Tuesday, 14 May 2019

রামকৃষ্ণ মঠ, শ্যামপুকুর বাটী, শোভাবাজার, কলকাতা- ৪।

রামকৃষ্ণ মঠ, শ্যামপুকু্র বাটী, শ্যামপুকুর ষ্টীট, শোভাবাজার, কলকাতা - ৪।

সেকালের প্রাচীন সুতানটির প্রাণকেন্দ্র ছিল শ্যামপুকুর। বাঙালি সংস্কৃতি ও আভিজাত্যের প্রাণকেন্দ্র। হুগলি নদীর কতগুলি ঐতিহ্যবাহী ঘাট এই অঞ্চলেই অবস্থিত। শ্যামপুকুর বাটী উত্তর কলকাতার এই শ্যামপুকুর অঞ্চলে অবস্থিত। এটি হল রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের একটি শাখা কেন্দ্র। ক্যান্সার ধরা পড়ার পর কলকাতায় চিকিৎসা করানোর জন্য ১৮৮৫ সালের ২রা অক্টোবর ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে দখিনেশর থেকে ৫৫ নং শ্যামপুকুর ষ্টীটের এই বাড়িতে এনে রাখা হয়। ঠাকুরের সাথে সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দ ও অন্যান্য শিষ্যরাও এই বাড়িতে থাকতেন। প্রায় দুই মাস থাকার পর, ১১ই ডিসেম্বর তিনি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যান কাশীপুর উদ্যান বাটীতে।

১৮৮৫ সালের ৬ই নভেম্বর ছিল কালীপুজো। ঠাকুর সেই দিন রাতে কালীপুজোর আয়োজন করতে বলেছিলেন। সমস্ত উপাচার জোগাড়ের পরেও তিনি কালীপুজো করছেন না দেখে গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ শিষ্যরা তাঁর শরীরেই কালীর পূজো করেন। এই সময় তিনি উঠে দাঁড়িয়ে কালীর মত বর ও অভয় মুদ্রা প্রদর্শন করেন। রামকৃষ্ণ ভক্ত মন্ডলীতে এই ঘটনা "বরাভয় লীলা" নামে পরিচিত।

বর্তমানে শ্যামপুকুর বাটী বেলুড় মঠের অধীনস্থ একটি মঠ কেন্দ্র ও রামকৃষ্ণ মন্দির। যে ঘরে রামকৃষ্ণদেব থাকতেন, সেই ঘরটি এখন ঠাকুর ঘর হিসাবে ব্যবহৃত হয়। যে ঘরে সারদা মা থাকতেন, সেই ঘরটিকেও ঠাকুর ঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই বাড়িতে ঠাকুরের ব্যবহৃত কিছু জিনিস ও কয়েকটি ছবি রাখা আছে। অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে রয়েছে সেই ক্যামেরার কয়েকটি অংশ, যেটি দিয়ে প্রথম রামকৃষ্ণদেবের ছবি তোলা হয়েছিল।








No comments:

Post a Comment