$$ সন্ন্যাসী ও রাজার অপ্রকাশিত বন্ধন ##
 |
পরিব্রাজক বেশে স্বামীজির প্রথম ছবি |
 |
| মহারাজ অজিত সিংহ |
বর্হিবঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের কর্মকান্ডের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল রাজস্থানর খেত্রী। তাঁর জীবনের এক অমোঘ শীর্ষ বিন্দুর সূচনা হয়েছিল এখানে। এই ক্ষুদ্র এলাকাটিতে পরিব্রাজক জীবনের সব থেকে বেশি সময় কাটিয়েছিলেন। শিকাগো ধর্মসভায় যোগদানের উদ্যোগ, রামকৃষ্ণ মিশন স্থাপনের ভাবনার অঙ্কুরোদ্গম, মায়ের প্রতি গুরু দায়িত্ব পালন, সবকিছুতেই স্বামীজি পাশে পেয়েছিলেন খেতরির মহারাজাকে। মহারাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকারে তাঁর বক্তব্য এই সত্যকে সমর্থন করে ........ " আমি ভারতের জন্য সামান্যতম যা কিছু করেছি তা সম্ভব হত না , যদি মহারাজ অজিত সিংহের সাথে দেখা না হত। অজিত সিংহ ও আমি ------- আমরা দুই আত্মা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে মানব কল্যাণের মতো মহৎ কাজ করবার জন্যই জন্মগ্রহণ করেছি। আমি তাকে ভাল না বেসে পারি না ___ তিনিও তাই। এ পূর্বজন্মের সুকৃতি। আমরা একজন আরেকজনের পরিপূরক। ওই মানুষটির মধ্যে যে শক্তি লুকিয়ে আছে তা এখনও সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারিনি। প্রভু তা আমাকে দেখিয়েছেন। " তাঁর মৃত্যুর পর স্বামীজি লিখেছিলেন " আমি কখনও তাঁর অনুগ্রহের ঋণ শোধ করতে পারব না। আমার বিচার ধারার প্রতিটি শব্দ তিনি নি:স্বার্থ পরিশ্রমে লিখে রেখেছেন। " তাই মনে হয় বিবেকানন্দ চর্চার পরিধি মধ্যে মহান পুরুষ খেতরির মহারাজ অজিত সিংহের আলোচনা বাদ দিলে স্বামীজি চর্চায় কিছুটা ফাক থেকে যায়।
 |
| শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির |
 |
| দূর থেকে গোটা রাজপ্রসাদ |
 |
| রামকৃষ্ণ মিশনের সন্মুখভাগ |
প্রদীপের আলো পেতে হলে প্রয়োজন প্রদীপের আগুন আর তেল। স্বামীজির নিজের মধ্যেই ছিল আগুন ----- আর প্রদীপ হলেন মহারাজ অজিত সিংহ। যাঁর সান্নিধ্য , যাঁর জীবনের প্ররণা স্বামীজির জীবনকে এক আশ্চর্য উদভাসন দিয়েছিল। স্বামীজিও শেষ পর্যন্ত নির্ভর করেছিলেন মহারাজের বিস্তৃত পরিসরে।
 |
| পাহাড়ের কোলে সূর্য্যাস্ত |
 |
| প্রাচীরের দেওয়ালে বিভিন্ন ফলক |
 |
| বাগান ও কৃত্রিম ঝর্না |
