ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের আদি নিবাস ও জন্মভিটে :$:
দেড়েপুর যা লোকমুখে দেড়ে গ্রাম বলেই পরিচিত। কামারপুকুর গ্রামের থেকে দেড় ক্রোশ পশ্চিমে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আদিপুরুষ মানিকরাম চট্টোপাধ্যায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। এই গ্রামেই ছিল শ্রীরামকৃষ্ণের আদি নিবাস। যদিও বৌদ্ধ প্রভাবসম্পন্ন ধর্মীয় বাতাবরন এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ছিল, তবু চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আরাধ্য দেবতা ছিলেন রঘুবীর অর্থাৎ যুবক রাম। এই চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আধ্যাত্মনিষ্ঠা ও শাস্ত্রঞ্জান সকলের কাছে তাঁদের সন্মানীয় করে তুলেছিল। এর মধ্যে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের সত্যনিষ্ঠা ও চরিত্রবল বিশেষভাবে গ্রামবাসীদের টানতো।দেড়ে গ্রামটিও তিনটি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ছিল... এগুলি হল নারায়ণপুর, সাতবেড়ে আর দেড়ে। সাতবেড়ের জমিদার রামচন্দ্র রায় প্রজাপীড়ক ছিলেন। তিনি ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়কে প্রজার জমি অন্যায়ভাবে গ্রহনের জন্য মিথ্যাসাক্ষী দেওয়াতে চাইলেন। কিন্ত সত্য যার জীবনে ধ্রুবতারা, তিনি কিভাবে এই সাক্ষী দিতে পারেন। সভাবত: এই মিথ্যাসাক্ষী দিতে অস্বীকার করার ফলে ওই জমিদার চক্রান্ত করে তাঁকে অন্য একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নি:স্ব করে দেড়েপুর গ্রামের ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করেন। ক্ষুদিরামের বন্ধু সুখলাল গোস্বামী ছিলেন তখন কামারপুকুরের জমিদার। সুখলালের আমন্ত্রণে বাস্তুহারা নিরুপায় ক্ষুদিরাম সপরিবারে কামারপুকুরে এলেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেন। সপরিবার তার নিজের বাড়ির উত্তরে ক্ষুদিরামকে বসবাস করার জন্য জমি দান করেন এবং লক্ষ্মীজলা নামক স্থানে কিছু ধোনি জমিও দিয়েছিলেন। কামারপুকুরের এই বাসভূমিতেই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব জন্ম গ্রহণ করেন। সেই পূন্যভূমি আজ "শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ" নামে সারা বিশ্বে পরিচিত।
গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণের গৃহে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ। গ্রামের নাম কামারপুকুর। সেকালে কামারপুকুর বর্ধমান মহারা দিনজের গুরুবংশীয়দের লাখোরাজ জমিদারিভুক্ত ছিল। এঁরা ছিলেন গোস্বামী বংশ। শ্রীরামকৃষ্ণের সমকালে কামারপুকুরে সুখলাল গোস্বামী জমিদার রুপে মান্যতা পেতেন। এই গোস্বামীদের কাছ থেকে লাহাবাবুরা গ্রামের অধিকাংশ জমি কিনে নিয়ে জমিদারি পত্তন করেন। কামারপুকুর অঞ্চলের অধিবাসীরা অন্য গ্রামাঞ্চলের মতোই কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিল। আর ছিল চারদিকে বড় বড় দীঘি। সুখসায়র, হাতিসায়র প্রভৃতি এদের নাম ছিল। এর সঙ্গে ছিল হালদার পুকুর, কিছু দূরে বুধুই মোড়ল, ভূতের খাল শ্মশান। তারই পাশে ছিল মাণিকরাজার আম্রকানন। এই বুধুই মোড়ল শ্মশানের নির্জনতায় মগ্ন হতেন শ্রীরামকৃষ্ণ। মানিকরাজার আম্রকানন ছিল তাঁর ও সখাদের খেলার জায়গা। সেখানে তিনি যাত্রাপালার রির্হাসাল দিতেন। তিনি ঠিকই করেছিলেন একটা যাত্রাদল তৈরি করবেন।
