কাশীপুর উদ্যান বাটী, কাশীপুর রোড, কাশীপুর, কলকাতা - ২.
রামকৃষ্ণ মঠের কাশীপুর শাখাটি কাশীপুর উদ্যান বাটী নামে পরিচিত। ১৯৪৬ সালে এটি রামকৃষ্ণ মঠের শাখাকেন্দে পরিনত হয়। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ১৮৮৫ সালের ১১ই ডিসেম্বর থেকে ১৮৮৬ সালের ১৬ই আগষ্ট, তাঁর প্রয়ান পর্যন্ত কাশীপুর উদ্যান বাটীতে বাস করেছিলেন।
কাশীপুর উদ্যান বাটী ছিল বিশিষ্ট জমিদার রানী কাত্যায়নীর জামাই গোপাললাল ঘোষের সম্পত্তি। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের ভক্তগন তাঁর কাছ থেকে মাসিক ৮০ টাকা ভাড়ায় প্রথমে ছয় মাস ও পরে আরও তিন মাসের জন্য বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। উদ্যান বাটীর মোট এলাকার আয়তন ছিল ১১ বিঘার কিছু বেশি।
উদ্যানবাটির দোতলায় ঠাকুর যে ঘরে বাস করতেন বর্তমানে সেই ঘরটি মন্দির রূপে বিবেচিত হয়। এরই পাশে আছে ঠাকুরের ভাড়ারঘর। ঠাকুর বসবাসকালীন যা তার স্নানঘর হিসেবে ব্যবহার হতো। একতলার হলঘরটিতেও সুন্দর করে ঠাকুরের ছবি বসান। আর এক তলাতেই আছে শ্রী শ্রী মা সারদার ঘর। দোতলায় উঠার সিঁড়িটিও আখুন্ন আছে। আছে স্বামীজির ঘর এবং সংরক্ষিত আছে ঐতিহাসিক খেজুর গাছটি। ( যে গাছের গোড়ায় বাস করত এক বিষধর সাপ। ঠাকুরের যুবক ভক্তদের খেজুর রসপানের ইচ্ছা জাগে। তখন জানতে পেরে ঠাকুর নিজে গিয়ে সাপটিকে তাড়িয়ে দিয়ে আসেন। যার প্রত্যখ্যদর্শী ছিলেন মা স্বয়ঙ। )
রামকৃষ্ণ সঙ্ঘে কাশীপুর উদ্যান বাটী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি মঠ। কারন, এই বাড়িতে শ্রী রামকৃষ্ণ তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যদের সন্ন্যাস গ্রহণ ও সংঘ বদ্ধ ভাবে জনসেবার কাজে উদ্বুদ্ধ করে ছিলেন। যা বাস্তবায়িত করতে পরবর্তী কালে স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই উদ্যান বাটী একটি তীর্থস্থানের মর্যাদা পায়।
ঠাকুর অসুস্থ থাকাকালীনই কাশীপুর উদ্যান বাটী এক মহা তীর্থখেত্র হয়ে উঠেছিল। এই স্থানের বিশেষ গুরুত্ব হল এখানেই শ্রীরামকৃষ্ন তাঁর ভক্তদের সন্ন্যাসের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। এমনকি এই ভক্তদের তিনি মাঝেমধ্যে কাছাকাছি গ্রামে ভিখ্যে করতে পাঠাতেন। তিনি নিজেও ওই ভিখান্ন থেকে কখনও কখনও দুই এক কনা গ্রহন করতেন। এবং এখানেই তিনি তাঁর চিহ্নিত সন্তানদের গেরুয়া বসন ও রুদ্রাখ্য মালা প্রদান করেন। বাস্তবিক অর্থে এই স্থানেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সংঘ গড়ার সূচনাখেত্র বলা যেতে পারে।
আর এই মঠের বাগানে একটি আমগাছের তলায় দাঁড়িয়ে শ্রী রামকৃষ্ণ কল্পতরু হয়েছিলেন।
কল্পতরু হল স্বর্গের বৃক্ষ। ওই বৃক্ষের কাছে যে যা চাইবে তাই পাবে। চতুর্থবর্গ ফল অর্থাৎ ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোখ্য --- যে যা চাইবে তাই প্রাপ্ত হবে। তাই তাকে কল্পতরু আখ্যা দেওয়া হয়েছে। শ্রী রামকৃষ্ণ ওই দিন ভগবান ভাবেই ভক্তের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বলে মনে করেছিলেন উপস্থিতজনরা।
