Saturday, 24 September 2022

স্বামীজির কথা

 


#ব্রজেশ্বরীর_লীলা_ধন্য_স্বামীজী_


১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দ ১২ ই আগস্ট স্বামী আসেন বৃন্দাবনে। বৃন্দাবনের দর্শনীয় স্থান দর্শন করার পরে গিরিগোবর্ধন পরিক্রমা  করে  স্বামী উপস্থিত হোন  রাধাকুন্ডের তীরে। রাধারানীর জন্য চিকন করা কুন্ড তন্ময়ত্ত দর্শন করেন বেশ কিছুক্ষণ, তারপর কুন্ডকে প্রণাম শুধুমাত্র কৌপিন পড়ে কুন্ডে নামেন।  বহির্বাস কুন্ডের তীরে রাখা উচিত। কুন্ডের জলে স্নান সেরে যখন বহির্বাস পরিধান  হবে সেই সময়ে স্বামীজী বুঝলেন এ বান্দরের কাজ, তিনি যখন স্নান করছিলেন সেই সুযোগে বান্দরের দল তাঁর বহির্বাস নিয়ে গেছে। শুধুমাত্র কৌপিন পড়ে কুন্ডেরে আছেন। এই বন্ধ কুন্ডের তীরের হাতে তুলে ধরেছেন, সহসা তাঁর কাছে এসেছেন এক ব্রজবধু।    ব্রজবধুর হাতে থালা, পাত্রটিতে    আছে কিছু ফল আর গৈরিক বস্ত্র।আশেপাশে কেউ নেই, নির্জন স্থান। স্বামীজীর খুব অভিমান হল রাধারানীর উপর। স্বামীজী মনে মনে ঠিক আছে, বাঁদরে যখন বহির্বাস নিয়ে গেছে তখন এই কৌপিন পড়ে তিনি এগোবেন।ব্রজবধু ঘোমটার আড়াল থেকে খুব মিস্টিভাবে বললেন, "সাধু,  বাড়িতে আজ সাধু সেবা ।  বাবা , আমরা অনেক সাধুকে বস্ত্র, ফলদান করেছি, তাই বেচে ছিল ।  রাস্তায়  যদি কোনো সাধুকে পাই সব দিয়ে দেবো । এই জিনিসটা আমরা ব্যবহার করতে পারি না,তাই আপনি নিন"। এই ব্রজবধু স্বামীজীকে ফল বস্ত্র দিয়েছিল । স্বামীজীর    উত্তর কুন্ডে মোহাবিষ্টের ন্যায়। । জনমানবহীন এই জায়গায় কোথা থেকে এলেন এই ব্রজবধু ?কিছুক্ষণ পর চাক ভাঙ্গলে তিনি দেখতে যেতে চান চারিদিক জনমানবহীন এই স্থানে  কোথা থেকে  এলেন এই ব্রজবধু? 

কৃপাময় কৃপার কথা তাঁর দুই ভাবীর মনে জলে ভরে এল, গড়াগড়ি দিতে লাগলেন কুন্ডের ধারে।

জয় রাধা রাধা 🙏🙏


*"স্বামীজীর বাঘা"*


     বাঘাজী স্বামীর পোষা। একবার বেলুড়মঠে স্বামীজীর পোষা একটি হরিণকে কামড়ে তাড়া করে। সেই অপরাধে বাঘা তার মনিবের নির্দেশে মঠের সাধু গণের দ্বারা গঙ্গার পরপারে বরাহনগরে নির্বাসিত হয়। কিন্তু সেই দিনই রাত্রিতে সে গঙ্গা  দিয়ে ফিরে আসে এবং আরও পরে প্রত্যূষে স্বামীজী শয্যা উল্টা করে আসা মাত্রই তাঁর মাথা ঘষে । মনে হয়, স্বামীজী তার অপরাধ ক্ষমা করে বললেন --- "যা বেটা, তোর সাত খুন মাপ।"