সেই বিপদের দিনে সুখলাল গোস্বামী নিজ বস্তুর একাংশের কয়েকটি চালাঘর চিরকালের জন্য ক্ষুদিরামকে দান করেছিলেন। সেখানেই নতুন সংসার শুরু করলেন ক্ষুদিরাম। ঢুকেই বৈঠকখানা ঘর, তারই একপাশে ঢেঁকিশাল, সেখানে সন্তানসম্ভবা মেয়েদের প্রসবস্থল। এই ঢেঁকিশালেই জন্ম গ্রহন করেছিলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়।
বৈঠকখানার পাশে একটা ঘর। তার পাশে আরেকটি। বড় ঘরটি শোবার ঘর। তারই সামনে গৃহদেবতা রঘুবীরের
মন্দির। এক রঘুবীরকে ছেড়ে এসে অলৌকিক সপ্নাদেশে ধানক্ষেতের মধ্যে আর এক রঘুবীরকে লাভ করেছিলেন ক্ষুদিরাম। এছাড়াও মা শীতলার প্রতিষ্ঠিত ঘট নিত্য পূজো হত। বাড়ির সামনেই ছিল এক ছোট উঠান। সেই উঠানে ক্ষুদিরাম পত্নী চন্দ্রমণি দেবী স্বয়ং লালমুখো হাঁসে চড়া ঠাকুর ব্রহ্মাকে দেখেছিলেন। তপ্ত রোদে দেবতার মুখমন্ডল রক্তবর্ন হয়েছে ভেবে অতি সরল নারী আপ্যায়ন করেছিলেন " ও হাঁসে চড়া ঠাকুর, ঘরে দু খানি পান্তাভাত রয়েছে, খেয়ে যাও।" গৃহের পিছনেই ছিল যুগীদের শিবমন্দির। শোনা যায় এক কোজাগরী
লক্ষ্মীপূজোর দিন স্বয়ং দেবী লক্ষ্মী এই পথ দিয়েই লাহাবাবুদের ধানের গোলা দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে চন্দ্রমণিকে জানিয়েছিলেন পাশের গ্রামে লক্ষ্মীপূজো সম্পন্ন করে বড়ছেলে রামকুমার চট্টোপাধ্যায় গৃহমুখী হয়েছেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘরে ফিরে আসবেন।এই কন্যাকে একাকী দেখে অবাক হয়েছিলেন চন্দ্রা। কানে ও কি গহনা, বড় অদ্ভুত তো? মেয়েটি উত্তর দিয়েছিলেন " এ হল কুন্ডল"। সেই রাতটা আতিথ্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন চন্দ্রা। মেয়েটি হেসে বলেছিলেন " এখন বড় তাড়া" । আর সঙ্গে সঙ্গেই লাহাবাবুদের ধানের গোলা দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
এই গৃহের উত্তর পূর্ব কোনে মধুযুগীদের শিবমন্দির। মধুযুগী ক্ষুদিরামের প্রতিবেশী তথা বন্ধুসম। মধুযুগীর পিতা রামানন্দ যুগী তীর্থ ভ্রমন করে এসে এই শান্তিনাথ শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এই মন্দিরটিই যুগীদের শিবমন্দির নামে খ্যাত। চন্দ্রমণি দেবী একদিন এই শিবমন্দিরের সামনে দাড়িয়ে ধাত্রীমাতা ধনিকামরানীর সাথে কথা বলছিলেন। হঠাৎই তখন তাঁর এক অলৌকিক জ্যোতি দর্শন ঘটে। ভয়ে বিস্ময়ে তিনি অঞ্জান হয়ে পড়েন। এবং পড়ে অনুভব করলেন যে তার গর্ভসঞ্চার হয়েছে। তারপরই পরম পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্ম হয়।
কামারপুকুরের এই গৃহ এক ইতিহাস , ঊনবিংশ শতাব্দীতে গড়ে ওঠা এক নতুন তীর্থ।
( আশ্রমে দু এক রাত কাটাতে হলে আগে থেকে ফোনে বুক করুন এই নাম্বারে ....
Khudiram Ramkrishna Sevasram, Dwariapur ( Deregram), Hooghly.
Incharge's Name: Mahadev Roy.
Contact number: 9933069036
Distance from::
Kamarpukur -- 4 km
Joyrambati -- 6 km.)
কামারপুকুরের শ্রীরামকৃষ্ণদেবের নিবাস ও শিবমন্দিরের কিছু পুরানো ফটো :::






Comment from Sri Ranen Chakraborty ~~~~
ReplyDeleteOnek na jana tothyo pelum, khub bhalo laglo
Comment from Mr Jay Chankar Boro, Gauhati ^^^
ReplyDeleteFeeling very religious .🙏🙏
Comment as per Mrs Shobha Biswas _________
ReplyDeleteSagor lekha gulo pore khoob bhalo laaglo .🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾
Mrs Sandhya Bose 's comment _______
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো পড়ে।