১৮৮৮ সালে পরিব্রাজক রুপে স্বামীজি বেরিয়ে পড়েছিলেন ভারত ভ্রমণের জন্য। লক্ষ্য..... মানুষের ঈশ্বরকে দেখার জন্য, চেনার জন্য। দীর্ঘ আড়াই বছর বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমনের পর দিল্লীর ঐতিহাসিক স্থানগুলি দেখে তিনি চলে যান ঐতিহাসিক আলোয়ারে। সেখান থেকে যান জয়পুরে। সেখানে এক সংস্কৃত পণ্ডিতের কাছে অধ্যায়ন করেন পানিনির অষ্টাধ্যায়ী। তারপরের গন্তব্য ছিল আজমীর। সেখানকার বিখ্যাত দরগা ও আকবরের প্রাসাদ দেখে তিনি চলে যান মাউন্ট আবুতে। সেখানেই মুখোমুখি হয়েছিলেন বিশ্ববরেণ্য এই সন্ন্যাসী এক মহারাজের সাথে। সেদিন সেই মহারাজ মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সেই তরুণ সন্ন্যাসীর পবিত্র তেজদীপ্ত রুপে, সম্যক ত্যাগ , অনন্ত ঞ্জানের গভীরতায় এবং অন্তলীন দার্শনিকতার অসীমতায়। সেই মহারাজা হলেন রাজস্থানের একটি রাজ্য খেতরীর মহারাজা অজিতেন্দ্রিয় সিংহ। তাঁর আমন্ত্রণে বিবেকানন্দ খেতরিতে আসেন। খেতরিতেই পন্ডিত নারায়ণদাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় এবং পানিনির সূত্রের মহাকাব্য অধ্যায়ন করেন। খেতড়িতে আড়াই মাস কাটানোর পর আবার রাজস্থানের অন্য শহরে এবং মহারাষ্ট্রের উদ্দেশ্য রওনা হন।

 |
| অজিত-বিবেক মিউজিয়াম |
 |
| মিশনের বর্তমান প্রবেশ পথ |
 |
| ছাদ থেকে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ পরিসীমা |
বিবেকানন্দ তিনবার খেতড়ি গিয়েছিলেন। শিকাগো যাবার আগে ১৮৯১ ও ১৮৯৩ সালে। শিকাগো থেকে ফেরার পর ১৮৯৭ সালে রাজার উদ্যোগে খেতরীতে তাঁর সম্বর্ধনায়। তিন দফায় মোট ছিলেন ১২১ দিন। আর তার প্রতিষ্ঠিত বেলুড় মঠে ছিলেন ১৭৮ দিন। বেলুড়ের পর খেতরীতেই বেশি সময় কাটিয়েছেন বিবেকানন্দ। মহারাজা স্বামীজিকে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে যাবার জন্য অর্থ সাহায্য করেছিলেন। যাবার আগে স্বামীজির জন্য বিশেষ পোশাক, পাগরী ও জাহাজের টিকিটের বন্দোবস্ত তিনিই করেছিলেন। একাধারে বন্ধু ও শিষ্য , রাজা অজিত সিংহের অনুপ্ররনায় স্বামীজি চিকাগো ধর্মসভায় কালজয়ী বক্তৃতা দিয়ে সারা পৃথিবীকে সনাতন হিন্দুধর্ম সম্পর্কে অবগত করেছিলেন।
 |
| স্বামীজি ও মহারাজের আলোচনা কক্ষ |
 |
| রামকৃষ্ণ মিশনের অতিথি নিবাস |

বিভিন্ন লেখা থেকে জানা যায় যে বরানগর মঠে " বিরাজ-হোম " করে শ্রীরামকৃষ্ণের চিত্রের সামনে তিনি ও অনেকেই সন্ন্যাস গ্রহন করেছিলেন। হোমের পর সকলেরই কিছু না কিছু নামকরন হয়েছিল। কিন্ত স্বামীজির কোন নামকরন হয়নি।সেই জন্যই পরিভ্রমনের সময় তিনি নাম পরিবর্তন করে নিতে পারতেন। ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখলে দেখা যায় যে এক একক অস্তিত্বের সন্ধান পৃথক পৃথক নামে________ বিলে - বিরেশ্বর - নরেন - লরেন - নরেন্দ্রনাথ - বিবিদিষানন্দ - সচ্চিদানন্দ - বিবেকানন্দ। এর মধ্যে বিবেকানন্দ নামটিই দেশে-বিদেশে বন্দিত হয়ে থেকে গেল। কিন্ত এই নামটি নরেনের সন্ন্যাস নাম নয়। শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন বা লরেনকে কখনও কখনও আদর করে " কমলাক্ষ " বলে ডাকতেন। কিন্ত এ নাম নরেন কিছুদিনের মধ্যেই দূরে সরিয়ে দেন। বেড়িয়ে পড়েন পরিভ্রমনে। পরিচয় গোপন করে কেটে যায় দিনের পর দিন। খেতরিতে যাবার পর খেতরির রাজার অনুরোধে তিনি বিবেকানন্দ নাম গ্রহন করেন। খেতরিতে একদিন মহারাজা হাসতে হাসতে বলেছিলেন " স্বামীজি আপনার বিবিদিষানন্দ বড় কঠিন। নামের অর্থ বোঝানোর জন্য টীকাকার প্রয়োজন। উচ্চারণ খুব সহজ নয়। এছাড়া আপনার বিবিদিষা কাল অনেকদিন সমাপ্ত হয়েছে।" তখন স্বামীজি হেসে জিজ্ঞাসা করেন ___ " আমার জন্য কোন নামটি পচ্ছন্দ করেন আপনি ?" মহারাজ উত্তরে বলেন " আমার মনে হয় আপনার যোগ্য নাম বিবেকানন্দ। " স্বামীজির " বিবেকশক্তি" বা বিচারশক্তির কথা ভেবেই রাজা এই নামটি নির্বাচিত করেছিলেন। আবার "বিবেকানন্দ " শব্দটি বিশ্লেষণ করলে অর্থ দাঁড়ায়, বিশেষ ভাবে বিচার করে মনের যে সত্তায় আনন্দ হয়, তিনিই বিবেকানন্দ। রাজার ইচ্ছানুসারে বিবেকানন্দ নামটি এর পর থেকে ব্যবহার শুরু করে দেন।এই ঘটনাই প্রমাণ করে তাদের দুজনের একের প্রতি অন্যের শ্রদ্ধা, সন্মান ও অনুরাগ কতখানি ছিল। স্বামীজি হয়তো সাময়িক ভাবেই এই নামটি নিয়েছিলেন। কিন্ত এই নাম পরে, তাঁর ইচ্ছা থাকলেও ছাড়তে পারেননি কারণ নামটি বিশ্বে সুপরিচিত হয়ে গিয়েছিল।

 |
| রাতের অতিথি নিবাস |
এই খেতরিতে একদিন ঞ্জানের জ্যোতির্ময় আলোক স্বামীজির জীবনে বিচ্ছুরিত হয়েছিল। ভগবান বুদ্ধের ন্যায় তিনি উপলব্ধি করেছিলেন ঈশ্বর এক এবং সম্ভাব্য বিরাজমান। এক্ষেত্রে স্বামীজির ঞ্জানচক্ষু উন্নয়নের গুরু হলেন সামান্য এক নটী......... যে সম্প্রদায়ের উপর তীব্র ঘৃণা ছিল স্বামীজির। একদিন সন্ধ্যাবেলায় খেতরির রাজা সঙ্গীতের আয়োজন করেছেন। একজন বাইজি গান গাইবেন তাঁর নাম ময়নাবাঈ। যেহেতু স্বামীজি রাজার অতিথি, রাজা তাঁকে গান শুনতে আমন্ত্রণ জানিয়ে লোক পাঠালেন। স্বামীজি এলেন না বরং বলে পাঠালেন......একজন সন্ন্যাসীর পক্ষে এরকম আসরে উপস্থিত থাকা অনুচিত। গায়িকা জানতে পেরে খুবই মর্মাহত হলেন এবং সুরদাসের সেই মহান গীত ধরলেন -------- " হামারে প্রভু অবগুন চিত না ধরো , সমদরশী হ্যায় নাম তিহারো অব মোহি পার করো "।। ইক লোহা পূজামে রহত হৈ , ইক রহে ব্যাধ ঘর পরো, পার্ক মন দ্বিধা নহী হৈ, দুহুঁ এক কাঞ্চন করো।। ইক নদী ইক নহর বহত মিলি নীর ভরো। জব মিলি দনো এক বরণ হোয় সুরসুরি নাম পরো; ইক মায়া এক ব্রহ্ম কহত সুরদাস ঝগরো । অঞ্জানসে ভেদ হবে, ঞ্জানী কাহে ভেদ করো।। ..........প্রভু, আমার দোষ দেখো না। তোমার নাম সুদর্শন ----- আমাকে উদ্ধার করো। স্বামীজির কাণে গানটি পৌচ্ছালো । গানটির ছত্রে ছত্রে এই সত্যটি প্রকাশিত যে ভগবান সর্ব বস্তুতে বিরাজ করছেন।