      বাঘার কর্মকলাপ,  মঠের অনুমান, পূর্ব জন্মদান করতে সে সতর্কতা ঠাকুরের ভক্ত ছিল এবং বিশেষভাবে অপরাধে এই জন্মে সে সন্ত্রাস জন্মেছে। বেলুড়  এর উপর মিউনিসিপ্যাল ​​ট্যাক্সট মাঠে মূল আলোচনার সূত্রপাত হয়, সেই সময়েই  স্বয়ং ইনস্পেক্টার  সক্রিয়তা সত্যবাঘা তার মাঠ থেকে পথ দেখিয়ে স্বামীজীর কাছে আসে। ম্যাজিস্ট্রেট নোট দেন "কুকুরটি আমাকে পথ দেখিয়েছে তাই এটি একটি মঠ হতে হবে।" বলাবাহুল্য এর ফলে টেক্সটা মুকুব যায়।

     স্বামীজীর দেহ রাখার  পর বাঘা প্রায় পাগল হয়ে যায় এবং ফলে অসুখে মারা যায়।  তাকে গঙ্গায় দেওয়া হয়। পরের দিন স্বামী সারদানন্দজী কলকাতা থেকে নৌকোয় মঠে আসবার সময়  বাঘার মৃতদেহ ভাঁসতে দেখেন। ভেসে আসা মঠের ঘাটে আটকে আছে। তখন তাঁর ওকে মঠের প্রাঙ্গণে কথার নির্দেশে , বর্তমান চন্দন গাছের সমাহিত করা হয়।

 এই স্বামী   সারদানন্দজী  সাধুদের বললেন, "স্বামীজী   বলেছেন,    বাঘা চিরকালই মঠে থাকবে। ওকে গঙ্গায় কে দিয়েছ?"

     

***********************


খ্রীস্টানদের_চার্চে_বিবেকনন্দ


শিরোনাম বই মনে হচ্ছে খুব তাই না। হ্যাঁ, শ্রদ্ধা তোমাই কথা। খ্রীষ্টানদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হিন্দুধর্মের বীর সন্ন্যসী স্বামী বিবেকান্দের ছবি!!! 

আমেরিকার অ্যানিসকুয়াম চার্চ, ওয়াশিংটন এ গত ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ এ স্বামীরজী জীবনদর্শনের উপরে আলোকপাত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেদান্ত সোসাইটি অফ প্রভিডেন্স, অ্যাঞ্জেল সেন্ট ইউএসএ এর পুজনীয় মহারাজজি। 
















$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$


জয়তু স্বামী। 

       "ভগবদ্গীতাকার বলিয়াছেন, "অযত মনই আমাদের দল। যে মন - সংযত, তা আমাদের বন্ধুর মতো কাজ করে থাকে"।

    তাই , সে সম্পর্কে , আমাদের আবিস্কৃত অবস্থা চাই। আমরা কি মনকে করে গড়িয়া তুলিতে পারি, যাহাতে সে আমাদের বশে থাকে এবং আমাদের সহিত এমন করে?  

আমাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের সহিত মনকে নিয়ন্ত্রণ করার সম্পর্ক কি?  


   মানবমনের চারটি প্রধান কর্ম- 

১] স্মৃতি   

২ ] বিচার ও ভাবনা 

৩] মান ও সিদ্ধান্ত - এবং গ্রহণ 

 ৪ ] "আমি" -র চেতনা। 


                 ১]ঃ স্মৃতি যেখানে আমাদের চিন্তিত অভিজ্ঞতাগুলি সুক্ষ্ম উচ্চারণে সঞ্চয় হয় সেই স্মৃতি ভান্ডারে "উত্তর" বলা হয়। ভাল, মন্দ চিন্তা বা কাজ আমরা দৃশ্য, সেসব কিছুরই ছাপ (ইমপ্রেশন) সেখানে মজুত থাকে। এই ইম্প্রেশনগুলি সমষ্টিই আমাদের চরিত্রের চরিত্রের হয়। এই যে "চিত্ত উল্টো", তাকে আবার অবচেতন মনও বলা হয়।      

              

