Sunday, 28 March 2021

তোমাদের চৈতন্য হোক


শ্রীরামকৃষ্ঞের   ধর্ম  ::





মনের তিনটি স্তর - পশু, মানুষ, দেবতা। 

পশুত্ব থেকে দিব্য চেতনায় উওরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ।

পশু ছিনিয়ে নেয় খাবার, মানুষ ভাগ করে খায় আর দেবতা আগে অন্যকে দিয়ে পরে নিজে খান (ঠিক যেন সংসারে মায়ের মতন)। পশু কাজ করে পরিবেশের ধাক্কায়; জীবনে কোনো লক্ষ্য নেই, আছে অন্ধ আবেগ। মানুষ সীমাবদ্ধ হয়েও তাকে অতিক্রম করতে চায়। সে সৃষ্টি করতে পারে, আবার ধ্বংসও। আর দিব্য চেতনা কাজ করে বৃহত্তর সত্তা নিয়ে; সে অন্তর সম্পদে দীপ্তিমান।

জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে দিব্য চেতনার প্রয়োজন। পশুর আনন্দ সীমিত---আহার-নিদ্রা-মৈথুন। মানুষের আনন্দ আরো বেশি। সে ছবি আঁকতে পারে, গান গাইতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে। 

আর দিব্য চেতনা? সে বাঁচে রাজার মতো, সে শুধু দেয়। দৈনন্দিন জীবনের জীবনে অসীমের স্পর্শ অনুভব করে। দিনযাপনের গ্লানি থেকে জীবন হয়ে ওঠে আনন্দের নিত্য উৎসব।

পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্বে, মনুষ্যত্ব থেকে দেবত্বে যাত্রাই ধর্মসাধনা। জীবন থেকে মহাজীবনের দিকে যাওয়াই তীর্থযাত্রা।

তুমি হিন্দু কি মুসলমান, বেথলেহেম যাচ্ছ কিংবা অমৃতসর, তুমি নারী অথবা পুরুষ, ভারতীয় কি আমেরিকান, এটা গৌণ। তোমার চেতনার উত্তরণ হচ্ছে কি?

এটাই শ্রীরামকৃষ্ণের ধর্ম। 

সাধারন জীবনের কাছে ধর্ম হল আচার -বিশ্বাস - ট্র্যাডিশন -শাস্ত্র। দিব্য জীবনের চোখে ধর্ম হল মনের রূপান্তর, চেতনার উত্তরণ ।

তাই ঠাকুরের আশীর্বাদ, "তোমাদের চৈতন্য হোক।"


স্বামী বিরেশ্বরানন্দের কিছু কথা  ::


শ্রীভগবানের_নাম_ভগবানের নাম আবৃত্তি করার নাম জপ ৷ আমাদের মন যখন জপের দ্বারা একাগ্র হয় তখন এটাই শেষ পর্যন্ত ভগবদুপলব্ধির সহায়ক হয়। নিরন্তর শ্রীভগবানের নাম জপ ঈশ্বরানুভূতির প্রধান অস্ত্র ৷শ্রীভগবানের নাম মাহাত্ম্য সম্বন্ধে একটি সুন্দর পৌরাণিক গল্প আছে :একবার সত্যভামা সংকল্প করলেন যে শ্রীকৃষ্ণকে সোনায় ওজন করে সেই পরিমাণ সোনা দান করবেন ৷ শ্রীকৃষ্ণকে তুলাদণ্ডের এক পাল্লায় বসিয়ে অপরটিতে সত্যভামা সোনা চাপালেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের পাল্লা ভারী রইল ৷ সব সোনা তিনি পাল্লায় চাপিয়ে দিলেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের পাল্লা মাটি থেকে উঠল না ৷ তিনি হতভম্ব হয়ে রুক্মিণীর নিকট গিয়ে সব খুলে বলে তাঁর সাহায্য চাইলেন ৷রুক্মিণী বললেন — "ঠিক আছে, ভেবো না ৷ আমি আসছি ৷" তারপর তিনি এলেন এবং একটি তুলসীপত্র নিয়ে তাতে শ্রীকৃষ্ণনাম লিখে যে পাল্লায় সোনা চাপানো ছিল তাতে রাখলেন এবং তৎক্ষণাৎ পাল্লা বিপরীত দিকে ঝুঁকে পড়ল ৷ এতে নামের মাহাত্ম্য বোঝা যায় ৷নাম ও শ্রীভগবান — একই ৷ এই বিশ্বাস নিয়ে যদি আমরা শ্রীভগবানের নাম জপ করি তবে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে সমর্থ হব, কারণ তাঁকে প্রকাশ করার ক্ষমতা এতে রয়েছে ৷       


