রামকৃষ্ণ শব্দের অর্থ কি ??
যে নামকে অবলম্বন করে জীবনযাপন করতে হবে, সে নামের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা বিশেষ প্রয়োজন। কারণ এতে ঘনিষ্ঠতা বেশি হয়। কর্ম , উপাসনা, ,জপ ও ধ্যানের দ্বারা আমরা যার সাথে মিলিত হতে চাই, তিনি কে, কিবা তাঁর স্বরূপ --- এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ পরিষ্কার ধারনা থাকলে জীবনে রসানুভূতি হয়।
শব্দের বা নামের সাথে অর্থের এক সম্বন্ধ রয়েছে। যে কোনো শব্দের অর্থ সাধারণত দুই প্রকার----- শব্দার্থ ও মর্মার্থ। " রামকৃষ্ণ " শব্দের শব্দার্থ ...... রাম কৃষ্ণরূপ দেহধারী মানুষবিশেষ। ইনি_____ক্ষুদিরাম ও চন্দ্রমণির পুত্র। ইনি এক কালে মা ভবতারিণীর পূজারী ছিলেন। এই " রামকৃষ্ণ " শব্দের মর্মার্থ হল ...... ইনি সচ্চিদানন্দ, স্বতন্ত্র ঈশ্বর, বাতার্বরিষ্ঠও বলা যেতে পারে। নাম জপের সময় অর্থের বোধ হলে বৈধতা বিশেষভাবে উপলব্ধি করা হয় এবং ভিতরে আনন্দ হয়।
কাশীর এক বিখ্যাত পন্ডিত -সন্ন্যাসী, স্বামী ভগতান্দ গিরি, রামকৃষ্ণ শতাব্দী উপলক্ষে " রামকৃষ্ণ " নামের গূঢ়ার্থ উল্লেখ করেন ______এই রামকৃষ্ণ নাম সাধারণ দৃষ্টিতে দেখিতে শুনিতে ছোট বলিয়া মনে হয়, কিন্ত বিচার দৃষ্টি দ্বারা দেখিলে ইহাতে বড়ই রহস্য ভরা রহিয়াছে দেখা যায়। যোগিজন যাঁহাতে রমণ করেন তিনিই রাম এবং যিনি ভক্তগনের দুঃখ বা পাপ আকর্ষণ করিয়া নষ্ট করিয়া দেন , অথবা স্বীয় ভক্তগণের মন নিজের দিকে আকৃষ্ট করিয়া স্বীয় ভক্তিতে তল্লীন করিয়া দেন, তিনিই শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণ ভূ-ভার দূর করার জন্য সেই যুগে অবতীর্ণ হতে পেরেছিলেন। তাঁহাদের একত্র সমাবেশ এই রামকৃষ্ণ নাম হয়েছে।
রাম নামে বহু রহস্য আছে। যখন রাজা দশরথের গৃহে রাম অবতার রূপ ধারন করিলেন, তখন রাজা কুলগুরু মহর্ষ বশিষ্ঠকে ডাকাইয়া আনিয়া কহিলেন.... "হে গুরো, এই বালকের নামকরন করুন।" বশিষ্টজী " রাম " এইরূপ ছোট একটি নাম রাখিয়া দিলেন । তখন দশমরথ ও মন্ত্রিগন বলিলেন যে এ তো অতি ক্ষুদ্র নাম। কোনও "দুগুন" নামকরণ চাই, যে নাম রাজচক্রবর্তী পুত্রের যোগ্যতানুযায়ী হতে পারে। ইহাতে বলিলেন , " হে রাজন "আপনি রাম নামের মহিমা জানেন না। ' রাম ' শব্দে যে "রা" অক্ষর আছে তাহা হইল "নমো নারায়ণয় " -----ুইহা একটি সুপ্রসিদ্ধ বৈষ্ঞবমন্ত্রের প্রাণ। ইহা হইতে 'রা' অক্ষর পৃথক করিলে " নমো নয়নায় " এইরূপ হইয়া যায়। তখন ইহার অর্থ হয় _______ " রূপরসাদি বিষয়কে নমস্কার "। এই রকম অনর্থ "রা" অক্ষর পৃথক করিলে হয়।
আবার কৃষ্ণ পদের আধ্যাত্মিক অর্থ ^^^^^
----কৃষ্ঞ ধাতুর অর্থ ত্রিকালারাধ্য-স্বরুপ ব্রহ্ম। সৎ এবং আনন্দের যে অভেদ সদানন্দস্বরূপ ব্রহ্ম, তাহাই হুইল কৃষ্ণ শব্দের অর্থ। যে সদ্-রূপ ব্রহ্মকে বাদ দিলে কোনোও বস্তুকে 'অস্তি' (আছে) এরূপ বলাই চলে না, যে আনন্দের বাদ দিলে আমরা কোনও বস্তুকে চাইতেই পারি না, -----সেই সৎ ও আনন্দ (সুখ) ই হইতেছে "কৃষ্ণ " শব্দের অর্থ। ঐ "কৃষ্ণ " যে " রামকৃষ্ণ " নামে প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে তাহার মহত্ব বর্ণনাতীত।