                  ২ ] বিচার ও ভাবনাঃ অনিশ্চিত মনে পছন্দে পছন্দ- অপছন্দের বিকল্প উপস্থিতি এবং মন বিচারের বিচারের বিচার। মনের এই যে বিচার ক্ষমতা ,তাহাকে "মনস্"বলা হয়। কল্পনা ও গান শক্তি - সেও এই "মনস্"-এর কাজ।  

               

       ৩ ) মান ও সিদ্ধান্ত - গ্রহণঃ - জ্ঞান নিশ্চয়তা । বুদ্ধি করলে মনের সেই শক্তি যাহার দ্বারা করা হয়। মানসিক বিষয়ের খুঁটিনাটি বিচার করিবার পর " বুদ্ধি " বলিয়া দেয় কোনটি আরও কাম্য । বুদ্ধি হইল সেই শক্তি, যাহার দ্বারা সে সত্যও মনে করে, নিত্য ও অনিত্য, কোণ্টি করণীয় এবং কোন বর্জনীয়, কোনটি নৈতিক বিচার দূরিয়া ঠিক এবং কোন টি ভূল ,তা করিবার শক্তি দেয়। এইটি আমাদের ইচ্ছাশক্তিরও আধার, যে-ইচ্ছাশক্তি ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য একান্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই আমাদের মনে হয়

"আমি" - আমরা বলিয়া   চেচায়। 

" আমি খাচ্ছি " , " আমি দেখছি " , " আমি দু'জন " , 

"আমি শুনছি", "আমি ভাবছি", "আমি বিভ্রান্ত" ;

এই যে দিনরাত "আমি" "আমি" , বাধা সবই ।

দৈহিক ও মানবিক কর্ম  নিজের উপর আরোপ করা , এইটির নাম "অহংকার" অথবা "আমিত্ববোধ"। যতক্ষণ এই "আমি" নিজেকে  অসংযত দেহর সহিত অভিন্ন মনে হয় এবং মনে হয়, অবিলম্বে জাগতিকও পরিস্থিতির দাস; তাদের দ্বারাই সে নিয়ন্ত্রিত হয়।


আনন্দদায়ক ঘটিলে তখন আমরা সুখী, কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতি আসিলেই    দুঃখে সুখিয়া পড়ি। মন যতই সুক্ষ্ম ও সংযত হয়, কাছেই আমরা করতে পারি আমি বুঝতে পারি উৎসটি কি। সেই অনুপাতে আমরা আমাদের সৌন্দর্য আরও বেশি সুরুংখল ও নিরুদ্বিগ্ন হতে পারি। এমন একজন ব্যক্তি হন না এবং অবস্থার দ্বারা না হন৷ 

               মনস্, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকার, মনের এই যে চারিটি পাশে বা পর্যায় ,এগুলি কিন্তু পৃথক পৃথক নয় ; একই মন, শুধু আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা প্রকাশক ডাকা হয় , এই যা" । 

%$%$%$%$%$%$%$%$%$%$%$%$%$%$%$%


স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, যতক্ষণ না তুমি ঈশ্বরকে অনুভব করছ, ততক্ষণ ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করো না। অর্থাৎ, ঈশ্বর বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব যদি থাকে, তবে আমাকে তাঁকে অনুভব করতে হবে। শুধুমাত্র অপরের কথায় চোখ বন্ধ করে ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা অনুচিত। বিজ্ঞান যেমন প্রমাণ সাপেক্ষ, আধ‍্যাত্মিকতাও তেমনই প্রমাণ সাপেক্ষ। স্বামী বিবেকানন্দ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে প্রথম সাক্ষাতেই তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি ঈশ্বরকে দেখেছেন? ঠাকুরও তৎক্ষণাৎ তাকে উত্তর দিয়েছিলেন, দেখেছি কি রে? তোকেও দেখাতে পারি।' নানক, কবীর, তুকারাম, মীরা, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু এরা সকলেই ভগবানের দর্শন লাভ করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমি তো ঈশ্বরকে দেখি নি। তাহলে আমি কিভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করবো? বেদান্ত এর উত্তর দিয়েছে, বলেছে, তুমি নিজেকে খোঁজ। আমি কে? এর উত্তর যেদিন তুমি পাবে, তুমি বুঝবে, তৎত্বমসি। তুমিই সে।' বুঝবে, অহম্ ব্রহ্মাস্মি। আমিই সেই পরাৎপর ব্রহ্ম। উত্তরাখণ্ডের এক সাধু আমায় বলেছিলেন, ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ খুব সহজ। আমার অস্তিত্বই ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ।