পতিতার এই গীত তো কন্ঠ নি:সৃত নয় , আত্মনি:সৃত। অভাগিনী দূর্ভাগক্রমে পতিতার জীবন কাটিয়েছেন কিন্ত দীনতম ভক্তের মহত্তম উপলব্ধি তার মধুকন্ঠে ঝরে পরেছে। অপার বিস্ময়ে স্বামীজি উপলব্ধি করলেন, নারীর এই সংগীতসুধা এই সত্যই জগৎকে শোনাতে চাইছে যে , সর্বভূতে ব্রহ্ম বিরাজিত। গানটি শুনে স্বামীজি মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিলেন। " এই কি আমার সন্ন্যাস ? আমি সন্ন্যাসী!! অথচ আমার মনে সন্ন্যাসী ও পতিতার ভেদবুদ্ধি ! " তাঁর চোখ খুলে গেল। তিনি বুঝলেন ____ সবার মধ্যে ঐ একই সত্তা ----- কাউকে তিনি ঘৃনা করতে পারেন না। স্বামীজির মুখে এক দেখা দিল এক স্বর্গীয় আভা ......... যেন দিব্যঞ্জান লাভ করেছেন তিনি। তুচ্ছ নারী পুরুষের, শুদ্ধ অশুদ্ধে ভেদাভেদ লুপ্ত হলো।শ্রীরামকৃষ্ণ যেমন দীনাতিদীনের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখতেন স্বামীজিরও তেমনই অনুভূতি হল। শোনা যায় , গান হয়ে যাবার পর বাইজীকে মাতৃ সম্বোধন করে তার কাছে স্বামীজি ক্ষমা প্রর্থনা করেছিলেন।
 |
| রাত্রিতে অতিথি নিবাস আলোকসজ্জা |
তারপর সেই বাঈজীর কি হলো সেই খবর তো কেউ আর নেয়নি। বহুবছর পর মিশনের একজন সন্ন্যাসী খুঁজে খুঁজে বের করলেন সেই বাঈজীকে। তাঁর নাম ময়নাবাঈ, রাজপুতানার এককালের বিখ্যাত বাঈজী, যাঁর গান শুনে রাজপুতানার রাজা-মহারাজারা মুগ্ধ হতেন। কিন্তু সেই রাতের পর বাঈজীকে কেউ আর গান গাইতে দেখেননি। কোথায় গেলেন সেই বাঈজী? কেউ তার খোঁজ রাখেনি। সেই সন্ন্যাসী নিছক কৌতূহলের বশে খুঁজতে খুঁজতে রাজস্থানের একটি ছোট্ট গ্রামে সেই বাঈজীর সন্ধান পেলেন। তিনি তখন খুবই বৃদ্ধা। সন্ন্যাসী দেখলেন একটি ছোট্ট কুটীরের ঠাকুরঘরে গোপালের বিগ্রহের সাথে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি নিত্য পূজো করেন ও সেই ছবির সামনে বসে তন্ময় হয়ে গান করেন । সন্ন্যাসী বললেন " সেই রাত্রির পরে আপনাকে কেন আর কোন আসরে দেখা যায়নি?" বাঈজী বললেন, " বাবা, সেদিন দেবতাকে গান শুনিয়ে আমার জীবন ধন্য হয়েছিল। সেদিন আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, আর কখনো মানুষের বিনোদনের জন্য গান গাইব না। আমি শুধুই গাইব আমার দেবতার জন্য। আমার বাকি জীবন কাটবে আমার দেবতার সেবায়, দেবতাকে গান শুনিয়ে ।" তাঁর 'দেবতা' হলেন স্বামী বিবেকানন্দ আর ঐ গিরিধর গোপাল। এই হয়। আগুন যাকে ছোঁয়, তাকে পুড়িয়ে মারে--সে আজ হোক অথবা কাল। এই ধর্মরূপী আগুন তোমাকে অগ্নিশুদ্ধ করে এক নতুন মানুষে রূপান্তরিত করবে।