মা সারদা সম্পর্কে কিছু কথা ::

স্বামী  চেতনানন্দ মহারাজ ~~


   এক আশ্চর্য জীবনের বুদ্ধিগ্রাহ্য  ব্যাখ্যা ****

🌼🌼🌸🌸🌼🌼🌷🌹

আমেরিকার সেন্ট লুই শহরের বেদান্ত সোসাইটির স্বামী চেতনানন্দ শ্রীশ্রীমা সারদার একটি জীবনী আমাদের উপহার দিয়েছেন। লেখক এক অসাধারণ দম্পতির আধ্যাত্মিক জীবনের কথা ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তুলেছেন। এমনিতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদা দেবীর দাম্পত্যজীবনের কথা সাধারণ মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধিতে হৃদয়ঙ্গম করা কঠিন।  স্বামীচেতনানন্দ মহারাজ চেষ্টা করেছেন এক জটিল সম্পর্ককে যথাসাধ্য সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করতে।


তিন বছরের বালিকা শ্রী মা সারদা দেবীর সঙ্গে এক গানের আসরে প্রথম দেখা ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের। নবীন গায়ক দলের দিকে মাসারদার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তুমি কাকে বিয়ে করতে চাও’। বালিকা তার ছোট্ট তর্জনী অন্য দিকে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের দিকে নির্দেশ করে বলল— একে। এরপর পাঁচ বছরের বালিকা মা সারদা দেবী বিবাহ হল চব্বিশ বছরের যুবক  ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী কালীর মন্দিরের পূজারি।

স্বামী চেতনানন্দ মহারাজ বুঝিয়ে বলছেন, এ ধরনের বাল্যবিবাহ সেকালে প্রচলিত ছিল। তবে, একে বলা উচিত বাগ্‌দান। কারণ, কন্যা দেহে-মনে সাবালিকা হওয়ার পরই তাকে শ্বশুরগৃহে পাঠানো হত। কিন্তু ঠাকুর ও শ্রীমায়ের বিবাহ এক আধ্যাত্মিক বন্ধন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর থেকে কামারপুকুরে যখন আসেন, মা-কে তাঁর পিতৃগৃহ জয়রামবাটী থেকে আনানো হয়। ঠাকুর তাঁকে নিজের হাতে একটু একটু করে তাঁর আধ্যাত্মিক সঙ্গিনী হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি জানেন, রামকৃষ্ণ মিশনের দায়িত্ব একদিন নিতে হবে শ্রী মা দেবীকে। ঠাকুর নিজেকেও পরীক্ষা করেন।শ্রী মা  সারদা অন্তরে অতি পবিত্র।  শ্রী মাসারদার সঙ্গ কখনও তাঁর মনে সাধারণ মানুষের কাম-ভাব জাগ্রত করে না।


ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ঈশ্বরকে সাধনা করেছেন শক্তিরূপিণী মাতৃমূর্তিতে। শ্রী মা সারদা দেবী তাঁর কাছে জীবন্ত ভগবতী। সাত বছর বয়সে, নয় বছর বয়সে, চোদ্দো বছর বয়সে সারদা বার বার রামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে এসেছেন। রামকৃষ্ণের হাতে তাঁর আধ্যাত্মিক শিক্ষা চলেছে অনুক্ষণ।