■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤■♤

ভারতবাসীর উন্নতিসাধনে স্বামীজীর আধ্যাত্মিক চিন্তা   :☆☆☆☆

" আত্মানো মোখ্যার্থং জগদ্ধাত্রী চ " --- ভোগবাদী জীবন নয়, হাজারো ওঠাপড়ার মাঝে এই  আলোকময় অমৃতবানীই হবে ভারতের শিরদাঁড়া আর বৈদান্তিক অদ্বৈতঞ্জান হবে তার সুষূম্না ----------- স্বামী বিবেকানন্দের এই ছিল অনুভব। এ কথা আজ সর্বজনবিদিত যে ভারতবাসীদের তিনি উদ্বুদ্ধও করেছিলেন আত্মশ্রদ্ধার এই মন্ত্রেই। কিন্ত আত্মশ্রদ্ধার পাশাপাশি আর একটি স্তম্ভ রয়েছে____ সেটি হল বিবেকান্দের ডারতচেতনার সার " আত্মসমীক্ষা "। সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বিচারের নিজের নিয়মিত মূল্যায়ন করে ঔচিত্যবোধে কর্মক্ষম হওয়ার শিক্ষা এই দেশকে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।

তাঁর শাশ্বত ধর্মদর্শন ও আধ্যাত্মিকতার কথা যখন দেশবাসীর কাছে প্রচার করলেন,  তখন ভারতবাসী পরাভূত,  হীনম্মন্যতাগ্রস্ত। তাদের কাছে আধ্যাত্মিকতায় বলিয়ান হয়ে জগতের হিতসাধন ছিল দূর অস্ত। ভারত তখন দূর্বল,  পরমূখাপেক্ষী, নিজের উন্নতি থেকেই লক্ষ কোটি যোজন দূরে। কিন্ত বিবেকানন্দ নিজে তখন " হিন্দুধর্ম " এর স্বীকৃত প্রতিনিধি।এককথায় বলা যায় ভারতের সবেধন   নীলমণি " যুগ পুরুষ  "। সেইসময়ে চাইলে, আত্মশ্রদ্ধার মোড়োকে,  আচারসর্বস্ব ধর্মের নামে জনগনকে তাকিয়ে, আবেগ জর্জরিত এই দেশে সনাতন ঐতিহ্যের  ধ্বজাধারি  " গুরু " হয়ে থাকার সহজ পথেই বেছে নিতে পারত।




