ্গ ও বিল্ব-নির্মিত লিঙ্গ পূজো করলেও ওই একই ফল হয়।
পারদের শিবলিঙ্গ পুজোয় অতুল ঐশ্বর্য,
মুক্তার লিঙ্গ পূজো করলে সৌভাগ্য,
চন্দ্রকান্তমণি ( Moon Stone ) দিয়ে তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে দীর্ঘায়ু লাভ হয়।
সুবর্ণময় লিঙ্গ পূজো করলে সমস্ত কাম্য বস্তু লাভ করতে পারা যায়।
হীরে, স্ফটিক, গুর বা অন্ন প্রভৃতি দিয়ে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে পূজো করলে, জাগতিক সমস্ত কামনা পূর্ণ হয়।
গন্ধলিঙ্গ পূজো করলে মানুষের সৌভাগ্য বৃদ্ধি হয়।
( গরুড় পুরানের কথায়, দু ভাগ কস্তুরী, চার ভাগ চন্দন, তিনভাগ কুমকুম (জাফরান), চারভাগ কর্পূর---- এগুলো সব একত্র করে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করলে তাঁকে গন্ধলিঙ্গ বলে।)
পূষ্পময় লিঙ্গ পূজো করলে মুক্তিলাভ হয়ে থাকে।
পলিমাটি দিয়ে নির্মিত শিবলিঙ্গে বিবিধ কামনা সিদ্ধ হয়।
লবণের লিঙ্গে পূজো করলে সুখ ও সৌভাগ্য লাভ হয়।
পাশ-নির্মিত (রজ্জু বা দড়ি) লিঙ্গ পূজো করলে উচাটন কার্য হয়ে থাকে।
মূল দিয়ে (বৃক্ষাদির গোড়ার নিচের অংশ বিশেষ, শিকড় ) তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে শত্রুখয় হয়।
ধূলো দিয়ে নির্মিত শিবলিঙ্গ ভক্তিপূর্বক কেউ পূজো করলে তিনি বিদ্যাধর পদ ( স্বর্গের গায়করূপে দেবযোনিবিশেষ) প্রাপ্ত হয়ে পরে শিবসদৃশ হন।
গোময় (গোবর) দিয়ে তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে মানুষ লক্ষী লাভ করতে পারে।
যব, গোধূম (গম), ধান দিয়ে তৈরি শিবলিঙ্গ পুজোয় লক্ষী লাভ, পূষ্টি ও বঙশবৃদ্ধি হয়।
সিতাখন্ড (মধুজাত শর্করা) নির্মিত লিঙ্গ পূজো করলে আরোগ্য লাভ হয়।
লবণ হরিতাল (পারদযুক্ত পীতবর্ণ বিষাক্ত ধাতব পদার্থ বিশেষ) শুন্ঠী পিপ্পলী ও মরিচ মিশিয়ে তৈরি লিঙ্গ পূজো করলে বশীকরণ সিদ্ধ হয়।
গব্যঘৃত নির্মিত লিঙ্গ পূজো করলে বুদ্ধির তীক্ষ্মতা হয়।
লবণ নির্মিত লিঙ্গ পূজো করলে সৌভাগ্য বৃদ্ধি হয়।
তিল পিষে তৈরি শিবলিঙ্গ পূজোয় সমস্ত কামনা সিদ্ধ হয়।
তুষের লিঙ্গে মরণ কার্য।
ভস্ম দিয়ে তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে যাবতীয় অভিপ্রেত সিদ্ধ হয়।
গুড়ের শিবলিঙ্গ পুজো করলে প্রীতি বৃদ্ধি হয়।
গন্ধদর্ব্য ( চন্দনাদি ) দ্বারা নির্মিত লিঙ্গ পূজো করলে প্রভূত পরিমাণে গুনশালী হতে পারা যায়।
শর্করায় তৈরি শিবলিঙ্গ পূজোয় শত্রু সঙহার হয়ে থাকে।
কাঠের তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে দারিদ্র্য আসে।
দই দিয়ে তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে পূজোয় কীর্তি লখ্মী ও সুখ সৌভাগ্য বৃদ্ধি হয়।
ধানের তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে ধানলাভ হয়।
ফলের তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে বললাম হয়।
ফুলের তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে দিব্যভোগ ও পরমায়ু লাভ হয়।
ধাত্রীফলে নির্মিত শিবলিঙ্গ পূজো করলে মুক্তি লাভ হয়।
ননী দিয়ে তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে কীর্তী ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি হয়।
দূর্বাকান্ড দিয়ে প্রস্তত শিবলিঙ্গ পুজো করলে নিবারণ হয় অপমৃত্যু।
কপূর্রের তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে ভোগ ও মোখ্যলাভ হয়।
মুক্তা নির্মিত লিঙ্গ পূজোয় সৌভাগ্য উদয় হয়।
স্ফটিক লিঙ্গে সর্বকামনা সিদ্ধি হয়।
সোনার তৈরি লিঙ্গ পূজো করলে অতুল ঐশ্বর্যভোগ হয়।
কাঁসা ও পিতল মিশ্রিত শিবলিঙ্গ পূজো করলে শত্রু বিনাশ হয়।
শুধু কাঁসার তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে কীর্তিলাভ হয়।
শুধু পিতলের তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে ভোগ ও মোখ্যলাভ হয়।
রাঙ্ বা সিসা কিঙবা লোহার লিঙ্গে পূজো করলে শত্রু নাশ হয়।
অষ্টধাতুর লিঙ্গ পূজো করলে কুষ্ঠরোগ নিবারণ হয়। এই লিঙ্গ পূজো করলে সমস্ত কামনাসিদ্ধি হয়।
সোনা, রূপা ও তামা মিশিয়ে তৈরি শিবলিঙ্গ পুজো করলে বিঞ্জান বিষয়ে সিদ্ধিলাভ হয়।
সঙ্সার ক্লেশদগ্ধম্য ব্রতনানের শঙ্কর ।
প্রসীদ সুমুখো নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদ ভব।।











