১৯০১ সালের ১৮ই জানুয়ারি রাজা অজিত সিংহ মারা যান এবং স্বামীজি সমাধি লাভ করেন ৪ঠা জুলাই ১৯০২ সালে। কিন্ত খেতরির রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠিত হয় এর অনেকদিন পরে। রাজার নাতি , রাজা বাহাদুর সর্দার সিংহ- জি সেই জায়গাটা দান করেছিলেন যেখানে স্বামী বিবেকানন্দ খেতরিতে থাকাকালীন অবস্থান করতেন। এর পর বিভিন্ন প্রচেষ্টায় রাজস্থানে মিশনের প্রথম শাখা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বামীজির স্মৃতিতে সমৃদ্ধ এই প্রসাদ ভবনটি নামকরন করা হয়েছে " বিবেকানন্দ স্মৃতি মন্দির " । আর যে ঘরে তিনি থাকতেন সেটিকে একটি প্রার্থনা কক্ষে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এক কথায় বলা যেতে পারে আজকের ক্ষেত্রী হল স্বামীজির তিনটি সফর দ্বারা একটি তীর্থস্থান।
 |
| অতিথি নিবাসের ভিতরের বারান্দা |
 |
| মিশনের ছাদ থেকে |
 |
| অতিথি নিবাসের ঘর |
দিল্লী থেকে দূরত্ব প্রায় ১৯০ কিমি আর জয়পুর থেকে ১৬০ কিমি। নিকটতম রেল স্টেশন লোহারু যা কিনা ৫৫ কিমি ক্ষেত্রী থেকে। কলকাতার লোকেরা শিয়ালদহ-বিকানীর দূরন্তে এই লোহারু স্টেশনে নামতে পারেন বা ঐ ষ্টেশন থেকে কলকাতায় আসতে পারেন। এছাড়া বিমানে গেলে জয়পুর বা দিল্লীতে নেমে , সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে সহজেই ক্ষেত্রী যাওয়া যায়।
 |
| প্রবেশ পথের মুখে বাগান |
 |
| বাগানের গাছে টিয়া পাখির আনাগোনা |
খেতরি রাজপ্রসাদের আশেপাশে ময়ূরের অবাধ ঘোরাফেরা
🌸২২ শে নভেম্বর ১৮৯৮ বেলুড় থেকে স্বামীজি খেতড়ির মহারাজ কে একটি দুঃখময় গোপন চিঠি লিখেন যা পড়লে শতবর্ষ পরেও হৃদয়বান পাঠকের চোখ সজল হয়ে ওঠে।🌸
"মাননীয় মহারাজা,
আপনি জানেন বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই আমি ভুগছি। এই অসুস্থতা সারবার নয়। এই দু'বছর বিভিন্ন জায়গায় বায়ু পরিবর্তন করেও প্রতিদিন অবস্থা খারাপ হচ্ছে। আমি এখন প্রায় মৃত্যুর দ্বারে।আজ আমি মহারাজের প্রদত্ত আশ্বাস, মহানুভবতা ও বন্ধুত্বের কাছে একটা আবেদন জানাচ্ছি।আমার বুকের মধ্যে একটা পাপ সারাক্ষণ পীড়া দেয়।আমার মায়ের প্রতি বড় অবিচার করেছি। আমার মধ্যম ভাতা মহেন্দ্রনাথ বাইরে চলে যাওয়ায় মা শোকে একেবারে মুহ্যমান।