সারদার বয়স যখন আঠারো, তখন তিনি পদব্রজে জয়রামবাটী থেকে দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুর রামকৃষ্ণের কাছে পৌঁছলেন। পথকষ্টে শরীর-স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ল। অসুস্থ অবস্থায় এসে পৌঁছলেন। রামকৃষ্ণ প্রাণ দিয়ে স্ত্রীর শুশ্রূষা করলেন, পথ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ভাল করে তুললেন। সেই সময় ঘটল তাঁদের যুগ্ম আধ্যাত্মিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঠাকুর রামকৃষ্ণ তাঁর স্ত্রীকে জগজ্জননী রূপে পূজা করলেন। এর অন্তর্নিহিত মাহাত্ম্য উপলব্ধি করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। চেতনানন্দ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। সারা জীবন ঠাকুর ঈশ্বরকে মাতৃরূপে আরাধনা করেছেন। সেই মাতৃরূপিণী শক্তিকে তিনি সারদাতে আরোপিত করলেন, তারপর তাঁর পদপ্রান্তে নিজের সব সাধনা উৎসর্গ করে দিলেন। ফলহারিণী কালীপূজার পুণ্যদিনে ঠাকুর এই ষোড়শী পূজা করেছিলেন। সারদা তখন ষোড়শী নন, অষ্টাদশী।


শক্তিরূপিণী মায়ের এক নাম ষোড়শী। ষোড়শী অবশ্য রাজরাজেশ্বরী এবং ত্রিপুরসুন্দরী নামেও পরিচিত। ঠাকুরের এই ষোড়শী পূজা, নিজের স্ত্রীকে জগজ্জননী রূপে আরাধনা অধ্যাত্মজগতে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। চেতনানন্দ বলছেন, কোনও কোনও অবতার বিবাহ করেছেন, যেমন— রামচন্দ্র, রামকৃষ্ণ। কোনও কোনও অবতার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেছেন, যেমন— বুদ্ধ, চৈতন্য। রামকৃষ্ণ স্ত্রীকে পরিত্যাগ করলেন না, তাঁকে শক্তি রূপে আরাধনা করলেন। এ এক বিরল, ব্যতিক্রমী ঘটনা।


শ্রী সারদা দেবী অ্যান্ড হার ডিভাইন প্লে, স্বামী চেতনানন্দ। বেদান্ত সোসাইটি অব সেন্ট লুই।বইয়ের বিবেকানন্দ ও সারদা অধ্যায়টি অত্যন্ত মনোজ্ঞ। বিবেকানন্দের মতো ঠাকুর-অন্ত প্রাণ ভক্ত বার বার বলেছেন, মায়ের স্থান ঠাকুরেরও উপরে। হঠাৎ একটু খটকা লাগতে পারে। রামকৃষ্ণের আদর্শ সারা পৃথিবীতে প্রচার করার ভার যে বিবেকানন্দের উপর ঠাকুর দিয়ে গিয়েছেন, তাঁর মুখে এ কী কথা? কিন্তু বিবেকানন্দ উপলব্ধি করেছেন, মায়ের মাধ্যমে ঠাকুর স্বয়ং নির্দেশ দিচ্ছেন। বিবেকানন্দ তাই গুরুভাইদের ডেকে ডেকে বলছেন, ওরে, তোরা এখনও মাকে চিনলি না।


বিবেকানন্দ বিশ্বজয় করে ফিরে এলেন দেশে। পার্লামেন্ট অব রিলিজিয়নে তাঁর বক্তৃতা সকল শ্রোতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেলল। ফিরে আসার পর মায়ের সঙ্গে তাঁর একটি সুন্দর সাক্ষাৎকারের বিবরণ আছে। স্বামীজি সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করলেন মায়ের পায়ে। কত দিন পরে তাঁকে দেখে মায়ের চোখে পুত্রস্নেহ। উপস্থিত সকলে এক অপূর্ব স্বর্গীয় পরিবেশ উপলব্ধি করলেন।