♦কর্মযোগের চরম গতি, উদ্দেশ্য, পূর্ণতা বা সিদ্ধ▼ 

যে ব্যক্তি নিজেকে বশীভূত করিয়াছে, বাহিরের কোন বস্তু তহার উপর ক্রিয়া করিতে পারে না, তাহাকে আর কাহারও দাসত্ব করিতে হয় না। তাহার মন মুক্ত। এরূপ ব্যক্তিই জগতে সুখে-স্বচ্ছন্দে বাস করিবার যোগ্য। আমরা সচরাচর দুই মতের মানুষ দেখিতে পাই। কেহ কেহ দুঃখবাদী-তাঁহারা বলেন, এ পৃথিবী কি ভয়ানক, কি অসৎ! অপর কতগুলি ব্যক্তি সুখবাদী-তাঁহারা বলেন, এই জগৎ কি সুন্দর, কি অপূর্ব! যাঁহারা নিজেদের মন জয় করেন নাই, তাঁহাদের পক্ষে এই জগৎ দুঃখে পূর্ণ, অথবা সুখদুঃখমিশ্রিত বলিয়া প্রতিভাত হয়। আমরা যখন আমাদের মনকে বশীভূত করিতে পারিব, তখন এই সংসার আবার সুখের বলিয়া মনে হইবে। তখন কোন কিছুই আমাদের মনে ভাল বা মন্দ ভাব উৎপন্ন করিতে পারিবে না। আমরা সবই বেশ যথাস্থানে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখিতে পাইব। যাহারা প্রথমে সংসারকে নরককুন্ড বলিয়া মনে করে, তাহারাই আত্মসংযমে সমর্থ হইলে এই জগৎকে স্বর্গ বলিবে। আমরা যদি প্রকৃত কর্মযোগী হই এবং নিজদিগকে এই অবস্থায় লইয়া যাইবার জন্য শিক্ষিত করিতে ইচ্ছা করি, তবে আমরা যেখানেই আরম্ভ করি না কেন, পরিশেষে পূর্ণ আত্মত্যাগের অবস্থায় উপনীত হইবই; যখনই এই কল্পিত ‘অহং’ চলিয়া যায়, তখনই যে-জগৎ প্রথমে অমঙ্গলপূর্ণ বলিয়া মনে হয়, তাহা পরমানন্দে পূর্ণ এবং স্বর্গ বলিয়া বোধ হইবে। ইহার হাওয়া পর্যন্ত শান্তিতে পূর্ণ হইয়া যাইবে, প্রত্যেক মানুষের মুখচ্ছবি ভাল বলিয়া বোধ হইবে। ইহাই কর্মযোগের চরম গতি ও উদ্দেশ্য, এবং ইহাই কর্মজীবনে পূর্ণতা বা সিদ্ধ।


●□■♤♡◇♧●□■♤♡◇♧●□■♤♡◇♧●□■♤♡◇♧●□■♤♡


  #খাদ্যরসিক_বিবেকানন্দ#

তখন তিনি স্বামী বিবেকানন্দ হননি, শুধুই নরেন্দ্রনাথ দত্ত। পড়াশোনা করছেন। পেটুক এবং খাদ্যরসিক বন্ধুদের নিয়ে পাড়ায় তৈরি করেছিলেন ‘পেটুক সঙ্ঘ’। বন্ধুদের কাছে স্বামীজি বলতেন, দেখবি একটা সময় আসবে যখন কলকাতার প্রত্যেক গলির মোড়ে মোড়ে পানের দোকানের মতো চপ-কাটলেটের দোকান হবে। স্বামীজির এই ভবিষ্যৎবাণী যে কতটা সত্যি হয়েছে, তা এখন আমাদের চারপাশ দেখলেই বোঝা যায়। চপ-কাটলেট-সিঙাড়া তাঁর খুব পছন্দের ছিল।


খাবার পাশাপাশি রান্না করতেও বেশ ভালোবাসতেন তিনি। মাংসের নানা পদ তিনি রান্না করতে পারতেন। শিকাগো যাত্রার আগে তৎকালীন বোম্বাইতে স্বামীজি ১৪ টাকা খরচ করে এক হাঁড়ি পোলাও রান্না করে শিষ্যদের খাইয়েছিলেন। নিজে হাতে রেঁধে নিবেদিতাকেও খাইয়েছিলেন। কলকাতার বিভিন্ন দোকানের চপ ও ফুলুরি তাঁর বিকেলের খাবার ছিল। স্বামীজি চপ ও কাটলেট খুব সুন্দর বানাতে পারতেন এবং তা বানিয়ে একাধিকবার তাঁর শিষ্যদেরও খাইয়েছেন। বেলুড় মঠে একবার স্বামীজি নাকি পেশাদার চপওয়ালাদের মতো চপ ও ফুলুরি বিক্রিও করেছিলেন। বিকেলবেলায় আলুর চপ, ফুলুরি আর মুড়ি না হলে স্বামীজির বিকেলের ভোজনটাই হত না। কড়া ঝালের চানাচুর তাঁর বিশেষ পছন্দের ছিল। তাঁর কাছে বেশিরভাগ সময়ই চানাচুরের প্যাকেট থাকত। তিনি যখনই একা থাকতেন শালপাতার ঠোঙা থেকে চানাচুর বার করে খেতেন এবং বালকের মতো আনন্দ পেতেন।