এখন আমার শেষ ইচ্ছা, অন্তত কিছুকালের জন্য মায়ের সেবা করি। এখন আমি মায়ের কাছে থাকতে চাই। আমাদের বংশটি যাতে লোপ না পায় সেজন্য ছোট ভাইয়ের বিয়ে দিতে চাই। এতে আমার ও আমার মায়ের শেষ কটা দিন যে শান্তিতে কাটবে তাতে সন্দেহ নেই। আমার মা এখন একটি জঘন্য বাসায় থাকেন।তার জন্য ছোট একটা ভালো বাড়ি করে দিতে চাই। ছোট ভাইটির উপার্জন ক্ষমতা সম্পর্কে আশা কম। তার জন্যও কিছু করে যাওয়া দরকার। আপনি রামচন্দ্রের বংশোদ্ভব। যাকে ভালোবাসেন, যাকে বন্ধু মনে করেন, তার জন্য এই সাহায্য আপনার পক্ষে কি খুব কষ্টকর হবে? আমি জানিনা আর কার কাছে এই আবেদন পেশ করতে পারি। ইউরোপ থেকে যে টাকা পেয়েছি তার সবই 'কাজের' জন্য এবং তার শেষ পাই পয়সা পর্যন্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুনশ্চ - এই চিঠি নিতান্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয়।"
এই চিঠির প্রথম উত্তর আসে টেলিগ্রামে।১ লা ডিসেম্বর ১৮৯৮, বেলুড়ে বসে মহানুভব খেতড়ির মহারাজকে উত্তর দিতে বসেন রোগাক্রান্ত বিবেকানন্দ।
"আমি কি চাই তা বিশদভাবে লিখলাম।কলকাতায় একটা ছোট বাড়ি তৈরীর খরচ ১০০০০ টাকা। ওই টাকায় চার পাঁচ জনের বাসযোগ্য একটা ছোট বাড়ি কোনমতে কেনা বা তৈরি করা যায়। সংসার খরচের জন্য যে মাসিক ১০০ টাকা আপনি আমার মাকে পাঠিয়ে থাকেন তা তার পক্ষে যথেষ্ট। যদি আমার জীবদ্দশা পর্যন্ত আমার খরচ নির্বাহের জন্য আরো মাসিক ১০০ টাকা পাঠাতে পারেন তাহলে বড়ই খুশি হব। অসুস্থতার জন্য আমার খরচ ভয়ানক বেড়েছে।কিন্তু এই বাড়তি বোঝা আপনাকে খুব বেশিদিন বইতে হবে বলে মনে হয় না , কেননা আমি বড়জোর আর দু এক বছর বাঁচবো। আর একটি ভিক্ষা চাইবো। আমার মায়ের জন্য একশত টাকার সাহায্য সম্ভব হলে আপনি স্থায়ী রাখবেন। আমার মৃত্যুর পরেও যেন সে সাহায্য নিয়মিত পৌঁছয়। যদি কোনো কারণে আমার প্রতি ভালোবাসায় ও দাক্ষিণ্যে ছেদ টানতে হয়, এক তুচ্ছ সাধুর প্রতি একদা যে প্রেম ভালোবাসা ছিল, তারই কথা স্মরণ করে মহারাজ যেন সাধুর দুঃখীমাতার প্রতি এই করুণা বর্ষণ করেন।
শ্রী রনেন চক্রবর্তী এই রকম মন্তব্য করেছেন ::
ReplyDeleteEto sundor thothyo sambridha bornona ja mone ekta alada onubhuti sristi korlo. Isswar apna mongol korun
শ্রী শচীবিলাস রায়ের মন্তব্য ::
ReplyDeleteতথ্য সমৃদ্ধ লেখা, মন ছুঁয়ে গেল।
Smt Sukla Bhattacharya has commented in this manner ::
ReplyDeleteEkta ojana jinis janlam
শ্রীমতি শিপ্রা দেব লিখেছেন ====
ReplyDeleteKhub sundor
শ্রী সমন্বয় সেন বলেছেন •••••••••
ReplyDeleteVery nice👍
Comment of Mr Sunil Mondal :-:
ReplyDeleteGood collection