পাশ্চাত্যের রমণীদের সঙ্গে মায়ের সখ্যের উপর আছে কৌতূহলজনক আলোচনা। গ্রামের মেয়ে সারদা, এক বর্ণ ইংরেজি জানেন না। কিন্তু চমৎকার আলাপচারিতা চালিয়ে যান সারা বুল, মিস ম্যাকলয়েড বা সিস্টার নিবেদিতার সঙ্গে। রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে, কিন্তু আহার করেন এঁদের সকলের সঙ্গে। সিস্টার নিবেদিতা বলেন, মা, তুমি আমাদের কালী। মা বলেন, না না, তবে তো আমাকে জিভ বার করে রাখতে হবে। নিবেদিতা বলেন, তার কোনও দরকার নেই। তবু তুমি আমাদের কালী, আর ঠাকুর হলেন স্বয়ং শিব। মা মেনে নেন। নিজ হাতে রঙিন উলের ঝালর দেওয়া হাতপাখা বানিয়ে দেন নিবেদিতাকে। নিবেদিতার সে কী আনন্দ এমন উপহার পেয়ে, সকলের মাথায় হাতপাখা ছোঁয়াতে থাকেন। মা বলেন, মেয়েটা বড় সরল। আর বিবেকানন্দের প্রতি আনুগত্য দেখবার মতো। নিজের দেশ ছেড়ে এসেছে গুরুর দেশের কাজে লাগবে বলে। নিবেদিতার ভারতপ্রেম অতুলনীয়।


ছোট একটি ঘটনার বর্ণনায় ঠাকুরের মানবিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন চেতনানন্দ। মা চন্দ্রমণির মৃত্যুসংবাদে ঠাকুর হাউহাউ করে কাঁদছেন, ভাগ্নে হৃদয় বলল শ্লেষের স্বরে— আপনি না সন্ন্যাসী, এত বিচলিত হওয়া আপনাকে সাজে! রেগে উঠে ঠাকুর বললেন, হৃদে, তুই চুপ কর। সন্ন্যাসী হয়েছি বলে তো আর হৃদয়হীন পশু হয়ে যাইনি।


মা সারদা ও তাঁর লীলার কথা অথবা রামকৃষ্ণ-সারদার সম্পর্কের কাহিনি সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন, সাংসারিক মানুষের কাছে ব্যাখ্যার অতীত। বিশ্বাস ও উপলব্ধির কথা। ভক্ত বলতে পারেন— আমি মানি তাই মানি, আমার অন্তরে তাঁর বাঁশরি শুনেছি তাই বঁধু আমি মানি। এক আশ্চর্য রমণীর ব্যাখ্যার অতীত জীবনকথা লেখক চেতনানন্দ বুদ্ধিগ্রাহ্য করে পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সেখানেই লেখকের কৃতিত্ব।


আজও যেখানে অনেক মন্দিরে মেয়েদের প্রবেশাধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়, সেই পশ্চাৎপটে এক ব্যক্তিত্বময়ী চরিত্র মা সারদা। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন এক কঠিন সময়ে, এই রমণীর পায়ে মাথা নত করতেন বিশ্ববিজয়ী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরীর আসনে বসিয়ে পূজা করছেন শ্রীরামকৃষ্ণ, এমনই এক প্রেরণাময়ী নারীচরিত্র বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার কঠিন ব্রতে লেখক যথেষ্ট সফল, বলা যায়।

#স্বামী_চেতনানন্দমহারাজ

#২৭শেমার্চ২০২১ 


   দানাকালীকে  ঠাকুরের  কৃপা  ~~ 


শ্রী কালীপদ ঘোষ (দানাকালী)


ভক্ত কালীপদ ঘোষ ( রামকৃষ্ণমন্ডলীতে 'দানাকালী' নামে পরিচিত) পরমহংস দেবকে সাক্ষাৎ মুক্তিদাতা ভগবান মনে করতেন।গিরিশচন্দ্র ঘোষ ই তাকে ঠাকুরের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন ।দানাকালী ছিলেন ভারী মাতাল। বাড়িতে পয়সাকড়ি কিছুই দিত না। সব মদ খেয়ে উড়িয়ে দিত। কিন্তু তার স্ত্রী ছিল খুব সতী -সাধ্বী । তার স্ত্রী ঠাকুরের কাছ থেকে স্বামীর মন ভালো করার জন্য ঔষধ চেয়েছিল। কিন্তু ঠাকুর তাকে ঔষধ না দিয়ে মাতা ঠাকুরাণীর কাছে পাঠিয়ে দেন। মাতা ঠাকুরাণী আবার তাকে ঠাকুরের কাছে পাঠিয়ে দেন। এমনভাবে তিন তিন বার তাকে যাওয়া আসা করতে হয়েছিল। শেষে মাতা ঠাকুরাণীর কাছে একটি ইঙ্গিত পেলেন।