কাঁচালঙ্কা ছিল স্বামীজির পরম প্রিয়। একবার এক অবাঙালি সাধুর কাছে স্বামীজি সেই কথা স্বীকারও করে নিয়েছিলেন। সেই সাধুর সঙ্গে তিনি লঙ্কা খাওয়ার কম্পিটিশন করেছিলেন। স্বামীজি কম্পিটিশনে টপাটপ করে বেশ কয়েকটি লঙ্কা খেয়ে ফেললেন, অপর দিকে সেই সাধু মাত্র দু’টি লঙ্কা খেয়েই কাঁদো কাঁদো। বিদেশি সাহেবদের লঙ্কা খাওয়া শেখাতেন স্বামীজি। একবার লন্ডনে থাকাকালীন স্বামীজির লঙ্কা খেতে ইচ্ছা হয়। তখন বিলেতে লঙ্কা পাওয়া খুবই কঠিন। স্বামীজি অনেক খুঁজে এক দোকানদারের কাছ থেকে তিন শিলিংয়ের বিনিময়ে তিনটি কাঁচালঙ্কা কিনেছিলেন। ঝাল খাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর ছোট ভাই মহেন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, স্বামীজির অত্যন্ত প্রিয় ছিল তীব্র ঝাল। রামকৃষ্ণর মৃত্যুর পরে বরানগরে সাধনভজনের সময় প্রবল অনটন। দারিদ্র্য এমনই যে মুষ্টিভিক্ষা করে এনে তাই ফুটিয়ে একটা কাপড়ের ওপর ঢেলে দেওয়া হত। একটা বাটিতে থাকত নুন আর লঙ্কার জল। একটু ঝালজল মুখে দিয়ে এক এক গ্রাস ভাত উদরস্থ করা হত।

বিদেশে তিনি যেখানেই যেতেন নিজের কাছে রাখতেন ভারতীয় গুঁড়ো মশলা। একাধিকবার তিনি নানা বিদেশি অনুরাগীদের রান্না করে ভারতীয় খাবার খাওয়াতেন। বলাই বাহুল্য, তাঁর রান্নায় ঝালের আধিক্য ছিল খুবই বেশি। তাঁর রান্না খেয়ে ঝালের চোটে চোখে জল এসে যেত। স্বামীজির আমেরিকায় থাকাকালীন প্রাতঃরাশের তালিকা ছিল বেশ লম্বা। প্রথমেই খেতেন কমলালেবু এবং আঙুর। তার পর ডবল ডিমের পোচ সহযোগে দু’পিস টোস্ট। সব শেষে ক্রিম ও চিনি দিয়ে দু’কাপ কফি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে স্যুপ এবং মাংস বা মাছের সঙ্গে রাতের আহার সারতেন। ডেসার্ট হিসেবে মিষ্টি আর আইসক্রিম তো আবশ্যিক ছিল। খাওয়ার পর আবার জমিয়ে ধূমপানও করতেন।


স্বামীজির আমেরিকান শিষ্য এলিজাবেথ ডাচার তাঁকে একবার তাঁদের কটেজে আমন্ত্রণ জানান। নিউইয়র্ক শহর থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার দূরে সেন্ট লরেন্স নদীর তীরে ওয়েলেসলি দ্বীপে ছিল সেই কটেজ। ১৮৯৫ সালের ১৮ জুন দশজন শিষ্যকে নিয়ে কটেজে আসেন স্বামীজি। সেখানে প্রথমে দেন বক্তৃতা। তার পর শিষ্যদের জন্য রান্না করলেন বাঙালি খাবার। নিজেও খেলেন, খাওয়ালেন সকলকে।


               



No comments:

Post a Comment