কল্পতরু কথার অর্থ হলো ইন্দ্রলোকের সর্বকামনা পূরনকারী দেবতরু। অর্থাৎ অত্যন্ত উদার ও বদান্য ব্যক্তি, যিনি অন্যের ইচ্ছা সহজেই পূরন করেন। ১৮৮৬ সালে ১লা জানুয়ারি কল্পতরু রূপেই ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ। সেদিন জাগতিক আর অতি জাগতিক খেত্রকে একীভূত করে অভিনব ভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন। তীব্র রোগ যন্ত্রণার মধ্যেও ভক্তদের শুনিয়েছিলেন " তোমাদের চৈতন্য হউক "। সেদিন যে যা কামনা করেছিলেন তাই তিনি দান করেছিলেন অকাতরে। এই স্বার্থ গন্ধহীন আশীর্বাদে সকলের মনের আনন্দ উথলিয়ে উঠেছিল। আর সেই থেকে বছরের প্রথম দিনটি কল্পতরু উৎসব নামে পরিচিত। এই উৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর উদ্যান বাটীতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।
এই উদ্যানবাটিতেই নরেন্দ্রনাথ তাঁর কয়েকজন গুরুভাইকে সঙ্গে নিয়ে একদিন মধ্যরাতে ধুনি জ্বালিয়ে ছিলেন। তিনি তাকে ব্যাখ্যা করেছিলেন " সাধুরা এই সময়ে বৃক্ষ তলে ধুনি জ্বালাইয়া
থাকে, আর আমরাও ওইরুপ শুনি জ্বালাইয়া অন্তরের নিভৃত বাসনা সকল দগ্ধ করি ।"
মন্দির খোলা থাকার সময় ::
শীতকালে - সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১-৩০ মি
বিকেল ৩-৩০মি থেকে রাত ৮টা
গ্রীষ্মকালে - সকাল ৫-৩০মি থেকে ১১-৩০মি
বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
এখানে প্রতিদিন প্রসাদ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তবে উৎসবে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
রামকৃষ্ণ মঠের কাশীপুর শাখাটি কাশীপুর উদ্যান বাটী নামে পরিচিত। ১৯৪৬ সালে এটি রামকৃষ্ণ মঠের শাখাকেন্দে পরিনত হয়। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ১৮৮৫ সালের ১১ই ডিসেম্বর থেকে ১৮৮৬ সালের ১৬ই আগষ্ট, তাঁর প্রয়ান পর্যন্ত কাশীপুর উদ্যান বাটীতে বাস করেছিলেন।
কাশীপুর উদ্যান বাটী ছিল বিশিষ্ট জমিদার রানী কাত্যায়নীর জামাই গোপাললাল ঘোষের সম্পত্তি। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের ভক্তগন তাঁর কাছ থেকে মাসিক ৮০ টাকা ভাড়ায় প্রথমে ছয় মাস ও পরে আরও তিন মাসের জন্য বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। উদ্যান বাটীর মোট এলাকার আয়তন ছিল ১১ বিঘার কিছু বেশি।
উদ্যানবাটির দোতলায় ঠাকুর যে ঘরে বাস করতেন বর্তমানে সেই ঘরটি মন্দির রূপে বিবেচিত হয়। এরই পাশে আছে ঠাকুরের ভাড়ারঘর। ঠাকুর বসবাসকালীন যা তার স্নানঘর হিসেবে ব্যবহার হতো। একতলার হলঘরটিতেও সুন্দর করে ঠাকুরের ছবি বসান। আর এক তলাতেই আছে শ্রী শ্রী মা সারদার ঘর। দোতলায় উঠার সিঁড়িটিও আখুন্ন আছে। আছে স্বামীজির ঘর এবং সংরক্ষিত আছে ঐতিহাসিক খেজুর গাছটি। ( যে গাছের গোড়ায় বাস করত এক বিষধর সাপ। ঠাকুরের যুবক ভক্তদের খেজুর রসপানের ইচ্ছা জাগে। তখন জানতে পেরে ঠাকুর নিজে গিয়ে সাপটিকে তাড়িয়ে দিয়ে আসেন। যার প্রত্যখ্যদর্শী ছিলেন মা স্বয়ঙ। )