দানাকালীর   স্ত্রী


একটা পূজো করা বেলপাতায় ঠাকুরের নাম লিখে মাতা ঠাকুরাণী দানাকালীর স্ত্রীকে দিয়েছিলেন আর তাকে খুব নাম করতে বলেছিলেন । মাতা ঠাকুরাণীর কথা মতো দানাকালীর স্ত্রী বারো (১২ ) বছর ধরে তার নাম করেছিল। তাই তো ঠাকুর দানাকালীকে দেখামাত্র বলেছিলেন, " বৌ টাকে বারো বছর ভূগিয়ে তবে এইখানে এলি।"এইবার দানাকালী চমকে উঠল। কিন্তু কিছু বলল না। তাই দেখে ঠাকুর বললেন, " তোমার কি চাই বল না গো?"

কিন্তু দানাকালী এমন ছ্যাচড় যে ,ঠাকুরের সামনে বলল ," একটু মদ দিতে পারবেন"? 

ঠাকুর হেসে বলল, " তা দিতে পারি ।তবে এখানকার মদে বড্ড নেশা হয় যে, তুমি সইতে পারবে না।"

দানাকালী ভাবল বোধহয় এখানে সত্যিকারের মদ পাওয়া যায়, তাই বলল," খাঁটি বিলিতী মদ,তাই একটু দিন না,গলাটা ভিজিয়ে নিই। " 

ঠাকুর হেসে বললেন,

" এ বিলিতী মদ নয় গো,বিলিতী মদ নয়।একদম দেশী কারণ -বারি আছে। এ মদ যাকে তাকে দেওয়া যায় না। সবাই এই মদ সহ্য করতে পারে না।এখানকার মদ পেলে বিলিতী মদ ভালো লাগে না। তুমি কি ঐ মদ ছেড়ে এখানকার মদ ধরতে রাজি আছো?"

 দানাকালী কি যে ভাবলো কে জানে? হয়তো তার উদ্ধার হবার ছিল। তাই সে বলে ফেলল,

" সেই মদ আমায় দিন ,যা পেলে আমি সারাজীবন নেশায় বুঁদ হয়ে থাকবো।"

এইকথা শোনার পর ঠাকুর তাকে ছুঁয়ে দিলেন । তার পরশ পেয়ে দানাকালী এমন কাঁদা কেঁদেছিলেন কেউ তাকে চুপ করাতে পারে নি।

অন্য একদিনের ঘটনা:

দানাকালী  একদিন ঠাকুরকে নিয়ে নৌকাযোগে দক্ষিণেশ্বর থেকে নিজের  বাড়ির দিকে যাত্রা করেন। নৌকা যখন মাঝগঙ্গায় হঠাৎ ঠাকুরের পা জড়িয়ে ধরে মুক্তি কামনা করেন কালীপদ ঘোষ। দয়াপরবশ হয়ে ভক্তবাঞ্ছা কল্পতরু ঠাকুর তাঁর জিহ্বায় একটি মন্ত্র লিখে দিলেন এবং জপ করতে বললেন।কালীবাবু বললেন ;" আমি তা চাইনা।"ঠাকুর  বলেন :" তবে কি চাস ?" কালীবাবু বলেন "আমি চাই , আমি যখন চলে যাব, সেসময় জগৎ অন্ধকার দেখব , সেই ভীষণ অন্ধকারে বাম হাতে আলো আর ডান হাতে আমার হাত ধরে আপনি নিয়ে যাবেন।আমার এই প্রার্থনা আপনাকে পূরণ করতেই হবে।" কল্পতরু ঠাকুর ভক্তের প্রতি সদয় হয়ে বললেন--" হবে ,হবে তাই হবে।মাঝগঙ্গার মধ্যে এনে এইসব কান্ড। "

          শেষের দিনে দেখা গেল, সেই শেষ মুহূর্তে ধ্যাননেত্রে কালীবাবু তাঁর ডান হাত উপরে তুললেন এবং সেই অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরমভক্তকে পরমহংসদেব হাত ধরে পরমধামে নিয়ে গেলেন।  শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন;"  যাঁর শেষজন্ম সেই এখানে আসবে ।" অবতারের সান্নিধ্যে এসে ভক্ত কালীপদ ঘোষ মুক্ত হয়ে গেলেন।











No comments:

Post a Comment