এই ধরনের "রাম" শব্দের ম-কার " নম: শিবায়' এর মন্ত্রের জীবন। " নম: শিবায়" মন্ত্রের অর্থ হল _____ কল্যাণস্বরুপ শিবের জন্য প্রনাম। কিন্ত ম- কার বাদ দিলে হয় " ন শিবায়" ----- এর অর্থ হল কল্যাণের জন্য নহে অর্থাত দু:খের জন্য >>>>>> এই প্রকারে বশিষ্টজী " রাম " নামের রহস্য বুঝাইয়া দিলেন, তখন দশরথ অত্যন্ত প্রসন্ন হইলেন। ঐ "রাম" নাম শ্রীরামকৃষ্ণের নামের মধ্যে রহিয়াছে।
শরীর ত্যাগের দু দিন আগে শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামীজিকে বলেছিলেন " সত্যি সত্যিই ______ যে রাম, যে কৃষ্ণ, সে-ই ইদানীং রামকৃষ্ণ। তবে তোর বেদান্তের দিক দিয়ে নয়। স্বামী তুরিয়ানন্দ ঠাকুরের এই বিখ্যাত উক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন ' এর অর্থ এই যে , বেদান্তের অদ্বৈতমতে বলিয়া থাকে যে ..... জীব- ব্রহ্ম এক।ইহার অর্থ কেহ কেহ করে থাকেন যে, সকলেই রাম--- কৃষ্ণ ইত্যাদি । তাঁহাদের বিশেষত্ব নাই।
অদৈত্বমতে জীব সাধন, ভজন, সমাধি প্রভৃতির দ্বারা অঞ্জান দূর করিয়া ব্রহ্মভাব লাভ করিয়া ব্রহ্মের সহিত অভিন্ন হইতে পারে ; কিন্ত সহস্র চেষ্টা করিয়াও জীব ঈশ্বর হইতে পারে না। ঈশ্বর যিনি তিনি চিরদিন ঈশ্বর। তিনি মনুষ্যত্ব ধারন করিয়া জীবের ন্যায় প্রতীয়মান হইলেও ঈশ্বর থাকেন, কখনো জীব হন না।
সারদা নামের রহস্য l
সা--সামীপ্যে l
স অর্থাৎ সাধনা, সহিষ্ণুতা, সেবা, সমদৃষ্টি, সদাচার, সরলতা।এইসব দৈবী গুনাবলীর প্রতীক যিনি এবং যাঁর ধ্যানে সালোক্য, সামীপ্য, সারুপ্য ও সাযুজ্য মুক্তি হয় l
র--রক্ষণে l
কমক্রোধাদি ষড়রিপু, বিপদ-আপদ, আধি-ব্যাধি, রোগ-শোক-জরা-মৃত্যু থেকে যিনি রক্ষা করেন l
দা-দানে l
জ্ঞান-ভক্তি- বিবেক- বৈরাগ্য, ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ, সুখ-সম্পদ, আনন্দ যিনি দান করেন l
_______যিনি জীবের ভরণ, পোষণ ও রক্ষা করেন l
তিনিই সারদা।
শ্রীরামকৃষ্ণের দেহ গঠনের বৈশিষ্ট্য <<××>>
★শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতিকৃতিটি ভালো করে লক্ষ্য করলেই যেকোনো ভক্তের চোখে কতকগুলি বৈশিষ্ট্য নজরে পড়বে ।
➪ডানদিকের ভ্রু এবং চোখ বামদিকের ভ্রু চোখের থেকে লম্বা।
➪ ডানদিকের এবং বামদিকের কান ― দুটি দুইরকমের আকৃতি।
➪দুটি কানই চোখের সমতলের চেয়ে নীচে এবং দুটি ভিন্নতলে অবস্থিত।
➪ডানদিকের কাঁধ বামদিকের কাঁধের চেয়ে অনেক বেশি চওড়া।
➪ডানহাতের ওপরের দিকের বেড় বামহাতের বেড়ের চেয়ে বড়।কনুই থেকে হাতের পাতা পর্যন্ত ডানদিকের অংশ বামদিকের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড় বলে মনে হয়।ডানহাতের গঠন পুরুষালি, কিন্তু বামহাতের গঠন স্ত্রী অঙ্গসুলভ।
➪ডানদিকের স্তন পুরুষদের মত কিন্তু বামদিকের স্তন স্পষ্টতই নারীসুলভ।
➪ডানহাঁটু বামহাঁটুর চেয়ে বেশি চওড়া, এবং হাঁটু থেকে ডানপায়ের পাতা পর্যন্ত গঠন পুরুষালি। কিন্তু বামপায়ের গঠন স্ত্রী অঙ্গসুলভ।
★উপরিক্ত বৈশিষ্ট্যগুলি থেকে লক্ষ্য করা যায় ঠাকুরের এই মূর্তিটি স্পষ্টতই অর্ধনারীশ্বর মূর্তি।
★ঠাকুর নিজে তাঁর এই প্রতিকৃতি দেখে বলেছিলেন― এ মোহযোগীর মূর্তি।
🙏💐🌻🌼🌺🌸💐🌼🌻🏵️🌺🌸💐🙏


No comments:
Post a Comment