রামকৃষ্ণ সঙ্ঘে কাশীপুর উদ্যান বাটী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি মঠ। কারন, এই বাড়িতে শ্রী রামকৃষ্ণ তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যদের সন্ন্যাস গ্রহণ ও সংঘ বদ্ধ ভাবে জনসেবার কাজে উদ্বুদ্ধ করে ছিলেন। যা বাস্তবায়িত করতে পরবর্তী কালে স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই উদ্যান বাটী একটি তীর্থস্থানের মর্যাদা পায়।
ঠাকুর অসুস্থ থাকাকালীনই কাশীপুর উদ্যান বাটী এক মহা তীর্থখেত্র হয়ে উঠেছিল। এই স্থানের বিশেষ গুরুত্ব হল এখানেই শ্রীরামকৃষ্ন তাঁর ভক্তদের সন্ন্যাসের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। এমনকি এই ভক্তদের তিনি মাঝেমধ্যে কাছাকাছি গ্রামে ভিখ্যে করতে পাঠাতেন। তিনি নিজেও ওই ভিখান্ন থেকে কখনও কখনও দুই এক কনা গ্রহন করতেন। এবং এখানেই তিনি তাঁর চিহ্নিত সন্তানদের গেরুয়া বসন ও রুদ্রাখ্য মালা প্রদান করেন। বাস্তবিক অর্থে এই স্থানেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সংঘ গড়ার সূচনাখেত্র বলা যেতে পারে।
আর এই মঠের বাগানে একটি আমগাছের তলায় দাঁড়িয়ে শ্রী রামকৃষ্ণ কল্পতরু হয়েছিলেন।
কল্পতরু হল স্বর্গের বৃক্ষ। ওই বৃক্ষের কাছে যে যা চাইবে তাই পাবে। চতুর্থবর্গ ফল অর্থাৎ ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোখ্য --- যে যা চাইবে তাই প্রাপ্ত হবে। তাই তাকে কল্পতরু আখ্যা দেওয়া হয়েছে। শ্রী রামকৃষ্ণ ওই দিন ভগবান ভাবেই ভক্তের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বলে মনে করেছিলেন উপস্থিতজনরা।
কল্পতরু কথার অর্থ হলো ইন্দ্রলোকের সর্বকামনা পূরনকারী দেবতরু। অর্থাৎ অত্যন্ত উদার ও বদান্য ব্যক্তি, যিনি অন্যের ইচ্ছা সহজেই পূরন করেন। ১৮৮৬ সালে ১লা জানুয়ারি কল্পতরু রূপেই ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ। সেদিন জাগতিক আর অতি জাগতিক খেত্রকে একীভূত করে অভিনব ভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন। তীব্র রোগ যন্ত্রণার মধ্যেও ভক্তদের শুনিয়েছিলেন " তোমাদের চৈতন্য হউক "। সেদিন যে যা কামনা করেছিলেন তাই তিনি দান করেছিলেন অকাতরে। এই স্বার্থ গন্ধহীন আশীর্বাদে সকলের মনের আনন্দ উথলিয়ে উঠেছিল। আর সেই থেকে বছরের প্রথম দিনটি কল্পতরু উৎসব নামে পরিচিত। এই উৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর উদ্যান বাটীতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।
এই উদ্যানবাটিতেই নরেন্দ্রনাথ তাঁর কয়েকজন গুরুভাইকে সঙ্গে নিয়ে একদিন মধ্যরাতে ধুনি জ্বালিয়ে ছিলেন। তিনি তাকে ব্যাখ্যা করেছিলেন " সাধুরা এই সময়ে বৃক্ষ তলে ধুনি জ্বালাইয়া
থাকে, আর আমরাও ওইরুপ শুনি জ্বালাইয়া অন্তরের নিভৃত বাসনা সকল দগ্ধ করি ।"
মন্দির খোলা থাকার সময় ::
শীতকালে - সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১-৩০ মি
বিকেল ৩-৩০মি থেকে রাত ৮টা
গ্রীষ্মকালে - সকাল ৫-৩০মি থেকে ১১-৩০মি
বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
এখানে প্রতিদিন প্রসাদ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তবে উৎসবে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।







No comments:
Post a Comment